দক্ষিণ এশিয়া

আফগানিস্তানে শরিয়া আইনে শাস্তির নির্দেশ তালেবানের

কাবুল, ১৫ নভেম্বর – আফগানিস্তানে আবারও শরিয়াহ আইন চালু করতে যাচ্ছে তালেবান সরকার। সোমবার (১৪ নভেম্বর) তালেবানের প্রধান নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, কিছু অপরাধের সাজা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অপরাধ করলে অঙ্গচ্ছেদ ও পাথর ছুড়ে মারার মতো কঠোর সাজাও প্রকাশ্যে হতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

তালেবান প্রধানের মুখপাত্র বলেন, ডাকাতি, অপহরণ ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো কিছু অপরাধের সাজা বিচারকদের অবশ্যই ইসলামি শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দিতে হবে।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ রোববার গভীর রাতে এক টুইটার বার্তায় জানান, বিচারকদের সঙ্গে বৈঠকের পর তালেবান নেতা ‘বাধ্যতামূলক’ এ আদেশ দেন। তিনি আরও বলেছেন, চোর, অপহরণকারী ও রাষ্ট্রদ্রোহীদের নথি সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করুন।

তবে কোন ধরনের শাস্তি হতে পারে তা এখনও নিশ্চিত করেনি তালেবান সরকার। তবে একজন ধর্মীয় নেতা বলেছেন, অঙ্গচ্ছেদ, প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত ও পাথর ছুড়ে মারার মতো শাস্তি হতে পারে।

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল নিয়ন্ত্রণে নেয় সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। ২০ বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সে বছর ৩১ আগস্ট আফগানিস্তানের মাটি ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশের সেনারা। শান্তি ফিরিয়ে আনতে দেশ শাসনের দায়ভার নেয় তালেবান।

২০ বছর আগে ক্ষমতায় থাকা তালেবান আবার সেই শরিয়া আইনে ফিরে যায় কিনা, সেটি নিয়ে সংশয় ছিল। তবে এর আগেও শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের কথা বলেছিলেন এই তালেবান নেতা।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল এই সময়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল তালেবান সরকার। সে সময় শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা সমালোচনার মুখে পড়ে তালেবান সরকার।

এবার ক্ষমতায় বসার পর সেই কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তালেবান। নারী শিক্ষার আধুনিকায়নের কথাও বলেন তালেবান নেতারা। অথচ দেশটিতে নারীদের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে দিনের পর দিন, এমন অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর। নারীদের চলাফেরায় নানা ধরনের বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী কাবুলের পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তালেবান সরকার। এমনকি আফগান নারীরা জিমেও যেতে পারবেন না।

এদিকে, ক্ষমতা পেলেও এখনও তালেবান সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি। অর্থনৈতিক অবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়নি দেশটির। অপরদিকে, তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর দেশটিতে সহিংস ঘটনা বেড়ে গেছে। খাদ্যনিরাপত্তা, একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা কঠিন হয়েছে পড়েছে তালেবান সরকারের পক্ষে।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/১৫ নভেম্বর ২০২২

Back to top button