জাতীয়

‘দুর্নীতি দেশের প্রবৃদ্ধির বড় অংশ খেয়ে ফেলছে’

ঢাকা, ০৭ নভেম্বর – বিশাল দুর্নীতি দেশের প্রবৃদ্ধির বড় অংশ খেয়ে ফেলছে বলে দাবি করে বিএনপির সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ বলেন, ‘দেশে একটা অর্থনৈতিক সাইক্লোন হয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ, টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ১০ শতাংশের বেশি। গত ১০ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।’

রবিবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইএমএফ থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার বিরোধিতা করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এটা অর্থনীতির জন্য আরও ভয়ংকর। দেশকে বাঁচানোর জন্য জাতিকে এগিয়ে আসা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে। করণীয় ঠিক করতে সবাইকে জাতীয়ভাবে বসা উচিত।’

সত্য স্বীকার করে সরকারকে বেল আউট প্রোগ্রামে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে জি এম সিরাজ বলেন, ‘পাচার করা ১০ বিলিয়ন ডলার ডিফল্ট করে বসে আছি। ১০ বিলিয়ন ডলার যদি পেয়ে যাই, এটা কার কাছে পাবো? আইএমএফ অথবা আমেরিকার কাছে পাবো। ভৌগোলিক-রাজনৈতিক কারণে তারা আমাদের বন্ধু না শত্রু, সেটা দেখতে হবে। বেল আউট ছাড়া দেশকে উদ্ধার করা সম্ভব না।’

অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘দেশকে সংঘাত ও সংকট থেকে রক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক অশনি সংকেত থেকে বাঁচতে বার্তা দিতে হবে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে। মানুষ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল বক্তব্য পেতে চায়।’

হারুন বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশে সরকারের পক্ষ থেকে নানা কৌশলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এরপরও জনগণের উপচে পড়া অংশগ্রহণে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।’

গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করা হয়েছে দাবি করে হারুন বলেন, ‘সংবিধানের দোহাই দিয়ে এটার সমাধান হবে না।’

‘বিএনপি বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো হবে’, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে হারুন বলেন, ‘এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’

খেলা হবে নিয়ে পাল্টাপাল্টি
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘ইদানীং রাজনীতিতে নতুন শব্দ যোগ হয়েছে। সবাই বলছে খেলা হবে। কিসের খেলা হবে? কোথায় খেলা হবে? কার সঙ্গে খেলা হবে? জনগণ কোথায় খেলা দেখতে চায়?’

ফিরোজ রশীদ আরও বলেন, ‘নারী নেত্রীরা বলছেন, খেলবেন, আসেন। খেলা হবে। এসব কেমন কথা?’

খেলা হবে—এই স্লোগানকে হালকা বক্তব্য উল্লেখ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘রাজনীতিতে এত হালকা কথা বলে, হালকাভাবে রাজনীতিকে নেওয়া উচিত না। মানুষ বাঁচতে চায়। এসব খেলা দেখতে চায় না।’

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য মুজিবুল হক বলেন, ‘রফতানি কমায় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এটাকে মোকাবিলা করার জন্য খেলা বাদ দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ঐকমত্য হয়ে বিপদ মোকাবিলা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলা হোক। তবে আগে জনগণকে বাঁচান। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সংকটকাল মোকাবিলা করি। আপনারা যে খেলা আরম্ভ করেছেন, তাতে আমরা রেফারি হওয়া ছাড়া খেলা বন্ধ হবে না।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আইএ/ ০৭ নভেম্বর ২০২২

Back to top button