ফুটবল

কাতার বিশ্বকাপে খোলামেলা পোশাক নিষিদ্ধ; হতে পারে জেল

দোহা, ১৭ নভেম্বর – ফুটবল বিশ্বকাপের আগে একের পর এক বিতর্কে জড়াচ্ছে কাতার। এবার বিতর্ক কাতারের আরও একটি আইন নিয়ে। সে দেশে নারীরা খোলামেলা পোশাক পরতে পারেন না। তাদের সব সময় শরীর ঢেকে রাখতে হয়। বিশ্বকাপ দেখতে আসা সমর্থকদেরও সেটা মেনে চলতে হবে। কোনও নারী দর্শক খোলামেলা পোশাক পরলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। জেলের সাজা পর্যন্ত হতে পারে।

জানা গিয়েছে, কাতারে পা রাখা বিদেশি সমর্থকদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তারা যাতে খোলামেলা পোশাক না পরেন। মূলত কাঁধ ও হাঁটু ঢেকে রাখতে হবে তাদের। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দর্শকদের কোনও বিশেষ পোশাক পরতে বলা হচ্ছে না। তারা নিজেদের পছন্দের পোশাকই পরতে পারেন। তবে খোলামেলা পোশাক পরা যাবে না। শুধু স্টেডিয়াম নয়, মিউজিয়াম ও অন্যান্য সরকারি দফতরে গেলেও শরীর ঢাকা পোশাক পরতে হবে তাদের।

শুধু স্টেডিয়ামের বাইরে নয়, স্টেডিয়ামের ভিতরেও দর্শকদের পোশাকের দিকে নজর রাখা হবে। কাতার বিশ্বকাপের চিফ টেকনোলজি অফিসার নিয়াস আব্দুলরহিমান বলেছেন, ‘স্টেডিয়ামে আমরা অত্যাধুনিক ক্যামেরা বসিয়েছি। সেই ক্যামেরার সাহায্যে প্রতিটি আসনের দিকেই ভাল করে লক্ষ্য রাখা যাবে। পুরো বিষয়টা রেকর্ড করা হবে। তা হলে পরবর্তীতে প্রয়োজন পড়লে আমরা রেকর্ডিং দেখতে পারব। দর্শকদের পোশাকের দিকে নজর রাখব আমরা।’

ফিফা অবশ্য জানিয়েছে, দর্শকরা চাইলে যে কোনও পোশাক পরতে পারেন। সেটা তাদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে। কিন্তু দর্শকদের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে, আয়োজক দেশের আইনের কথা মাথায় রেখে যাতে তারা পোশাক পরেন।

আরও কিছু নিয়ম মাথায় রাখতে হবে দর্শকদের। প্রকাশ্যে কারও সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করার সময় দাঁড়িয়ে করমর্দন করাই ভাল। বিশেষ করে বয়সে বড় কারও সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করার সময় দাঁড়ানো এক রকম বাধ্যতামূলক। কোনও নারীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করার সময় নিজে থেকে করমর্দনের জন্য হাত না বাড়ানোই ভাল। বরং সেই নারীর প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করা উচিত। তিনি করমর্দনের জন্য আগ্রহ দেখালেই শুধু হাত বাড়ানো যেতে পারে। কারণ কাতারের অধিকাংশ নারীই অন্য পুরুষের স্পর্শ এড়িয়ে চলেন। সুতরাং আগ বাড়িয়ে হাত না বাড়ানোই ভাল। নিরাপদ থাকতে ডান হাত নিজের হৃৎপিণ্ডের উপর রাখতে পারেন। কাতারের সমাজে এ ভাবেও সৌজন্য বিনিময়ের রীতি রয়েছে।

বান্ধবী বা স্ত্রীকে নিয়ে বিশ্বকাপ দেখতে গেলে রাস্তায় তার হাত ধরে হাঁটতে পারেন। প্রকাশ্যে জড়িয়ে না ধরাই ভাল। প্রিয় দলের জয়ের আনন্দে তাকে কিন্তু চুম্বন করে ফেলবেন না। তা হলেই বিপদ। প্রকাশ্যে চুম্বন সেখানে অপরাধ।

এছাড়া অবাধ যৌনতা এবং ‘সেক্স টয়’ ব্যবহার করলেও জেল হতে পারে। কাতারে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বাদ দিয়ে যৌনমিলন এবং সমকামী সম্পর্ক নিষিদ্ধ। সেক্স টয় নিয়েও কেউ কাতারে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এক রাতের ‘অবৈধ’ যৌনমিলনের (ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড) জন্য হতে পারে সাত বছরের জেল। বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই দেখা যায় ম্যাচ শেষে রাতভর পার্টি। কিন্তু কাতারে তা নিষিদ্ধ। সমর্থকদের সাবধান করে দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের কোনও আশা যেন না রাখা হয় এ বারের বিশ্বকাপে।

কাতার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী জুটি না হলে বিশ্বকাপ দেখতে এসে যৌনমিলন করা যাবে না। এই প্রতিযোগিতায় ‘এক রাতের যৌনমিলন’ থাকবে না। কোনও পার্টি করা যাবে না। নিয়ম না মানলে জেল হতে পারে। বিশ্বকাপে প্রথম বার এমন ভাবে যৌনমিলন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সমর্থকদের সতর্ক থাকতে হবে।

পর্নোগ্রাফি বানানো এবং জনসমক্ষে পর্নোগ্রাফি দেখার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, যাতে ফুটবল দেখতে আসা মানুষেরা স্থানীয় ঐতিহ্য ও রীতিনীতিকে সম্মান করেন। প্রকাশ্যে যৌনকর্ম এবং মাতলামি না করা এবং অশালীন পোশাক না পরার জন্যেও আবেদন জানানো হয়েছে। যে কোনও ধরনের ধর্মীয় বই নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিমানবন্দরে জিনিসপত্র তল্লাশি করার সময় প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনও ওষুধ পাওয়া গেলেও হাজতবাস করতে হতে পারে আগত ব্যক্তিদের।

কাতারে নির্দিষ্ট কিছু হোটেল এবং সমুদ্রের ধারে একটি কিছু জায়গা ছাড়া মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তাই এই বিষয়টিও বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকদের নজরে রাখতে বলা হয়েছে।

জুয়া খেলার জন্য ধরা পড়লেও কারাবাস হতে পারে।

২০ নভেম্বর থেকে কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে চলেছে। কাতার পশ্চিম এশিয়ার প্রথম দেশ, যারা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করছে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
আইএ/ ১৭ নভেম্বর ২০২২

Back to top button