ফুটবল

বাংলাদেশও মাতাবে কাতার বিশ্বকাপ

আব্দুল্লাহ কাফি,তৈয়ব সুমন

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর – কদিন পরেই বিশ্বকাপ ফুটবলে মাতবে পৃথিবীর মানুষ। নিজেদের দল এই হাইভোল্টেজ টুর্নামেন্ট খেলা থেকে যোজন দূরে অবস্থান করলেও বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশে উন্মাদনা কম নয়। তবে গত কয়েক আসরের মতো এবারও কাতার বিশ্বকাপে ভিন্নভাবে আছে বাংলাদেশ। এ দেশে তৈরি টি-শার্ট গায়েই যে বিশ্ব সেরা অনেক ফুটবলারের জন্য গ্যালারিতে বসে বা অন্য জায়গায় গলা ফাটাবেন সমর্থকরা।

জানা গেছে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করছে বাংলাদেশি পোশাক কারখানাগুলো। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের স্পোর্টস ক্লাবের জন্যও বাংলাদেশ জার্সি তৈরি করে। তারই ধারাবাহিকতায় আসন্ন কাতার বিশ্বকাপের জন্য বিভিন্ন দেশের অন্তত ছয় লাখ পিস টি-শার্ট পাঠিয়েছে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত সনেট টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। গত মার্চে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩ কোটি টাকা মূল্যের এসব টি-শার্ট পাঠানো হয়। সনেট টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ জানায়, ফিফার লাইসেন্সপ্রাপ্ত রাশিয়ার বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্পোর্টসমাস্টারের কাছ থেকে ২০২১ সালে তারা কাতার বিশ্বকাপ উপলক্ষে এসব টি-শার্টের কার্যাদেশ পায়। পরে ফিফার অনুমোদন নিয়ে গত মার্চ মাসে কার্যাদেশ অনুযায়ী ছয় লাখ পিস টি-শার্ট রপ্তানি করেছে তারা।

সনেট টেক্সটাইলের কাটিং ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন বলেন, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা কালো, সাদা, হলুদ, কমলা ও বেগুনিসহ মোট ছয় রঙ ও ডিজাইনের টি-শার্ট তৈরি করা হয়। যেগুলো কাতার বিশ্বকাপের অফিসিয়াল টি-শার্ট হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এগুলোর কপিরাইট ফিফার। টি-শার্টগুলো তৈরির জন্য কার্যাদেশ দিয়েছিল রাশিয়ান একটি ব্র্যান্ড। ফিফার নিজস্ব ডিজাইনের টি-শার্টের শর্ত মেনে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’-এর ওপর আস্থা রেখেছে রাশিয়ান

প্রতিষ্ঠানটি। ফিফার অফিসিয়াল টি-শার্ট তৈরিতে মানতে হয় কঠিন সব শর্ত। এর মধ্যে কোনো টি-শার্ট বাইরে সরবরাহ করা যায় না। আবার নকশা থেকে শুরু করে কোনো কিছুই কোথাও হস্তান্তরেরও সুযোগ নেই।

স্পোর্টসমাস্টারের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য বলছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশে তৈরি ফিফার অফিসিয়াল টি-শার্ট বর্তমানে রাশিয়া, বেলারুশ, ডেনমার্ক, পোল্যান্ড, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এবং আর্মেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শোরুমে বিক্রি হচ্ছে। স্পোর্টসমাস্টারের ৬৬০টিরও বেশি নিজস্ব স্টোর রয়েছে এসব দেশে।

নিটওয়্যার প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর পরিচালক ও সনেট টেক্সটাইলের পরিচালক গাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, বিশ্বকাপে কোনো দেশের জার্সি আমরা তৈরি করিনি। এর আগে ২০১৮ সালে স্পোর্টসমাস্টারের মাধ্যমে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২ লাখ পিস টি-শার্ট ও জ্যাকেট সরবরাহ করেছিলাম আমরা। পণ্যের গুণগত মান ভালো হওয়ায় ২০২০ সালের ইউরো কাপের জন্য আড়াই লাখ পিস টি-শার্টের অর্ডার আসে। এর ধারাবাহিকতায় স্পোর্টসমাস্টার এবার কাতার বিশ্বকাপের জন্য ৬ লাখ পিস টি-শার্টের অর্ডার দেয়। এখন আমরা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের জার্সি তৈরির পরিকল্পনা করছি।

বৈশ্বিক ফুটবল আসরের অফিসিয়াল টি-শার্ট প্রস্তুত করতে পেরে বাংলাদেশি গার্মেন্টস মালিক হিসেবে গর্বিত বলে জানান গাজী শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে না থাকলেও আমার দেশের তৈরি টি-শার্ট বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীরা গায়ে দেবেন। এটাই তৃপ্তির। এ বছরের এপ্রিলে আমি সর্বশেষ চালানটি পাঠিয়েছি। স্পোর্টসওয়্যার খাতে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। গত এক বছর আমার কারখানা থেকেই ১৮ মিলিয়ন ডলারের নিটওয়্যার রপ্তানি করা হয়েছে। আমার প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৮০০ জন কর্মী রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জভিত্তিক ফতুল্লা অ্যাপারেলসের এমডি ও বিকেএমইএর সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের জন্য আমার প্রতিষ্ঠান আড়াই লাখ জার্সি রপ্তানি করেছিল। এরপর বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের জন্য জার্সির রেপ্লিকাও আমরা পাঠিয়েছিলাম। তবে কাতার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোনো দেশের জন্য জার্সি আমরা পাঠাইনি। ফুটবলের পাশাপাশি স্পেনের বার্সেলোনায় রিয়াল মাদ্রিদ বাস্কেটবল দলের অফিসিয়াল জার্সি আমরাই তৈরি করি। প্রতি পাঁচ মাস অন্তর আমার কারখানা ওই ক্লাবের জন্য বেশ ভালো পরিমাণ জার্সি পাঠায়। এছাড়া আমার কারখানায় ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর জন্য কটনের তৈরি জার্সি তৈরি করা হয়।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জের এমবি নিট ফ্যাশনসের এমডি মোহাম্মদ হাতেম জানান, ২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ ইউরোপের ৮টি দেশের জন্য তার প্রতিষ্ঠান ১২ লাখ জার্সি পাঠিয়েছিল। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও তারা ৮ লাখ জার্সি পাঠিয়েছিলেন। তবে কাতার বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জার্সি পাঠাননি।

সূত্র: আমাদের সময়
আইএ/ ১৫ নভেম্বর ২০২২

Back to top button