উত্তর আমেরিকা

পোল্যান্ডে বিস্ফোরণের পর বিশ্বনেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বাইডেন

ওয়াশিংটন, ১৬ নভেম্বর – টানা প্রায় ৯ মাস ধরে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে আসছে। আর এর মধ্যেই পূর্ব ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে আঘাত হেনেছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র।

রাশিয়ার তৈরি ওই ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণের জন্য দায়ী করা হচ্ছে রাশিয়াকে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, পোল্যান্ডে বিস্ফোরিত ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়া থেকে নাও ছোঁড়া হতে পারে। বুধবার (১৬ নভেম্বর) সকালে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে বুধবার স্থানীয় সময় সকালে আঘাত হেনেছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র। পোল্যান্ডের দাবি এটি রাশিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র। ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দু’জন নিহত হন এবং এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সামরিক জোট ন্যাটোর মিত্ররা বিস্ফোরণের তদন্ত শুরু করে।

এছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বনেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক তথ্য থেকে যা জানা যাচ্ছে তাতে পোল্যান্ডে গিয়ে পড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়া থেকে নাও নিক্ষেপ করা হতে পারে।

রয়টার্স বলছে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী গ্রুপ অব টোয়েন্টির বা জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অবস্থান করছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ অন্য বিশ্বনেতারা। বুধবার সকালে পোল্যান্ডে মারাত্মক বিস্ফোরণের পরে বাইডেন বিশ্বনেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

ন্যাটোর সদস্য দেশ পোল্যান্ডে হওয়া এই বিস্ফোরণের ঘটনায় রাশিয়া জড়িত কিনা এমন প্রশ্নের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন: ‘প্রাথমিক যে তথ্য রয়েছে তাতে রাশিয়ার জড়িত থাকার দাবি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আমরা এটি সম্পূর্ণরূপে তদন্ত না করা পর্যন্ত বলতে চাই না, তবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ট্র্যাজেক্টোরির লাইন অনুযায়ী এটি অসম্ভাব্য যে রাশিয়া থেকেই এটি ছোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখব।’

বাইডেন আরও বলেন, ‘যেকোনো পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো দেশগুলো বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে তদন্ত করবে।’

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইউক্রেনের সীমান্তের কাছে পূর্ব পোল্যান্ডের প্রজেওডো নামক গ্রামে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হওয়ার পরে বাইডেন জরুরিভাবে নিজেই এই বৈঠকটি আহ্বান করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, জাপান, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতারা অংশ নেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া জাপান ছাড়া বাকি সবাই সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। এছাড়া মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই প্রতিরক্ষা জোটের মধ্যে পোল্যান্ডও রয়েছে।

মূলত বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ ন্যাটোর আর্টিকেল-৫ অনুযায়ী— জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলা মানে পুরো জোটের ওপর হামলা। ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার পর ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ জরুরি বৈঠক ডাকেন। এছাড়া জি-৭ জোট ও জাতিসংঘও বৈঠক ডেকেছে।

তবে পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ মূহুর্তে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার বিষয়টিকে ‘পোল্যান্ডের ওপর রাশিয়ার হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করছে না।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট
আইএ/ ১৬ নভেম্বর ২০২২

Back to top button