জাতীয়

নুরদের সঙ্গে রেজা কিবরিয়ার দূরত্ব

সালমান তারেক শাকিল

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর -এক বছর আগে নুরুল হক নুরসহ কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ে গঠিত গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া। ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর দলটির আহ্বায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন আইএমএফের সাবেক এই কর্মকর্তা। এরইমধ্যে গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে রেজা কিবরিয়ার। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে দলত্যাগের দিকে যেতে পারে বলে গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে খুব একটা সক্রিয় হতে পারেননি। মাঠে ময়দানে কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি দিন দিন কমেছে। দলের তরুণ একটি অংশও রেজা কিবরিয়াকে ‘আহ্বায়ক’ হিসেবে চায় না। সোমবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় পাওয়া সর্বশেষ তথ্য বলছে, মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বিএনপির সঙ্গে সম্ভাব্য গণতন্ত্র মঞ্চের বৈঠকের কথাও তাকে জানানো হয়নি।

গণ অধিকার পরিষদে যুক্ত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলের সদস্য সচিব নুরুল হক নুরসহ তরুণ নেতারা মনে করছেন, রেজা কিবরিয়া দলে যুক্ত হওয়ার পর গণমাধ্যমের কাভারেজে পিছিয়ে পড়েছেন তরুণ নেতারা। আর একইসঙ্গে রেজা কিবরিয়ার নিজেরও এই দলে কাজ করার সুযোগ কমেছে। এসব কারণে উভয়পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে আলাপকালে রেজা কিবরিয়াবলেন, ‘আমি তো সব মিটিংয়ে যেতে পারি না। আর এখন আমার স্টমাক ফ্লু হয়েছে, চিকিৎসক বিশ্রাম নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। যেকোনও পার্টিতেই গণ্ডগোল থাকে। ওই ধরনের কোনও কথা নেই (দল থেকে সরে আসা)। আমি এখনও জেলায় জেলায় কমিটি গঠন নিয়ে নেতাদের সঙ্গে কথা বলছি, আমার সঙ্গেও বলছে।’

তবে রেজা কিবরিয়ার খুব ঘনিষ্ঠ একজন এই প্রতিবেদককে বলেছেন—‘গণ অধিকার পরিষদের ইয়ংদের একটি গ্রুপ রেজা কিবরিয়াকে দলে চায় না।’ তরুণ এক নেতা বলেন, ‘রেজা কিবরিয়া দেশের বাইরে বড় হয়েছেন। তৃণমূল রাজনীতি যথেষ্ট দৌড়াদৌড়ির। তিনি সর্বশেষ প্রোগ্রাম করেছেন ২৮ অক্টোবর। তিনি দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য চিন্তা করছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, ‘উনি (রেজা কিবরিয়া) এখনও দলে আছেন। তিনি দলে সময় দিচ্ছেন কম তা ঠিক। কিন্তু তিনি দেশকে সময় দিতে চান বেশি। উনার ভালো কিছু চিন্তা-ভাবনা আছে। দেশে যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয়, সেই সরকারে কিন্তু তার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘দেশে যে কয়জন অর্থনীতিবিদ আছেন, তিনি তাদের অন্যতম। ফলে যদি সেই সরকারে যেতে হয়, তাহলে তো রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ করেই যেতে হবে। এটা আমরা যখন জানবো, তখন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো’, বলছিলেন নুরুল হক।

রেজা কিবরিয়ার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পর যদি অন্তর্বর্তীকালীন কোনও সরকার গঠনের সুযোগ হয়, সে সরকারে ড. রেজা কিবরিয়া থাকবেন।

দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, ‘ড. রেজা কিবরিয়া এখনও দলে আছেন। তিনি যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যান—তাহলে তো দল ছেড়েই যেতে হবে। এমন একটা কানাঘুষা চলছে। আমরা তথ্যও পাচ্ছি। তিনি সেই সরকারে সম্মানিত জায়গায় থাকবেন। এটা যখন হবে তিনি নিশ্চয়ই দলে শেয়ার করবেন। আমরা সম্মানিতবোধ করবো। দলের জন্য এটা উপকার হবে।’

এ প্রসঙ্গে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘নতুন কী করবো, তা এখনও ঠিক হয়নি, বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে। কী কাজ করবো, কী করবো এসব বলা হয়নি। এটা যদি ঘটে (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার), তাহলে তো চলে যেতে হবে। আমাদের পার্টির গঠনতন্ত্রে একটি বিষয় আছে—সেটি হচ্ছে সরকারি কোনও পজিশনে গেলে দলের পদ ছেড়ে দিতে হবে।’

ড. রেজা কিবরিয়ার ঘনিষ্ঠ সূত্রটি মনে করে, গণ অধিকার পরিষদের এই নীতিমালা বুদ্ধিমানের কাজ না।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ছেড়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে গণফোরামে যোগ দেন রেজা কিবরিয়া। ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এরপর আমার বাংলাদেশ পার্টির কিছু অনুষ্ঠানে যোগ দেন রেজা কিবরিয়া। ২০২১ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দলটির আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যও পাঠ করেন তিনি।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আইএ/ ১৫ নভেম্বর ২০২২

Back to top button