জাতীয়

কেয়ারটেকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে সরকারের শুভবুদ্ধি হবে, আশা ফখরুলের

ঢাকা, ২২ নভেম্বর – অন্তবর্তীকালীন কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আমরা এখনো মনে করি এসব সন্ত্রাস, অত্যাচার-নির্যাতন বাদ দিয়ে তাদের (সরকারের) শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা দেশে সত্যিকার অর্থে একটা অন্তবর্তীকালীন কেয়ারটেকার সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। অন্যথায় কোনো মতেই সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা আমরা দেখি না।

বুধবার (২২ নভেম্বর) আহত সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সিরাজগঞ্জে শুরু থেকে অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মূল টার্গেট ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও তার স্ত্রী। যেহেতু ২০০৮ সাল টুকু নির্বাচন করতে পারেননি, নির্বাচন করেছেন তার স্ত্রী। সেজন্য নির্বাচনে জিতে এই যে প্রতিরোধ, প্রতিহিংসার ব্যাপার আছে, এটা তারা (আওয়ামী লীগ) কনটিনিউ করে গেছে।

আওয়ামী লীগ কোনো মতেই সন্ত্রাস ছাড়া টিকতে পারে না দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রতিপক্ষকে তারা সহ্য করতে পারে না এবং সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে তারা নির্মূল করতে চায়। ত্রাস না করলে তারা শাসন করতে পারে না- এটা হচ্ছে তাদের পুরোনো অভ্যাস। তারা সারাদেশে ত্রাস সৃষ্টি করেছে।

ঢাকায় পুলিশের কাছ থেকে দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে সরকারের শাসনের চিত্র উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, চারিদিকে তাকালে চোর, চুরি, গুন্ডামি, মারামারি। এতো কিছু করছেন, একজন দিনমজুরকে গুলি করা হচ্ছে, অথচ আপনাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) সামনে দিয়ে জঙ্গি উধাও হয়ে যাচ্ছে। বুঝতেই পারেন তাদের (সরকার) গভার্নেন্স (শাসন)। কোন জায়গায় তারা গভার্নেন্সকে নিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটা গভীর সংকটে পড়ে গেছে, একেবারে খাদে এসে গেছে। একদিকে অর্থনৈতিক সংকট, আরেক দিকে রাজনৈতিক সংকট। এখনই সমস্যার সমাধান না করলে এদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে-জাতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে বলে আমি মনে করি। এটা একটা ক্রিটিক্যাল মোমেন্ট। যদি নির্বাচন ঠিক মতো না হয়, নির্বাচনে যদি জনপ্রতিনিধি সঠিকভাবে নির্বাচিত না হয়, সে দেশ কীভাবে চলবে?

তিনি বলেন, আপনারা পাশের দেশগুলোর দিকে দেখেন। ভারতের কি কম সমস্যা আছে? ভারতে নির্বাচন হচ্ছে, সবাই সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। নেপালে একেবারে বিপরীতমুখী রাজনৈতিক দলগুলো, সোশ্যালিস্ট, রিভ্যুলেশনারি, লিবারেল ডেমোক্রেসি নির্বাচন করছে এবং সবাই নির্বাচনে যাচ্ছে। সেখানে নির্বাচনে যাওয়ার পরিবেশ আছে। পাকিস্তানের মতো দেশ- তারা পর্যন্ত নির্বাচনে যাচ্ছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের (রাজনৈতিক দল) বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে। দুর্ভাগ্যজনক আমরা সেটা করতে পারি নাই। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ এই সংকট সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ২২ নভেম্বর ২০২২

Back to top button