জাতীয়

দুর্ধর্ষ দুই জঙ্গি কারা

ঢাকা, ২১ নভেম্বর – পুরান ঢাকার আদালত আঙিনা থেকে গতকাল রোববার ফিল্মি কায়দায় ফের জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজিএম) আদালত ফটক থেকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া দুই জঙ্গি আবু সিদ্দিক সোহেল ও মইনুল হাসান শামীমকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। দু’জনই নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রপন্থি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (সাবেক এবিটি- আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সদস্য। ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গি ও তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, সোহেলের আছে আরও তিনটি সাংগঠনিক নাম। শাকিব, সাজিদ ও শাহাব। গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারীর কুমড়ীর হাটের ভেটেশ্বর এলাকায়। অস্থায়ী ঠিকানা- তুরাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাউনিয়ার ধোলাবালি রোডের ১৬ নম্বর বাড়ি। সোহেলের বাবা আবু তাহের ও মা সালেহা বেগম। আরেক জঙ্গি শামীমেরও তিনটি সাংগঠনিক নাম। সিফাত, সামির ও ইমরান। গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকের মাধবপুরে। বাবা আব্দুল কুদ্দুস। ২০১৬ সালে ছয় জঙ্গিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই তালিকায় শামীমের নামও ছিল।

সিটিটিসির আরেক কর্মকর্তা জানান, লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় এবং ফয়সল আরেফিন দীপন, নীলাদ্রী নিলয় হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিল সোহেল। এ ছাড়া তার নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে। অভিজিৎ ও দীপন হত্যা মামলায় সোহেল ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি। এদিকে শামীমের নামেও রয়েছে একাধিক মামলা।

জঙ্গিদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখেন এমন এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। আর ২০১৭ সালে শামীমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

দুর্ধর্ষ জঙ্গি সোহেলের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লালমনিরহাটের কুমড়ীর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং আদিতমারী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে সোহেল। এর পর ২০০৮ সালে ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজে ডিগ্রিতে ভর্তি হয়। সোহেল বিবাহিত। ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন চাকরি করে সে। লালমনিরহাটের আদিতমারীর কমলাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতি বলেন, সোহেলের কথা অনেক শুনেছি। ২০১৮ সালে গ্রেপ্তারের আগে তাকে এলাকায় মাঝে-মাঝে দেখা যেত।

শামীম ও সোহেলকে গ্রেপ্তার অভিযানে সরাসরি যুক্ত এমন দুই কর্মকর্তা বলেন, যত ধরনের অপরাধী রয়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হলো জঙ্গিদের গ্রেপ্তার। কারণ তারা নিজেদের লুকিয়ে রাখার কৌশল ভালোভাবে রপ্ত করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালাতে হয়। দুর্ধর্ষ কোনো কোনো জঙ্গিকে ধরতে বছরের পর বছরও লেগে যায়। এত কষ্টসাধ্য অভিযানে গ্রেপ্তারের পর কোনো জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।

ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কাজ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় কারা ছিনতাই করতে এসেছিল, তাদের সম্পর্কে ভালো তথ্য পেয়েছি। তাদের নাম পাওয়া গেছে। অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করছি, সবাইকে গ্রেপ্তার করা যাবে।’

এর আগে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যরা প্রিজনভ্যানে হামলা ও পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে ছিনিয়ে নেয় তিন জঙ্গিকে। এর পর গাজীপুরে ২০১৭ সালে আবার প্রিজনভ্যানে হামলা করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজিবি) শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানকে।

সূত্র: সমকাল
আইএ/ ২১ নভেম্বর ২০২২

Back to top button