মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে হিজাববিরোধী বিক্ষোভের দায়ে দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ড

তেহরান, ১৬ নভেম্বর – তিনদিনে দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ড! বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ রুখতে মরিয়া ইরানের আয়াতুল্লা আলি খামেনির প্রশাসন। বিচারের নামে প্রতিবাদীদের প্রাণদণ্ডের ভয় দেখিয়ে দেশজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে মোল্লাতন্ত্র ও নীতি পুলিশের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলন দমাতে চাইছে সরকার। এছাড়া গত দুই মাসে রাস্তায় বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলিতে নিহতের সংখ্যাও ইতিমধ্যেই ৩২৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদ মিছিলে অংশ গ্রহণ করায় মঙ্গলবার আরেক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ইরানের একটি আদালত। ওই ব্যক্তির নামপ্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহীতার পাশাপাশি সহিংসতা ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আল্লাহর সঙ্গে শত্রুতার পাশপাশি ধারালো ব্লেডযুক্ত অস্ত্র ব্যবহার করে রাস্তায় লোকজনকে আতঙ্কিত করা, এক নাগরিকের মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া এবং একজনকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করার অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ইরানে ৬০ তম দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে।

শুনানির নামে কার্যত প্রহসনের পর অভিযুক্তকে প্রাণদণ্ড দেন বিচারক। আসামী পক্ষের কোনও আইনজীবী এজলাসে ছিল না বলেও খবর। গোটা বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনও সাক্ষীকে পেশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের স্থানীয় আদালতগুলোকে হাতিয়ার করে প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। বিচারকদের উপর চাপ তৈরি করে মৃত্যুদণ্ড দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত রবিবার তেহরানের আদালতে প্রথমবার এক বিক্ষোভকারীকে ধর্মদ্রোহীতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা হিসাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া, জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন, জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্র এবং দুনিয়ায় দুর্নীতি ও আল্লাহর বিরুদ্ধে শত্রুতা করার দায়ে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে আরও পাঁচ প্রতিবাদীকে দশ বছরের কারাদণ্ড দেয় ইরানের অপর একটি আদালত। সব মিলিয়ে ২০ জন প্রতিবাদীর বিরুদ্ধে এমন মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে দোষী সাব্যস্ত হলেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের নীতি পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় তরুণী মাহসা আমিনির। তারপর থেকেই দেশটিজুড়ে চলছে বিক্ষোভ। স্বৈরশাসকের বিরোধিতায় ইতালির বুকে তৈরি হওয়া ‘বেলা চাও’ গানটি গেয়ে ইরানের রাস্তায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন আরব দুনিয়ার মেয়েরা। হিজাব বিরোধী সেই আন্দোলনে শামিল পুরুষদের একাংশও। তবে, বেকায়দায় পড়লেও অবস্থান বদলে নারাজ ইরানের সরকার। তেহরানের দাবি, এই বিক্ষোভে আসলে ষড়যন্ত্র এবং এর পেছনে হাত রয়েছে আমেরিকার। একইসঙ্গে সরকারের আরও দাবি, এই আন্দোলনকে মদত দিচ্ছে ‘কোমলা’ বলে ইরানের একটি বামপন্থী সংগঠন এবং বেশ কয়েকটি জঙ্গি গোষ্ঠী।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
আইএ/ ১৬ নভেম্বর ২০২২

Back to top button