জাতীয়

১০ ডিসেম্বর সমাবেশ ঘিরে তৎপর বিএনপি

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর – আগামী ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে ঘিরে তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশের জন্য দলের পক্ষ ডিএমপির কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এদিকে এই সমাবেশকে ঘিরে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকার সব আবাসিক হোটেলের তালিকা সংগ্রহ করে সেগুলোতে আগতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে। পাশাপাশি মেসগুলোতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতেও সতর্ক অবস্থায় থাকবে পুলিশ।

এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে যে অনুমতি চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে বলে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশের অনুমতি দেয়া হলে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকে রিজার্ভ ফোর্স আনা হবে। তারা বিভিন্ন থানা পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। ওইদিন রাজধানীতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলা হবে। সমাবেশস্থল ছাড়াও বিভিন্ন কেপিআই পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাড়ানো হবে টহল ডিউটিও। সাদা পোশাকে তৎপর থাকবে গোয়েন্দারা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রথমে পুলিশ ধৈর্যধারণ করবে। তবে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে কঠোর আ্যাাকশনে যাওয়ার পরিকল্পনা দেয়া হয়েছে।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছরের বেশি সময় থাকলেও রাজনীতিতে নানা মেরুকরণ ও রাজনৈতিক সরকারবিরোধী দলগুলো তৎপর। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ নানা জনসম্পৃক্ত ইস্যুকে পুঁজি করে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিভিন্ন বিভাগে সমাবেশ শেষে তারা আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছে। ওই ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এরইমধ্যে ডিসেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়তে পারে বলে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে নির্দশনা দেয়া হয়েছে। আগম তথ্য সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা পরিকল্পনামাফিক কাজ করছে বলে তিনি জানান।

পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১০ ডিসেম্বর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিট প্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের বিশেষ বার্তা দেয়া হয়েছে। এতে নাশকতা মামলার আসামিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বার্তা অনুযায়ী ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের যেসব নেতাকর্মীর নামে নাশকতার মামলা আছে তাদের তালিকা আপডেট করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তালিকাভুক্তদের বিষয়ে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা সহ্য করা হবে না। হোটেলের মালিককের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। ১ ডিসেম্বর থেকে থেকে হোটেলে যেসব বোর্ডার উঠবেন তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ করতে বলা হয়েছে। ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ছাড়া যাতে কাউকে হোটেলে অবস্থান করতে না দেয়া হয় সে বিষয়েও বলা হয়েছে। কারও বিষয়ে কোনো সন্দেহ হলে পুলিশকে জানাতে হোটেল মালিকদের বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মেসগুলোতে গোয়েন্দা নরজারদারি বাড়ানো হয়েছে। মেসে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন কাউকে থাকতে না দেয়ার জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। যে কোনো ধরনের আনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিট পুলিশিংকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ করতে চায় দলটি। এজন্য মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে লিখিতভাবে অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। সমাবেশের অনুমতি পেতে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মিন্টো রোডে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ করে প্রতিনিধি দলটি।

প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে বেরিয়ে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিভাগীয় শহরে ধারাবাহিক গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবো আমরা। সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের আসতে যাতে বাধা দেয়া না হয় এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সেসব বিষয়ে জানানো হয়েছে ডিএমপি কমিশনারকে।

তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে আমাদের সমাবেশ হয়েছে। এছাড়া আগামীতে আরও ছয়টি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার কথা রয়েছে। ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তার অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আলোচনা করে আমাদের জানাবেন। এ সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বিএনপির আবেদন পেলেও এখনো অনুমতি দেয়নি। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পর অনুমতির বিষয়টি জানানো হবে। তবে সেটি কবে নাগাদ জানানো হতে পারে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এ বিষয়ে ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক সমাবেশকে ঘিরে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা তৎপর আছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো সবাবেশকেন্দ্রিক কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযানের প্রশ্নই আসে না। তবে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে তাদের বিষয়ে অমাদের অভিযান সব সময়ই চলে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ১৬ নভেম্বর ২০২২

Back to top button