ফুটবল

ফটো সেশনের সময় মুখে হাত দিয়ে রেখেছিলেন কেন জার্মান ফুটবলাররা

দোহা, ২৪ নভেম্বর – সমকামীদের সমর্থন জানিয়ে ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড পরতে না দেয়ার ফিফার সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে জার্মানি। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে দলীয় ছবি তুলতে গিয়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ছবি তুলেছে জার্মান ফুটবলাররা। মুখে না বললেও, সবাই ধরে নিচ্ছে, এটা হলো ফিফার সিদ্ধান্তের প্রতিকী এবং জোরালো প্রতিবাদ।

জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগেই ফিফাকে প্রতারক, বিশ্বাসঘাতক উল্লেখ করে আদালতে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় জার্মানি। সেই প্রতিবাদ যে ওখানেই থেমে যায়নি, এটা বোঝাতেই মাঠের মধ্যে মুখে হাত চাপা দিয়ে দাঁড়ান ফুটবলাররা।

শুধু তাই নয়, জার্মানির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী ন্যান্সি ফাসের হাতে ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড দেখা যায়। তিনি ভিআইপি বক্সে বসে খেলা দেখছিলেন। তার ঠিক পাশেই বসেছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো।

সমকামীদের অধিকার নিয়ে সব সময় সোচ্চার জার্মান ফুটবল দল। দেশটির অধিনায়ক ম্যানুয়েল ন্যুয়ার তো সব সময়ই হাতে রংধনু রঙের আর্মব্যান্ড পরে সমকামীদের পক্ষে অবস্থান নেন। কাতার বিশ্বকাপে এ ইস্যুটা বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ হিসেবে কাতার কখনোই সমকামীদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেবে না- এটাই স্বাভাবিক। এ কারণেই ফিফা আয়োজক দেশ কাতারের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবারের বিশ্বকাপে সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এসব আযোজনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

কিন্তু জার্মানি, ইংল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের ফুটবলাররা এই নিষেধাজ্ঞা মানতে নারাজ। ফিফা বলেছে কেউ লাভ আর্মব্যান্ড পরে মাঠে আসলে নামার আগেই হলুদ কার্ড দেখবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এই তিন দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে ফুটবলাররা ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেননি। কিন্তু জার্মানরা সেই নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া মুখ ঢেকে ছবি তুললেন।

দোহায় বিমান থেকে নামার পর জার্মানির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী ন্যান্সি ফাসের বলেন, ‘যেভাবে ফুটবল সংস্থাগুলিকে চাপে ফেলা হচ্ছে তা একেবারেই উচিত নয়। অত্যচার এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে ফিফা আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না, এটা ভাবাই যায় না। আধুনিক সময়ে এই কাজ একেবারেই ঠিক নয়।’

জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তার আগে বিবৃতি দিয়ে জানায়, দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন যে মূল্যবোধে বিশ্বাস করে তার প্রতীক হিসাবেই আর্মব্যান্ড পরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নিজেদের কথা বলার অধিকার চাওয়া হয়েছিল। কোনও রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, কাতার প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আইনের প্রতিবাদে ইউরোপের সাতটি দেশের অধিনায়কেরা ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফিফা কড়া নির্দেশ জারি করে এবং উয়েফার উপর চাপ তৈরি করায় সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছে দেশগুলি।

সেই সাত দেশের অন্যতম জার্মানি ফিফার এই আচরণ মেনে নিতে পারছিল না। তাই জাপানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগেই ফিফার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় জার্মানির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ক্ষোভপ্রকাশ করে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের একটা চরম পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হয়েছিল। এক রকম ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। ওরাই আমাদের এই পথে যেতে বাধ্য করেছে।’

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও জানিয়েছে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। শাস্তি এড়াতে জার্মানির অধিনায়ক ম্যানুয়াল ন্যুয়ার বুধবার জাপান ম্যাচে ‘ওয়ান লাভ’ বাহুবন্ধনী না পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। যদিও জার্মানির ফুটবল সংস্থা এত সহজে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে না। ক্রীড়া আদালত থেকে ফিফার নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ আনতে চায় তারা।

রোববার স্পেনের বিরুদ্ধে ন্যুয়ার যাতে ‘ওয়ান লাভ’ বাহুবন্ধনী পরেই মাঠে নামতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে চাইছে জার্মানির ফুটবল নিয়ামক সংস্থা। বুধবারই ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লুসানের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের আবেদন জানিয়েছে জার্মানি। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুনানির আবেদন করা হয়েছে।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ২৪ নভেম্বর ২০২২

Back to top button