জাতীয়

ফারদিনের খুনিরা চিহ্নিত হলেও মোটিভ অজানা

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর – বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যায় জড়িত খুনিদের চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চনপাড়া বস্তির রায়হান ওরফে হিরো রায়হান ওরফে গ্যাংস্টার রায়হানের নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তারা সবাই চিহ্নিত মাদক কারবারি। মূলত র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত সিটি শাহীনের ছত্রছায়ায় রায়হান সব অপকর্ম চালাতো।

এদিকে কী কারণে ফারদিনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঠিক কোথায় ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে এখনও পরিস্কার হতে পারেনি তদন্তকারীরা। তবে রূপগঞ্জের চনপাড়ার আশপাশেই ফারদিনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের অনুমান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চনপাড়া এলাকায় অনেকগুলো মাদক স্পট থাকলেও নেশাজাতীয় দ্রব্যের সঙ্গে ফারদিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা এখনো পাওয়া যায়নি। তার মাদকসংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে যারা ফারদিনকে হত্যা করেছে, তারা মাদক ব্যবসায়ী। ঘাতকরা অন্যান্য অপরাধের সঙ্গেও জড়িত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যার মোটিভ উন্মোচনের জন্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। রায়হান বা তার গ্রুপের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারলে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোনো বিষয় নিয়ে ফারদিনকে ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চনপাড়া বস্তিতে জোর করে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। এরপর হত্যার পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তার মরদেহ ফেলে গুমের চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং মেন্যুয়াল তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে চনপাড়া বস্তির রায়হানের নেতৃত্বে। চনপাড়ার আশপাশে ফারদিনকে হত্যা করা হয়। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে রায়হান গ্যাং। রায়হান গ্যাংয়ের অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। রায়হানসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাদের দুই-একজনকে পেলেই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উন্মোচজন হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার রাতে ফারদিন চনপাড়া বস্তিতে গিয়েছিল কিনা তা আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তবে যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা বস্তির আশপাশে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, রায়হানের নামে পুলিশের ওপর হামলার ৩-৪টি মামলাসহ ১০-১২টি মামলা আছে। বস্তির সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় বজলু মেম্বার। তার শেল্টারেই রায়হানসহ অন্যরা মাদক ব্যবসা চালায়। সেখানে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপরও হামলার ঘটনা ঘটে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, চনপাড়া থেকে ফারদিনের গ্রামের বাড়ি খুব বেশি দূরে নয়। যাদের শনাক্ত করা হয়েছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আনতে পারলে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও মোটিভ জানা যাবে।

গত ৪ নভেম্বর নিখোঁজ হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নুর পরশ। ৭ নভেম্বর শীতলক্ষ্যা নদীতে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বাবা কাজী নূরউদ্দিন রানা বাদী হয়ে ফারদিনের বান্ধবী বুশরাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বুশরাকে গ্রেপ্তারের পর ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রিমান্ডে থাকা ফারদিনের বন্ধবী বুশরার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য মেলেনি। তাই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ এখন নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে চলছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান।

ফারদিনের বাবা নূরউদ্দিন রানা বলেন, মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। তদন্তসংশ্লিষ্ট কেউই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আমি ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার পেতে ধৈর্য্য ধারণ করে আছি।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ১৫ নভেম্বর ২০২২

Back to top button