জাতীয়

অর্থপাচারের বিষয়ে অন্য দেশগুলো তথ্য দিতে চায় না

ঢাকা, ২১ নভেম্বর – দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অর্থ পাচার তদন্তে কেন ব্যর্থ তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈন আবদুল্লাহ।

তিনি বলেছেন, অর্থপাচারের বিষয়ে অন্য দেশগুলো তথ্য দিতে চায় না। যেসব দেশে অর্থ পাচার হয় সেসব দেশের সঙ্গে আমরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারি না। আইনি প্রক্রিয়ার কারণে অর্থপাচারের তথ্য পেতে দেরি হয়। যেসব উন্নত দেশ ট্রান্সপারেন্সির কথা বলে তারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করে না। আর আমরাও সরাসরি ওই দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনা। সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ঘুরে বিভিন্ন দেশের কাছে তথ্য চাইতে হয়। কিন্তু সেই তথ্যও তারা দিতে চায় না। এজন্য বিলম্ব হয়, তখন মনে হয় দুদক কিছু করছে না।

সোমবার বিকেলে দুদকের ১৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, দুদক কমিশনার জহুরুল হক, ড. মোজাম্মেল হক খান ও দুদক সচিব মাহবুব হোসেন।

দুদকের তফসিলভুক্ত ২৮টি অপরাধের মধ্যে একটি রেখে বাকিগুলো অন্য সংস্থায় ভাগ করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের হাতে রয়েছে মাত্র একটি অপরাধের অনুসন্ধান তদন্তের ভার। অর্থ পাচারের তথ্য পেতে হলে আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিতে হয়।

অর্থ পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুদকের কোনো দৃশ্যমান কাজ নেই কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মঈন আবদুল্লাহ বলেন, আমরা কোনো দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। আমাদের ‘ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন এগেইনেস্ট করাপশন’-এর নীতি অনুসরণ করে অর্থ পাচারের বিষয়ে কাজ করতে হয়। কেননা, আমরা কনভেনশনে সাক্ষর করেছি।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কানাডাসহ কয়েকটি দেশে পাচার করা বেশ কিছু অর্থ আমরা অবরুদ্ধ করেছি। ওই সম্পদ জব্দ হবে যখন মামলার বিচার শেষ হবে।

মতবিনিময় সভায় দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে দুদক কী করেছে সবাই জানতে চায়। আক্রমনের তীরটা আমাদের দিকে। কিন্তু আমরা তো সাত ভাগের একভাগ। আরো সাতটি প্রতিষ্ঠান তদন্তে রয়েছে। আমরা অভিযোগের জবাবও দিতে পারছি না।

ড. মোজাম্মেল বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের নামে আমরা যে বোঝা বহন করছি, অথচ এ বোঝা আমাদের না। এ জন্য আমরা আইনে সংশোধনীর জন্য লেখালেখি করেছি। সরকার যদি আমাদের বক্তব্যকে যথাযথ মনে করে তাহলে আইনে পরিবর্তন আসবে। আইনে পরিবর্তন হলে এর সমাধান হবে। না হলে সম্ভব না।

তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং তদন্তে আমাদের সাফল্য যেহেতু শতভাগ, ফলে তদন্তের এখতিয়ার দেয়া হলে তখন আর সমস্যা হবে না।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/২১ নভেম্বর ২০২২

Back to top button