জাতীয়

ফারদিন হত্যাকান্ডে কাইল্যা রায়হানসহ ১০ সন্দেহভাজনকে ঘিরে তদন্ত

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর – বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যা মামলার তদন্তে রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তির ১০ অপরাধীর নাম উঠে এসেছে। এসব অপরাধী হলেন কাইল্যা রায়হান, মাল্টা মনির, শাওন, ফেন্সি রুবেল, উজ্জল, সোহাগ, পলাশ, নূর জামাল, মুজাহিদ ও ময়না ওরফে মুন নামের এক নারী। এই ১০ জন মাদকদ্রব্যের কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, উল্লিখিত ১০ জনকে আটক করতে পারলে ফারদিন হত্যার রহস্য উন্মোচিত হতে পারে।

এরই মধ্যে সন্দেহভাজন একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
৪ নভেম্বর রাতে চনপাড়ার যে এলাকায় ফারদিনকে মারধর করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেখানে একটি সাদা প্রাইভেট কার গিয়েছিল। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাদা গাড়িটি যাওয়া-আসার সময় কয়েকজন যুবক উদ্বিগ্ন হয়ে পাহারা দিচ্ছিল। গাড়িটি মাদক কারবারি রায়হানের অন্যতম সহযোগী শাওনের বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন।

গতকাল সোমবার পর্যন্ত ফারদিনের চলাচল এলাকার পাঁচ শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে র‌্যাব, নৌ পুলিশসহ কয়েকটি ইউনিট ছায়া তদন্ত করছে। তবে গতকাল পর্যন্ত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও হত্যার কারণ সম্পর্কে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কিছুই জানাননি।

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে নৌ পুলিশের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ফারদিন হত্যায় আমরা এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ পাইনি। তাই এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা তথ্য-প্রমাণভিত্তিক কথা বলি। এখনো সে রকম কিছু বলার মতো তথ্য আসেনি। ’

পুলিশ সূত্র জানায়, ৪ নভেম্বর রাত ২টা ৩৫ মিনিটে চনপাড়া বস্তির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলোর জ্যোতি নামের ফার্নিচারের দোকান ও পাশের একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজের মাঝখানের স্থানে ফারদিনের মোবাইল ফোনটি সর্বশেষ ব্যবহৃত হয়। এরপর বন্ধ হয়ে যায়। ওই এলাকার সিটিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাত ১টা ২৮ মিনিটে স্থানীয় ছয় যুবক গলি থেকে বেরিয়ে চনপাড়া-রূপগঞ্জ মূল সড়কে উঠে হাতের বাঁয়ে মোড় নিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে চলে যায়। ১টা ৫১ মিনিটে ছয়জন আবার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে ফিরে আসে। রাত ২টা ২৩ মিনিটে চার যুবক দ্রুত হেঁটে বালু ব্রিজ এলাকা থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আসে। তারা স্থানীয় মাদরাসার মাঠে অপেক্ষায় থাকা একজনের সঙ্গে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলে।

ক্যামেরায় দেখা গেছে, রাত ২টা ৪৪ মিনিটে দুই যুবক গলির মুখে এসে অনেকটা পাহারা দেওয়ার মতো করে হাঁটে।

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ১৫ নভেম্বর ২০২২

Back to top button