ব্যবসা

আমন মৌসুমেও চালের বাজারে অস্থিরতা

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর -মাঠ থেকে আমন ধান কৃষকের গোলায় উঠতে শুরু করেছে। বাজারেও এসেছে সেই ধানের চাল। পাশাপাশি দেশে চালের মজুত পরিস্থিতিও ভালো। এরপরও বাড়ছে দাম। সোমবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চাল সাত দিনের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ৫ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য কিনতে ক্রেতার নাভিশ্বাস বাড়ছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৩ সালে বিশ্বমন্দাকে পুঁজি করে একটি চক্র এখন থেকেই চালের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। যাতে ওই সময় দাম বাড়াতে না হয়। আর পুরোটা সময় বাড়তি মুনাফা করতে পারে। এজন্য সরকারসংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাকে এখন থেকেই নজরদারি বাড়াতে হবে। এতে ক্রেতা স্বস্তি পাবে।

সোমবার রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দিদার হোসেন বলেন, প্রতিকেজি মিনিকেট চাল গত সাত দিন আগে ৬৮-৭০ টাকা বিক্রি করলেও এখন ৭৩-৭৫ টাকায় বিক্রি করছি। পাশাপাশি নাজিরশাল বিক্রি করছি ৮৪-৮৫ টাকা। যা সাত দিন আগে ৮২ টাকায় বিক্রি করেছি। এছাড়া বিআর ২৮ চাল বিক্রি করছি ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৫৫-৫৬ টাকা ছিল। তিনি বলেন, দেশে চালের কোনো সংকট নেই। পাইকারি আড়তেও পর্যাপ্ত পরিমাণে চাল আছে। মিল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে মিল থেকে দাম বাড়ানোর কারণে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে আমন মৌসুমেও হু-হু করে দাম বাড়ছে।

একই বাজারে চাল কিনতে আসা মো. জুনায়েদ বলেন, বাজারে এক প্রকার হাঁসফাঁস অবস্থা। সব পণ্যের দাম বাড়তি। এর মধ্যে চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দেখা যাচ্ছে চালের কোনো ঘাটতি নেই। আমি যে পরিমাণে চাল কিনতে এসছি সেই পরিমাণেই কিনতে পারছি। তবে কেন চালের দাম বাড়ানো হলো। এ বিষয়ে বাজার তদারকি সংস্থার অভিযান পরিচালনা করে অসাধুদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

কাওরান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক ও পাইকারি চাল বিক্রেতা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মিল পর্যায়ে ৩-৪ টাকা কেজিতে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে তা অযৌক্তিক। কারণ আমন ধান কৃষকের গোলা থেকে বাজারেও আসতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে চালের দাম বাড়ার কথা নয়। মিলাররা সব সময় অজুহাত খোঁজে। তারা কোনো সময় ধানের দাম বেশি বলে চালের দাম বাড়ায়। এবার তারা বলছে, উৎপাদন খরচ বেড়েছে তাই চালের দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে তারা ২০২৩ সালের বিশ্বমন্দাকে পুঁজি করছে। এখন থেকেই দাম বাড়াতে শুরু করেছে। যাতে ওই সময় দাম বাড়াতে না হয়। আর পুরোটা সময় বাড়তি মুনাফা করতে পারে।

তবে নওগাঁ জেলার মিল মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, এই মুহূর্তে কোনো ধান কেনা যাচ্ছে না। কৃষকরা ধান নিজেদের কাছে রেখেছেন। তাই চাল উৎপাদনে ঘাটতি হচ্ছে। যার কারণে হঠাৎ করে দাম বেড়ে গেছে। আমন মৌসুমের ধান পুরোপুরি মাড়াই শুরু হলে দাম কমে যাবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে সরকারিভাবে খাদ্যশস্যের মজুত আছে ১৬ লাখ ৯ হাজার ৩৭২ টন। এর মধ্যে চালের সরকারি মজুত আছে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫৩ টন। ধান আছে ৮ হাজার ৯৩৬ টন। আর গমের মজুত ২ লাখ ২৮ হাজার ২১১ টন।

জানতে চাইলে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, দেশে এ মুহূর্তে চালের মজুত ভালো। তার মধ্যে আমন মৌসুম। এখন চালের দাম বাড়ার কথা নয়। আর চাল দেশের মানুষের প্রধান খাবার। এছাড়া বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি। এমন পরিস্থিতিতে চালের দাম বেড়ে যাওয়া মানে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস বাড়া। তাই ভোক্তা অধিদপ্তরসহ যেসব তদারকি সংস্থা আছে তারা মিল থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এ সময় কেন দাম বাড়ল তা খতিয়ে দেখা হবে। মিল থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে তথ্য নিয়ে কারা কারসাজির সঙ্গে জড়িত তা বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সূত্র: যুগান্তর
আইএ/ ১৫ নভেম্বর ২০২২

Back to top button