জাতীয়

১০ ডিসেম্বরের পর সরকার পতনের আন্দোলনে নামবো

সিলেট, ১৯ নভেম্বর – বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আমরা এখনো সরকার পতনের কথা বলি নাই, এখনো পতনের ডাক দেই নাই। এখনো পদত্যাগের ডাক দেই নাই। ১০ ডিসেম্বর যাক, তারপর ওই খেলায় নামবো আমরা। জনগণকে নিয়ে নামবো। এই সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেয়া যায় না। কারণ সরকার জনগণের না।

শনিবার সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে আয়োজিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর বলেন, সাহস থাকলে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করো।

তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশ বন্ধ করার জন্য পোশাকে, বাস, ট্রাক, লেগুনা বন্ধ করে প্রতিদিন কত কোটি টাকা নষ্ট করেছেন? আর সোরওয়ার্দী উদ্যানে বাস মালকিদের কাছ থেকে বিনা পয়সায় কয় হাজার বাস আনলেন? জনপ্রতি এক জাহার টাকা, মাথায় টুপি, খাওয়া ফ্রি, গায়ে গেঞ্জি, হকার ও গাড়ি চালকের সহকারীদের জোর করে এবং পুলিশ বাহিনীর ৩০ হাজার সদস্যকে জড়ো করেছেন। আপনারা কত টাকা খরচ করেছেন- এর হিসাব জনগণকে দিতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে টাকা খরচ করে দলীয় কর্মকাণ্ড করছেন। আমাদের সভা সমাবেশ করতে যত টাকা খরচ হয় তার থেকে চার গুণ বেশি টাকা সরকার খচর করে এই সমাবেশকে বন্ধ করার জন্য। তারপরও সভা হয়, সমাবেশ হয়। থামায় রাখতে পারছেন? পারেন নাই।

বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, এদেশে আর কোনো অন্যায় হতে দেয়া হবে না। আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব। যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান করেছিলেন বাকশালকে দূর করে। যেভাবে খালেদা জিয়া করেছিলেন। আজ আবার সময় এসেছে একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এদেশে আবারো গণতন্ত্র পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করব। বিএনপি কোনদিন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। বিএনপি ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি মুক্ত একটা সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে। এদেশে মানুষের ভোট অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীম, ভাইস চেয়ারম্যান ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ফজলুর রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও তাহসিনা রুশদীর লুনা, উপদেষ্টা ডা. এনামুল হক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মুয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হাসান জীবন, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের সভাপতি রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণসহ বিভাগের জেলা গুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতা-কর্মীদের মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সিলেটে এই গণসমাবেশ করে বিএনপি।

ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ফরিদপুর বিভাগীয় সমাবেশ সম্পন্ন করেছে দলটি। আগামী ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় এবং ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে গণসমাবেশ করবে দলটি। সবশেষ ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ১৯ নভেম্বর ২০২২

Back to top button