জাতীয়

জায়গা না দিলে ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ হবে সপ্তাহব্যাপী

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর – বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ঢাকায় ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশের জন্য আমরা একটি জায়গা চেয়েছি। দিলে ভালো, তবে তালবাহানা করবেন না।

না হলে সারা ঢাকা শহরে মানুষ দিয়ে ভরে যাবে। তখন কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় সমাবেশ হবে না। পুরো ঢাকা শহরেই সমাবেশ হবে। অন্যান্য বিভাগীয় শহরে যেখানে তিন থেকে চার দিনব্যাপী সমাবেশ হয়েছে, ঢাকায় তা হবে সপ্তাহব্যাপী।
শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দেশনায়ক তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খুলনায় সমাবেশের প্রসঙ্গ সম্পর্কে দুদু বলেন, খুলনায় গণসমাবেশ বন্ধ করার জন্য এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা সরকার করার চেষ্টা করেনি। গণপরিবহন বন্ধ করেছে। কী হয়েছে তাতে? কোনো কিছু কি বন্ধ করতে পেরেছে? আমাদের নেতা-কর্মীরা ফোন করে বলেছেন, চিন্তা করবেন না, আমরা পায়ে হেঁটে হলেও আসব। খুলনার দায়িত্ব আমার ওপর ছিল। সত্যি কথা বলতে কি, আমি তখন বেশ চিন্তিত ছিলাম। কারণ সমাবেশ সফল না হলে খুলনার পরে বাকি সমাবেশগুলো সফল হবে না।

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন হবে উল্লেখ করে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ফয়সালা ১০ তারিখের আগেও হতে পারে, পরেও হতে পারে। দেশে গণঅভ্যুত্থান যে হবে, এটা নিশ্চিত থাকুন। আপনি যদি রাজনীতি করে থাকেন, তাহলে তার আলামত-লক্ষণ বুঝবেন। এক মুহূর্তও ভাবার কারণ নেই যে, এই সরকার ক্ষমতায় টিকবে। সরকারের আলামতেই সরকার তা বুঝতে পারছে। এ কারণেই আগামী দিন বিএনপির দিন, বেগম জিয়ার কর্মীদের দিন, তারেক রহমানের কর্মীদের দিন।

গোপালগঞ্জেও তারেক রহমান নির্বাচিত হবে বলেও দাবি করেছেন দুদু। তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, নির্বাচন জাতিসংঘ কিংবা নির্দলীয় সরকার যার অধীনে হোক, বর্তমান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যদি না থাকেন, তাহলে গোপালগঞ্জের আসনেও তারেক রহমান বিপুল ভোটে জয় লাভ করবেন, যদি সত্যিকারের নির্বাচন হয়।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দুদু বলেন, ভালয় ভালয় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তা না হলে ঢাকায় যে জনসমুদ্র হবে তাতে একটি স্লোগানই উঠবে এবং তা কার্যকর হবে, জেলের তালা ভাঙব খালেদা জিয়াকে আনব, যে স্লোগানটা পাকিস্তান সময়ে উঠেছিল শেখ মুজিবকে মুক্ত করার জন্য। তখন তিনি প্রধানমন্ত্রীও না, একজন মন্ত্রী ছিলেন। তারপরও জনগণ তার পক্ষে গিয়েছিল। আর আজ বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তার জন্য কি হবে তাহলে, ভেবে দেখুন। আমার নেত্রী বলে বলছি না, সব বিবেচনায় তিনি আপসহীন নেত্রী। যা বলেন, তাই করেন।

পুলিশের জন্য মায়া হয় উল্লেখ করে দুদু বলেন, পুলিশ নিজেও জানে না তারা কী অপরাধ করেছে। জীবনের সন্ধিক্ষণে এসে হলেও তারা এ কাজের জন্য অনুতপ্ত হবে। দুনিয়াতে না হলেও রোজ হাশরের ময়দানে তারা বিচারের সম্মুখীন হবে। আজ ন্যায়ের পক্ষে বলতে গিয়ে যে পুলিশ সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা চাকরিচ্যুত হয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়াসহ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম। ফোরামের উপদেষ্টা এম নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহাজাদা মিয়া, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খায়রুল কবির খোকন বলেন, বিএনপির আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রসমাজকে ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। বর্তমান স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে সরাতে হলে ছাত্রদলকে সামনের কাতারে থেকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমান দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে আন্দোলনের বিকল্প নেই। তাদের দুঃশাসন মানুষকে বুঝাতে হবে, আন্দোলনে শামিল করতে হবে।

সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই বলে জানিয়েছেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, আমাদের নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর এই সরকার বাকশালী কায়দায় এক দলীয় শাসন কায়েম করেছে। দেশকে আজ দেওলিয়া করে ফেলেছে। স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই।

দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আবদুস সালাম বলেন, লুটপাটের কারণে দেশে ডলার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আজ নতুনভাবে এলসি খোলা যাচ্ছে না। লোডশেডিং , জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও সরকারের অপশাসনে জনগণ আজ অতিষ্ট। তারা আজ এই সরকারের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

১০ তারিখের সমাবেশকে সফল করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এই সরকারের বিদায় না হলে দেশে দুর্ভিক্ষ ঠেকানো যাবে না।

সূত্র: বাংলানিউজ
এম ইউ/১৮ অক্টোবর ২০২২

Back to top button