জাতীয়

পদ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা

ঢাকা, ২১ নভেম্বর – ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার নামে বিভিন্ন সময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগের জবাবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আন নাহিয়ান খান জয় বলেছেন, ‘পদ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা কোনো ইউনিটে পদ বাণিজ্য কখনই করিনি। পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে নেতৃত্বে আসলে শাস্তি মাথা পেতে নেব।’

সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন ও প্রস্তুতি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ইউনিটে চার থেকে পাঁচটি গ্রুপ থাকে। দুই জন ছাড়া বাকিরা হতে না পারলে এ ধরনের কথা ছড়ায়। পদ বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই। জাহাঙ্গীর কবির নানক যে বাণিজ্যের অভিযোগ এনেছেন সেটিও মিথ্যা।’

দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক পাভেল হায়দার চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘তার সংবাদের তথ্য বানোয়াট। সেখানে আইন লঙ্ঘনের অপরাধ করেছে। তারা আইনি নোটিশের উত্তর না দেওয়ায় মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা প্রমাণ করতে পারেনি।

কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে সাধারণ সভা না করার অভিযোগ রয়েছে। এর জবাবে লেখক বলেন, ‘নির্বাহী সংসদের কেউ সাধারণ সম্পাদক বরাবর রিকুইজিশন চিঠি দিলে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে সাধারণ সভা করতে আমরা বাধ্য। সাধারণ সভা করতে কেউই কখনও আমাকে চিঠি দেয়নি।’

সম্মেলন না করে বিভিন্ন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি দেওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘করোনার কারণে আমরা কোনো সম্মেলন করতে পারিনি। আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, তখন ১১৮টি ইউনিট মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। এগুলোর মধ্যে আরও কয়েকটি ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাংগঠনিক কাজ ছিল না। সেখানে প্রস্তুতি কমিটি সম্মেলন করার সুযোগ ছিল না। আমরা শুধুমাত্র চার নেতা নয়, আমাদের অভিভাবক শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে কমিটি নির্ধারণ করেছি। কর্মী সভা ডেকে আমরা দিক-নির্দেশনা জানিয়েছি।’

সম্প্রতি চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া নিয়ে এক নেতার থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক আতিকুল ইসলামের টাকা নেওয়ার দুইটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে লেখক বলেন, ‘দুইটি অডিও আমরা শুনেছি। সেখানে ছাত্রলীগের কমিটির জন্য টাকা চেয়েছে এমন কোনো কথা আসেনি। তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা ব্যবসায়িক লেনদেন থাকতে পারে। অডিওটা ফেসবুকে ছেড়ে ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। আরেকটি অডিওতে টাকা পয়সার কথা হয়নি।’

এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন আগামী ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ও ৯ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে আগামী ৩ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় ছাত্রলীগের ঢাবি শাখা ও ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা ছাত্রলীগের যৌথ সম্মেলন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন-কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাদ্দাম হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদসহ সংগঠনের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/২১ নভেম্বর ২০২২

Back to top button