বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

অবশেষে চাঁদের উদ্দেশে পৃথিবী ছাড়ল ‘আর্টেমিস ১’

চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছে নাসার সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও বড় রকেট আর্টেমিস-১। এর আগে কয়েক দফায় উৎক্ষেপণের চেষ্টা করেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা ব্যর্থ হয়।

৩২ তলা ভবনের সমান উঁচু স্পেস লঞ্চ সিস্টেমটি (এসএলএস) কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪৭মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হয়। খবর এএফপির।

অ্যাপোলো মিশন বন্ধ হয়েছে প্রায় ৫০ বছর আগে। তারপর থেকে চাঁদের দিক থেকে সরে মঙ্গলের দিকে বেশি নজর দিয়েছিল নাসা। দীর্ঘ দিন পর ফের চাঁদে মানুষ পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে নাসা। তারই অঙ্গ হিসেবে আর্টেমিস-১ মিশন শুরু করা হয়।

এর আগে প্রথম দুবার নাসার আর্টেমিস মিশন যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ধাক্কা খায়। তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় ২৭ সেপ্টেম্বর তা চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৃতীয় প্রচেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ট্রপিক্যাল ঝড়। পরে নাসার বিজ্ঞানীরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে আর্টেমিস মিশন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

আর্টেমিস-১ চন্দ্রযানটি প্রায় ৯৮ মিটার লম্বা। কমলা ও সাদা রঙের বিশাল রকেটটি তৈরিতে সময় লেগেছে কয়েক দশক। এর নাম রাখা হয়েছে গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী। জ্বালানি হিসেবে ভরা হয়েছে ৩০ লাখ লিটার অতিরিক্ত ঠান্ডা তরল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। মূলত এসএলএস (স্পেস লঞ্চ সিস্টেম) ও ওরিয়ন ক্রিউ ক্যাপস্যুলের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য এ রকেট চাঁদে পাঠানো হচ্ছে।

তবে এখনই কোনো নভোচারী যাচ্ছে না এই অভিযানে। নাসার ‘ডিপ স্পেস এক্সপ্লোরেশন’-এর প্রাথমিক পর্ব আর্টেমিস-১। সব ঠিক থাকলে ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে মহাকাশচারী পাঠাবে বলে জানিয়েছে নাসা।

নাসার এবারের চাঁদে মানুষ পাঠানোর মিশন হবে তিনটি ধাপে। যার প্রথম ধাপ ‘আর্টেমিস-১’। এটি যাত্রীবিহীন অভিযান। এর মূল লক্ষ্য চাঁদের মাটিতে নামার জন্য সম্ভাব্য ‘ল্যান্ডিং সাইট’গুলো চিহ্নিত করা। একই পরীক্ষা হবে দ্বিতীয় ধাপেও।

আইএ/ ১৬ নভেম্বর ২০২২

Back to top button