ইউরোপদক্ষিণ এশিয়া

ভারতকে প্রচুর পরিমাণে পরমাণু জ্বালানি-অস্ত্রশস্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন পুতিন

রাশিদুল ইসলাম

মস্কো, ২৩ নভেম্বর – সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৯ সালের গোড়ায় রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কেনা নিয়ে নয়াদিল্লির তৎপরতা দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, মস্কোর সঙ্গে এস-৪০০ কেনার চুক্তি বাতিল করলে ভারতকে ‘টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ (থাড) ক্ষেপণান্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু পত্রপাঠ সেই প্রস্তাব খারিজ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরমাণু জ্বালানি হোক বা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, রাশিয়ার ওপর ভারতের নির্ভরতা বহুদিনেরই। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহেও রাশিয়ার থেকে অশোধিত তেল কিনেছে ভারত। দুই দেশের প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আরও মজবুত করতে তাই এবার প্রস্তাব এল মস্কো থেকে। দি ওয়াল

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, ভারতকে পরমাণু জ্বালানি ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দেবে রাশিয়া। বর্তমানে তামিলনাড়ুর কুড়নকুলমে রাশিয়ার সাহায্যে তৈরি দু’টি পরমাণু চুল্লি চালু রয়েছে। আরও ৪টি পরমাণু বিদ্যুৎ চুল্লিও তৈরি হচ্ছে। সেগুলিতে উৎপাদন চালু রাখার জন্য জ্বালানি সরবরাহ ও আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে মস্কোর কাছ থেকে জ্বালানি এবং অস্ত্র কেনা নিয়ে সারা বিশ্বেই নানা বিতর্ক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমী বিশ্ব রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করলেও ভারত ‘ভারসাম্যে’র কূটনীতিকে অবলম্বন করে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগেই বলেছিলেন, অস্ত্র এবং জ্বালানির প্রশ্নে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতার একাধিক কারণ আছে। অস্ত্রের গুণমানের কারণেই শুধু নয়, বহু দশক ধরে পশ্চিমী বিশ্ব ভারতকে কোনও অস্ত্র রফতানি করত না। তাই দেশের ভবিষ্যৎ স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয় ভারত।

সূত্র: আমাদের সময়
এম ইউ/২৩ নভেম্বর ২০২২

Back to top button