সিলেট

চলছে মঞ্চ তৈরির কাজ, পরিবহন ধর্মঘটের শঙ্কা

সিলেট, ১৬ নভেম্বর – সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ নভেম্বর। সিলেট নগরের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ওই দিন দুপুরে এ সমাবেশ শুরু হবে। এ নিয়ে ছয়টি কমিটি করেছে বিএনপি। সমাবেশ সফল করতে এককাট্টা হয়ে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। চলছে মঞ্চ তৈরির কাজও।

তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রচারণায় পুলিশ ও সরকারি দলের বাধার অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। সর্বশেষ মঙ্গলবার সিলেটের বিয়ানীবাজার ও ওসমানীনগরে গণসমাবেশ সফলে লিফলেট বিতরণকালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ওসমানীনগরের দয়ামিরে লিফলেট বিতরণকালে বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

বিএনপি নেতারা বলছেন, সব বাধাকে ডিঙিয়ে ১৯ নভেম্বর সিলেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণসমাবেশ করবেন তারা। সাড়ে চার লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্য বিভাগের মতো সিলেটেও পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হলে আগে আসা নেতাকর্মীদের থাকার জন্য নগরের প্রায় সবগুলো কমিউনিটি সেন্টার বুকিং দেওয়া হয়েছে।

সিলেট নগরের সেবাহানিঘাট এলাকার আগ্রা, মানিকপীর রোডের মালঞ্চ, সাপ্লাই এলাকার নুরে আলা, পাঠানটুলা এলাকার সাজিদ আলীসহ অন্তত আটটি কমিউনিটি সেন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবগুলোই ১৮ নভেম্বর রাতের জন্য ভাড়া হয়ে গেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে এগুলো বুকিং দেওয়া হয়েছে।

সিলেট জেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে নগরের অন্তত ২৫টি কমিউনিটি সেন্টার ১৮ নভেম্বর রাতের জন্য বুকিং নেওয়া হয়েছে। সেখানেই কর্মীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। এ ছাড়া নগরের খোলা মাঠগুলোতেও কর্মী-সমর্থকদের রাত যাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নগরের সোবহানীঘাট এলাকার আগ্রা কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপক মো. সুমন মিয়া বলেন, ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে পুরো রাতের জন্য আগেই সেন্টারটি বুকিং হয়ে গেছে। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে এই বুকিং দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৮ নভেম্বর রাতের জন্য নগরের কোনো সেন্টারই ফাকা পাওয়া যাবে না। বিএনপির লোকজন থাকার জন্য নগরের ২২টি কমিউনিটি সেন্টার ওই রাতের জন্য বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।

তবে কমিউনিটি সেন্টার বুকিংয়ের বিষয়ে অস্বীকার করেছেন বিএনপির কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত গণমাধ্যম কর্মকর্তা) সুদীপ দাস বলেন, নেতাকর্মীদের জন্য বিএনপির কমিউনিটি সেন্টার বুকিং দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। কয়েকটি সেন্টার ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিতও হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর জানমালের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় এ ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক আছে।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, এ পর্যন্ত যতগুলো বিভাগে বিএনপি গণসমাবেশ করেছে সবগুলোতে আগে থেকে সরকারের নির্দেশে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। সিলেটেও এমনটি হতে পারে এমন আশঙ্কা করছি। এসব বিষয়কে মাথায় রেখে দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ করছেন। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও রেখেছি। কোনো বাধাই আমাদের সমাবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পরবে না।

এদিকে সিলেটে বিএনপির সমাবেশের আগে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে সোমবার ঢাকায় সিলেটের পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাহজাহান খান।

বৈঠক শেষে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেটে ধর্মঘটের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা বিএনপির গণসমাবেশের সময়ও গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলাচলের পক্ষে।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আমাদের সমাবেশ বানচাল করতে সরকারি ও আওয়ামী লীগ অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নানাভাবে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। এসব বাধা ডিঙিয়ে আমরা সমাবেশে গণজোয়ার সৃষ্টি করবো।

সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের সমাবেশকে বানচাল করতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ কাজ করছে। আজ বিকেলে ওসমানীনগরে আমাদের দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনার গাড়ি বহরে পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা হয়েছে। নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন। ওই খান থেকে আমাদের দুজন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, এরপরও ১৯ নভেম্বর পুরো সিলেট নগর জনসমুদ্রে পরিণত হবে। সব প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। এখন বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মীর লক্ষ্য হচ্ছে সমাবেশ সফল করা। কোনো বাধাবিপত্তিতে জনজোয়ার ঠেকানো যাবে না। আমরা সবাই একযোগে কাজ করছি।

কমিউনিটি সেন্টার বুকিং দেয়ার কথা অস্বীকার করে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা কোনো কমিউনিটি সেন্টার বুকিং দেইনি। আমাদের কারও বিয়েও লাগেনি। আমাদের মাঠ হচ্ছে আলিয়া মাদরাসা মাঠ। এ মাঠেই নেতাকর্মীরা জমায়েত হয়ে সমাবেশ সফল করবেন।

সূত্র: জাগো নিউজ
আইএ/ ১৬ নভেম্বর ২০২২

Back to top button