পশ্চিমবঙ্গ

যে কারণে ক্ষমা চাইলেন মমতা

কলকাতা, ১৫ নভেম্বর – ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূকে নিয়ে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য করায় পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী অখিল গিরিকে নিয়ে চলছে সমালোচনা। তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও করে রাজ্যটির বিরোধীদল বিজেপি। তবে তার হয়ে ক্ষমা চাইলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো ও পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দোপাধ্যায়। গতকাল সোমবার মমতা এ ক্ষমা চান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, ক্ষমা চাইলেও অখিলকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি মমতা। তিনি বলেছেন, ‘অখিল অন্যায় করেছে। আমি দুঃখিত এবং দলের তরফ থেকে ক্ষমা চাইছি।’

ভারদের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূ সম্পর্কে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য করার পর থেকেই অখিলকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর দাবি তুলেছিল। তার হয়ে মমতা ক্ষমা চাওয়ার পরও সেই দাবি থেকে সরছে না বিজেপি। তাদের বক্তব্য, ক্ষমা চাইলেই সব মিটে যায় না! অখিলকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো উচিত।’’ সেই দাবিতে রাজ্যপালের কাছে আবেদনও করেছে বিজেপির পরিষদীয় দল।

আর অখিলকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। আজ মঙ্গলবারও তিনি আনন্দবাজার অনলাইনকে বলেছেন, ‘আমরা শুধু পদত্যাগ নয়, চাই কারাগার মন্ত্রী কারাগারেই থাকুন! রাষ্ট্রপতিকে যে ভাষায় অপমান করা হয়েছে, তাতে ক্ষমা চাইলেই সব হয়ে যায় না। ক্ষমা চাইলেই হবে না। মুখ্যমন্ত্রীকে সবচেয়ে আগে রামনগরের বিধায়ককে (অখিল) মন্ত্রিসভা থেকে তাড়াতে হবে।’

কিন্তু মমতা অখিলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। বরং তার ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, অখিলের কৃতকর্মের জন্য সবার সামনে ক্ষমা চেয়ে মমতা বিরোধীদের আক্রমণের ঝাঁজ অনেকটাই ‘প্রশমিত’ করে দিতে পেরেছেন। তাদের আশা, এরপর বিষয়টি আর বেশি দূর গড়াবে না। ফলে অখিল যথারীতি কারা প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগতর রায় এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ নেত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চেয়েছেন। এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে? ওই মন্তব্য দল যে সমর্থন করে না, তা আগেই জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী অন্যায় হয়েছে বলেছেন। এরপরও বিজেপি কোনো দাবি করলে সেটা ওদের রুচির বিষয়। রাজনীতি করতে চাইছে বলেই ওরা এসব করে যাচ্ছে।’

সূত্র: আমাদের সময়
আইএ/ ১৫ নভেম্বর ২০২২

Back to top button