পশ্চিমবঙ্গ

রাষ্ট্রপতি বিতর্ক: মন্ত্রী অখিলের হয়ে ক্ষমা চাইলেন মমতা

কলকাতা, ১৪ নভেম্বর – ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কারা প্রতিমন্ত্রী অখিল গিরির মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, রাষ্ট্রপতিকে আমরা সকলেই শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। তিনি ভীষণ সম্মানীয় একজন। তার সম্পর্কে অখিলের এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত হয়নি। অখিল অন্যায় করেছেন, আমি ধিক্কার জানাচ্ছি। দলের হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি।

গত শুক্রবার নন্দীগ্রামে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করতে গিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের বিধায়ক অখিল। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অখিল বলছেন, আমরা রূপের বিচার করি না। তোমার রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে আমরা সম্মান করি। তোমার রাষ্ট্রপতিকে কেমন দেখতে বাবা?

এর পরই অখিলের এই মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় শুরু হয় দেশজুড়ে। অখিলের মন্তব্যের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে বিজেপি, পুড়েছে কুশপুতুল। একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তারা। অখিলকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে বিজেপি।

পরে অবশ্য মন্তব্যের জন্য অখিল ক্ষমাও চান। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি। এই ঘটনায় কেন মুখ্যমন্ত্রী নীরব, সে প্রশ্নও তুলেছিল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। অবশেষে এই বিতর্কে সোমবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন যে, দলের বিধায়কের এই ধরনের মন্তব্য কখনই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা এটিকে নিন্দা করেছি এবং দলের তরফে তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। আমার তার এই মন্তব্যকে সমর্থন করি না। ওকে বলে দেয়া হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য যেন আর না করে।

রাষ্ট্রপতির বাহ্যিক রূপ নিয়ে অখিল যে মন্তব্য করেছেন তার নিন্দা করে মমতা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ওনাকে খুব সম্মান করি। আমি মনে করি, সৌন্দর্য শুধুমাত্র রঙের মধ্যে হয় না। সৌন্দর্য শুধুমাত্র দেখার মধ্যে হয় না। সৌন্দর্য হল ভিতরের সৌন্দর্য। তিনি খুব ভাল, খুব সুন্দর মহিলা। আমি ওনাকে খুব পছন্দ করি। এটা অখিল অন্যায় করেছে। আমি ক্ষমা চাইছি আমার দলের তরফ থেকে।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় থেকেই দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গে তিনি অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, মহিলা প্রার্থী হলে আমি সবসময় রাজি। সঙ্গে সেই সময় মমতা আরও বলেছিলেন, “বিজেপি যদি আগে থেকে জানাত একজন আদিবাসী মহিলাকে প্রার্থী করছে, তাহলে আমরাও বিরোধী ১৬-১৭ টি দল মিলে চেষ্টা করতাম। বৃহত্তর স্বার্থে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। তাহলে দেশের পক্ষে ভাল হত।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ১৪ নভেম্বর ২০২২

Back to top button