দক্ষিণ এশিয়া

ভারতে মুসলিম শিক্ষার্থীকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে বরখাস্ত অধ্যাপক

নয়াদিল্লী, ২৯ নভেম্বর – ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে ‘সন্ত্রাসী’ বলায় প্রতিবাদ করেছেন এক মুসলিম শিক্ষার্থী। এতে অধ্যাপককে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি।

গত শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) ওই রাজ্যের মানিপাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

খবরে বলা হয়েছে, ওইদিন ক্লাস চলাকালীন সময়ে শ্রেণিকক্ষে অধ্যাপক শুরুতে ওই শিক্ষার্থীর নাম জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীর মুসলিম নাম শোনার পর ওই অধ্যাপক তাকে তিরস্কারের সুরে বলেন, ‘ওহ, তুমি কাসাবের মতো!’

এর মাধ্যমে অধ্যাপক মূলত ওই শিক্ষার্থীকে মুম্বাইয়ে ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলায় ধরা পড়া একমাত্র পাকিস্তানি সন্ত্রাসী আজমল কাসাবের সঙ্গে তুলনা করেন। কাসাবকে ২০১২ সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

অধ্যাপকের এমন কথায় ওই শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করেন। বলেন, ‘আপনি এ ধরনের কথা কীভাবে বলতে পারেন?’ জবাবে অধ্যাপক বলেন, তিনি ‘কৌতুক করে’ এ কথা বলেছেন।

এ কথার পর ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘২৬/১১ কোনো কৌতুক ছিল না। এ দেশে মুসলিম হিসেবে প্রতিদিন এসবের মুখোমুখি হওয়া কৌতুকের বিষয় নয়। আপনি আমার ধর্ম নিয়ে কৌতুক করতে পারেন না, বিশেষ করে এভাবে অবমাননাকর হিসেবে। এটা মোটেও কৌতুক নয়, স্যার।’

এরপর ওই অধ্যাপক তার কথার জন্য ক্ষমা চাইতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘তুমি আমার ছেলের মতো।’ তখন ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আপনি কি আপনার ছেলের সঙ্গে এভাবে কথা বলেন? তাকে কি আপনি সন্ত্রাসী বলে ডাকেন?’ অধ্যাপক তখন বলেন, ‘না’।

তখন ওই শিক্ষার্থী বলতে থাকেন, ‘তাহলে কীভাবে আপনি এত শিক্ষার্থীর সামনে আমাকে এভাবে বলতে পারেন। আপনি একজন পেশাদার
ব্যক্তি। আপনি পড়াচ্ছেন। একটা ‘সরি’ আপনি কীভাবে চিন্তা করেন বা নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করেন তা কখনই পরিবর্তন করে না।

এরপর ওই অধ্যাপক আবারও ক্ষমা চান। এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা এ কথোপকথন নীরবে প্রত্যক্ষ করেছেন। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অধ্যাপককে বরখাস্ত করা হয়। এ ছাড়া পুরো ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই শিক্ষার্থীকে কাউন্সেলিং করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপ থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও প্রচার করা হয়। ওই ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থী নতুন করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হ্যালো, আপনারা সবাই নিশ্চয়ই একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখেছেন। যেখানে এক শিক্ষার্থী তার শিক্ষককে বলছেন, বর্ণবাদী মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি বলতে থাকেন, ‘এর কারণ, ওই শিক্ষার্থীকে তিনি ভারতের এক বড় সন্ত্রাসী কাসাবের নামে ডেকেছেন যা অগ্রহণযোগ্য। যাহোক, পরে ওই স্যারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি বুঝতে পারলাম, এজন্য তিনি সত্যিই ভুল স্বীকার করেছেন। শিক্ষার্থী হিসেবে বিষয়টিকে আমরা একটা অনাকাঙিক্ষত ভুল হিসেবে দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, বিষয়টি নিয়ে ওই স্যারের মধ্যে কি হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, তিনি কথাটা প্রকৃত অর্থে বলেননি। একজন শিক্ষকের কাছে এমন ভুল হয়েছে যাকে আমরা ব্যক্তি হিসেবে প্রশংসা করি। বিষয়টি এখন অগ্রাহ্য করা যেতে পারে। পাশে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’

সূত্র: সময় টিভি
আইএ/ ২৯ নভেম্বর ২০২২

Back to top button