সচেতনতা

শীতকালে খুশকি বেশি বাড়ে যেসব কারণে

খুশকি সাধারণত মাথার খুলির ত্বকে দেখা দিয়ে থাকে। এটি আমাদের মধ্যে অতি পরিচিত একটি চর্মরোগ। নারী বা পুরুষ- উভয়ই এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এখন শীতকাল। এমনিতেই এই মৌসুমে মাথার খুলির ত্বকে খুশকি বেশি দেখা দিয়ে থাকে। কারণ শুষ্ক আবহাওয়ায় প্রচুর ধুলোবালির ওড়াউড়ি আর ঘর থেকে বের হলে ধুলোর আস্তরণ জমে যায় মাথায়। যদি মাথা ঠিকমতো পরিস্কার করা না হয়, তা হলে মাথার ত্বকে খুশকি জমতে থাকে। আবার এ রোগটি বয়ঃসন্ধিকাল বা প্রাপ্তবয়স্কদের বেশি হয়ে থাকে। এ সমস্যার কারণে মাথার চামড়া চুলকায়। চিরুনি দিয়ে চুলকালে সাময়িক ভালো লাগে। চিরুনির সঙ্গে খুশকিগুলোও বেরিয়ে আসতে থাকে। মাথায় যদি যৎসামান্য খুশকি হয়, তবে তা একদম সাধারণ ব্যাপার বলে ধরে নিতে হবে। কিন্তু খুশকি বেশি হলে তার গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় রোগটির নাম সেবোরিক ডার্মাটাইটিস। এক্ষেত্রে খুশকির সঙ্গে মাথা থেকে মরা চামড়া উঠে মাথায় প্রদাহ সৃষ্টি করে থাকে। খুশকি সবসময় নির্মূল করা যায় না। কিছু খুশকি নিবারক শ্যাম্পু দিয়ে এটি দমিয়ে রাখা সম্ভব। দমিয়ে না রাখার চেষ্টা না করেলে একসময় মাথার চুল পড়ে যেতে পারে।

অনেকে মনে করেন, খুশকি হলে মাথায় বেশি বেশি তেল মালিক করলে তা দূর হয়ে যাবে। এমন ধারণা পোষণ করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। তেল দেওয়ার ফলে বরং মাথায় ছত্রাক আক্রমণ করে বসে। আর এর ফলে ক্রমান্বয়ে খুশকি বাড়তেই থাকে। অনেকে খুশকি দমাতে খৈল ব্যবহার করেন। খৈল হচ্ছে সরিষা থেকে তেল বানানোর জন্য এক ধরনের বর্জ্য পদার্থ। খৈল ব্যবহারে খুশকি মাথার ত্বকে লেগে থাকে। তাই খুশকি দূর হয়েছে বলে মনে হয়। যাদের খুশকি হয়, তারা মাথা ভেজা রাখবেন না, ভেজা অবস্থায় চুল বেঁধেও রাখবেন না। চুলের নিচে পানি আটকা পড়ে ত্বক ভেজা থাকে, যা খুশকি বাড়াতে সাহায্য করে। যাদের খুশকি আছে, তাদের চিরুনি অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না। কারণ খুশকিজনিত ছত্রাক একজনের মাথা থেকে অন্যের মাথায় চলে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, দেহের তেল গ্রন্থিযুক্ত স্থান, যেমন- মাথার ত্বক, বুকের মাঝে, কানের পেছনে ও ভেতরে এই সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের আক্রমণ হতে পারে। এমনকি ভুরু, নাক, ঠোঁটেও এই রোগের প্রকাশ ঘটতে পারে। চোখের পাতায় খুশকি হলে তাকে ব্লেফাবাইটিস বলে। এতে চোখের পাতা লালচে হয় এবং সাদা আঁশের মতো মরা চামড়া ওঠে।

অনেক সময় এই সমস্যার সঙ্গে বাইরের জীবাণু আক্রমণ করে অ্যাকজিমার মতো সৃষ্টি করে। এই অঙ্গে আরেকটি সমস্যা প্রায়ই হতে দেখা যায় আর তা হচ্ছে সোরিয়াসিস। এ সমস্যায় মনে হয়, মাথায় বেশি পরিমাণ খুশকি হয়েছে। সোরিয়াসিসের আঁইশগুলো শুকনো ও সিলভারি রঙের এবং চুলের সীমানা রেখা বরাবর এ রোগের একটি স্পষ্ট দাগ লক্ষ করা যায়।

খুশকি ও সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের চিকিৎসা প্রায় একই রকম। খুশকি নিবারক শ্যাম্পু, যেমন- জিঙ্ক পাইরিথিওন, সেলেনিয়াম সালফাইড ও কেটোকোনাজল শ্যাম্পু ব্যবহারে খুশকি দমন করা সম্ভব। তবে যদি বেশি পরিমাণে প্রদাহের লক্ষণ থাকে, তবে এর পাশাপাশি কম শক্তিশালী কর্টিসোন লোশন বা জেল ব্যবহার করলে খুশকি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আইএ

Back to top button