ফুটবল

বিশ্বকাপ দিয়ে শূন্য থেকে শিখরে কাতার

দোহা, ২০ নভেম্বর – পারস্য উপসাগরের কোলে কুচকে একটি এলাকা। ১৯৯০ সালে প্রকৃতিক গ্যাস সন্ধানের আগ পর্যন্ত ধুলো অধ্যুষিত মুক্তার বন্দর আর জেলেদের দেশ হিসেবেই যার পরিচয়। এরপর রকেটের গতিতে দেশটি রূপান্তরিত হয়েছে আধুনিক দেশে। এমন অভাবনীয় সাফল্য লাভকারী দেশটির নাম কাতার।

আরবের বুকে ফুটবলের জোয়ার নিয়ে এসেছে রাতারাতি ধনী দেশে পরিণত হয়ে যাওয়া কাতার। পেট্রোডলার খরচ করে প্রথমবারের মতো আরব দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের মাটিতে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করছে দেশটি। আর এই এক বিশ্বকাপের পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে কাতার।

এই বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে খরচ করা সকল অর্থ আবার উঠিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আরব দেশটির। এবারের বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে ২২তম বারের মতো মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। সফলভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারলেই শূন্য থেকে শিখরে উঠে যাবে কাতার, এমনটাই ধারণা করা যায়।

ফুটবল বিশ্বকাপের আসর আরটিভি অনলাইনের পাঠকের জন্য তুলে ধরতে দেশটিতে আছেন এই মিডিয়া হাউজের রিপোর্টার কুশল ইয়াসির। সেখান থেকে কাতারে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে আসা বিভিন্ন দেশের দর্শকের সঙ্গে কথা বলে তাদের আনন্দ, উত্তেজনা সম্পর্কে জেনেছেন তিনি।

আরটিভিকে সার্বিয়ার ফুটবল ভক্ত আলেকসান্দার মাহদিক বলেন, ‘আমি খুব উত্তেজিত, আজকের দোহা ছয় বছর আগের মতো নেই। সেখানে অনেক নির্মাণকাজ হয়েছে। মেট্রোর পাশাপাশি গাড়ি চালানোর জন্য রাস্তাগুলো অনেক ভালো। দুই বছর আগে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের সময় আমি যে কয়টি স্টেডিয়ামে গিয়েছিলাম সেগুলো দেখতে সুন্দর। আমি এই বিষয়ে সত্যিই উত্তেজিত এবং এই সমস্ত লোককে এখানে আসতে দেখে সত্যিই রোমাঞ্চিত। এটি এখানে একটি মজার মাস হতে চলেছে।’

 

কাতারে বসবাসকারী উরুগুয়ের নাগরিক নাতালিয়া বলেন, ‘আমরা এতদিন ধরে এগুলোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমি এখানে ৯ বছর আছি এবং আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, বিশ্বকাপ চলে এসেছে। প্রস্তুতি দারুণ। আমি মনে করি কাতার অবশেষে বিশ্বকাপের জন্য সবকিছু প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে উরুগুয়ের সমর্থন করি।’

যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রেবেকাইরা ডিকারসন বলেন, ‘সবকিছু উত্তেজনাপূর্ণ, আবহ আশ্চর্যজনক। বিশ্বকাপ শুরু হওয়া পর্যন্ত সবাই অপেক্ষা করতে পারছে না। এই বিশাল আন্তর্জাতিক ইভেন্টটি দেখতে আমাদের কাছে সারা বিশ্ব থেকে মানুষ আসছে। বিশ্বকাপ ঘিরে শূন্য থেকে সবকিছু প্রস্তুত করছে কাতার। আপনি এটা ভালোবাসতে যাচ্ছেন। আমি সবাইকে বলব কাতারে আসতে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আসতে উৎসাহিত করছি। আপনারা এটা পছন্দ করবেন।’

ইসলামী ঐতিহ্য ও বেদুইন শিখর ধারণকারী কাতারের বিশ্বকাপ আয়োজনের ভিন্ন আয়োজন দেখতে এখন মুখিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

সূত্র: আরটিভি নিউজ
আইএ/ ২০ নভেম্বর ২০২২

Back to top button