শিক্ষা

শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের নজর নামিদামি স্কুলের দিকে

ঢাকা, ১৭ নভেম্বর – বছর ঘুরে আবার এসেছে ভর্তি মৌসুম। স্কুলগুলোতে গতকাল বুধবার থেকে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির ফরম ছাড়া শুরু হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে, এবারও সব শ্রেণিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি হবে লটারির মাধ্যমে। রাজধানীতে ছোট-বড় মিলিয়ে আট শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের মূল নজর নামিদামি স্কুলের দিকেই। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে এমন মানসম্পন্ন স্কুলের সংখ্যা ২৮। এই ২৮টি স্কুলেই হবে মূলত ভর্তির মূল লড়াই। অবশ্য সদ্য হাতেখড়ি নেওয়া প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের পাড়া-মহল্লার ছোট স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনেই দিতে চান বেশিরভাগ অভিভাবক।

বুধবার থেকে সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তির লটারি। আর বেসরকারি স্কুলগুলোর ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ডিসেম্বর। মাউশির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি সব স্কুলেই নির্ধারিত ফরমে অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে হবে। আগের মতোই থাকছে ভর্তি ফি। সে অনুযায়ী রাজধানীর এমপিওভুক্ত স্কুলে এবার ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা, নন-এমপিওতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার এবং ইংরেজি মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেওয়া যাবে। আর অন্যান্য মেট্রোপলিটন শহরে ৩ হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। এবারও ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্নিষ্ট এলাকা থেকে ভর্তি করানো হবে।

রাজধানীর খ্যাতনামা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হলি ক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, এসওএস হারমান মেইনর স্কুল, ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুল, সেন্ট জোসেফ হাইস্কুল এবং সরকারি স্কুলের মধ্যে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয় তাঁদের। এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি যুদ্ধ এবারও তীব্র হবে। তবে সবই নির্ধারিত হবে লটারি নামক ভাগ্যের খেলায়।

মেয়েদের খ্যাতনামা বিদ্যাপীঠ রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সব শাখায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন অনলাইনে নেওয়া শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়ার নির্ধারিত লিংকে (যঃঃঢ়://মংধ.ঃবষবঃধষশ.পড়স.নফ) প্রবেশ করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আবেদন করতে হবে। গতকাল বুধবার থেকে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু। আর আগামী ১৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের আবেদন ফি দিতে হবে ১১০ টাকা। টেলিটকের প্রিপেইড মোবাইল থেকে এ টাকা জমা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কামরুন নাহার মুকুল জানান, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে সব শাখায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে (প্রভাতি ও দিবা শাখা) ভর্তির জন্য মাউশির দেওয়া ওয়েবসাইট ঠিকানায় আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে আবেদনকৃত ছাত্রীদের থেকে অধিদপ্তরের ডিজিটাল লটারি পদ্ধতিতে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হবে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফৌজিয়া রাশেদী জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানেও ভিকারুননিসার মতো একই পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে। ১৩ ডিসেম্বর লটারি অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি আবেদনের ফি ১১০ টাকা। তিনি জানান, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ বছর মতিঝিল মূল শাখায় বাংলা মাধ্যমে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ১ হাজার ১৬০ জন এবং ইংরেজি ভার্সনে ৩৮০ জন ভর্তি করা হবে। প্রতিষ্ঠানের বনশ্রী শাখায় প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা মাধ্যমে ১ হাজার ১০ জন এবং ইলিশ ভার্সনে ৮৩০ জন ভর্তি নেওয়া হবে। আর মুগদা শাখায় প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা মাধ্যমে ৬৫০ জন এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৯৬০ জন ভর্তি করা হবে।

মনিপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ফরম ছাড়া হয়েছে ২৩ অক্টোবর থেকে। চলবে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি আবেদনের মূল্য ২০০ টাকা। ভর্তি ফরম জমা নেওয়া শুরু হয়েছে ১৩ নভেম্বর থেকে, যা চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শুক্র, শনি ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন ফরম বিক্রি চলছে। শূন্য আসন ঘোষণা না করলেও এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানের মূল শাখা, মূল ৬০ ফিট শাখা, ব্রাঞ্চ-১, ব্রাঞ্চ-২, ব্রাঞ্চ-৩ এবং কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, ঢাকা মহানগরীর বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন কমপক্ষে একটি এবং সর্বোচ্চ তিনটি থানাসংলগ্ন এলাকা হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে। এ ছাড়া প্রার্থীরা আবেদনে প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের সময় মহানগর পর্যায়ের জন্য বিভাগীয় সদরের মেট্রোপলিটন এলাকা এবং জেলা সদরের সদর উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে। ডাবল শিফটের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। একই পছন্দক্রমের বিদ্যালয় বা শিফট দ্বিতীয়বার পছন্দ করা যাবে না।

মাউশি জানায়, নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (যঃঃঢ়://মংধ.ঃবষবঃধষশ.পড়স.নফ) প্রবেশ করে স্কুলের ভর্তির অনলাইন আবেদন করা যাবে। পরে টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন ফি দেওয়া যাবে। ১৬ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে ভর্তির আবেদন অনলাইনে করা যাবে।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/১৭ নভেম্বর ২০২২

Back to top button