দক্ষিণ এশিয়া

প্রেমিকাকে ৩৫ টুকরো করে রেখেছিলেন ফ্রিজে

নয়াদিল্লী, ১৫ নভেম্বর – ভারতে লিভ-ইন পার্টনারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ গুম করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

গ্রেফতার যুবক আফতাব আমীন পুনাওয়ালা (২৮)। নিহত তরুণী ২৬ বছরের শ্রদ্ধা ওয়াকার।খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

খবরে বলা হয়, আফতাব ও শ্রদ্ধা দিল্লিতে লিভ-ইন পার্টনারে ছিলেন। চলতি বছরের ১৮ মে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়ার এক পর্যায়ে শ্রদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আফতাব। তারপর মরদেহ ৩৫ টুকরো করে সেগুলোকে রাখার জন্য ৩০০ লিটারের একটি ফ্রিজ কেনেন আফতাব। পরে ১৮ দিনে মেহরাউলি জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় টুকরোগুলো ফেলে আসেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, আফতাব এবং শ্রদ্ধা দুজনেই মুম্বাইয়ের বাসিন্দা। একটি কল সেন্টারে কাজ করার সময় ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে আলাপ হয় তাদের।

দক্ষিণ দিল্লির অতিরিক্ত ডিসিপি অঙ্কিত চৌহান জানিয়েছেন, তিন বছর আগে থেকে এক সঙ্গে থাকতে শুরু করেন আফতাব এবং শ্রদ্ধা। এর পরেই মুম্বাই ছেড়ে দিল্লি চলে যান। তার কিছু দিন পর থেকে বিয়ের জন্য আফতাবকে চাপ দিতে শুরু করেন শ্রদ্ধা। কিন্তু আফতাব তাতে রাজি ছিলেন না। সেই নিয়ে রোজই চলত ঝামেলা। গত ১৮ মে তুমুল ঝগড়া বাধে দুজনের। সে সময় শ্রদ্ধাকে গলা টিপে আফতাব খুন করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের জানায়, আমেরিকার জনপ্রিয় অপরাধমূলক ওয়েবসিরিজ ডেক্সটার দেখে লিভ-ইন সঙ্গীকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন। আর খুনের পর প্রমাণ মুছে ফেলতে সাহায্য নিয়েছিলেন সার্চ ইঞ্জিন গুগলের।

পুলিশের দাবি, গুগলে সার্চ করে মানবদেহ টুকরো করে কাটা এবং রক্তের দাগ পরিষ্কারের পদ্ধতি খুঁজেছিলেন আফতাব। সোমবার রাতে আফতাবের গুগল সার্চের পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছে পুলিশ।

তবে শুধু ডেক্সটার নয়, লিভ-ইন সঙ্গী শ্রদ্ধা ওয়ালকরকের খুনের আগে আফতাব একাধিক অপরাধমূলক ছবি ও ওয়েবসিরিজ দেখে পরিকল্পনা করছিলেন বলে তদন্তকারী দলের সদস্যরা মনে করছেন।

পুলিশ জানায়, তাকে হত্যার পর দেহ ৩৫ টুকরো করেছিলেন তিনি। টুকরোগুলির পচন এড়ানোর জন্য নতুন একটি ফ্রিজও কিনেছিলেন আফতাব। তার পর দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সেই টুকরোগুলি।

শ্রদ্ধার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার গ্রেফতার হন আফতাব। তাকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

সূত্র: যুগান্তর
আইএ/ ১৫ নভেম্বর ২০২২

Back to top button