আইন-আদালত

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ নিয়ে রিটের আদেশ জানা যেতে পারে আজ

ঢাকা, ২১ নভেম্বর – পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কোন কর্তৃত্ববলে পদে আছেন তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া রিটের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে আজ।

সোমবার (২১ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আদেশ হওয়ার জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিটের ওপর রোববার (২০ নভেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষ হয়েছে। এরপর এই বিষয়ে আদেশের জন্য আজকে দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট।

আদালতে এদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ ও অ্যাডভোকেট এরশাদ হোসেন রাশেদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এ এম) আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন ও সামসুন নাহার লাইজু।

এর আগে ১৪ নভেম্বর এ বিষয়ে আরও শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ঠিক করেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। ওইদিনই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কোন কর্তৃত্ববলে পদে আছেন তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়। পরে রোববার আরও শুনানি করেন আইনজীবীরা।

শুনানিতে রিটকারী আইনজীবী বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য দিয়ে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। ক্ষমতায় যেতে অন্য একটি রাষ্ট্রের উপর নির্ভর করছেন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন বলেন, বিএনপি তাদের রাজনৈতিক অফিসে (কার্যালয়ে) বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের দাওয়াত করেন। আর তারাই বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলছেন বিদেশি কূটনীতিকদের কেউ চাচ্ছে না সরকার ক্ষমতায় থাকুক। সুতরাং তারাই (বিএনপি) বিদেশ নির্ভর রাজনীতি করে। এরপর আদালত রিটে আদেশ দেওয়ার জন্য দিন ঠিক করেছেন।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী মো. এরশাদ হোসেন রাশেদ। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিবাদী করা হয়।

একই অভিযোগে গত ২১ আগস্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলেন ওই আইনজীবী। নোটিশের পরও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রিট আবেদন করেন তিনি।

নোটিশে আইনজীবী রাশেদ বলেন, ১৯ আগস্ট বিকেলে গণমাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারতবিষয়ক বক্তব্যের তথ্য পান।

১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার সেটি করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছি। আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।’

নোটিশে আরও বলা হয়, এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) তার শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তার এ বক্তব্য সার্বভৌমত্বকে আঘাত করেছে। তাই নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনজীবী এরশাদ হোসেন রাশেদ বলেন, এই নোটিশের পরও পদত্যাগে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় হাইকোর্টে রিট করেছি।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ২১ নভেম্বর ২০২২

Back to top button