জাতীয়

ক্যাসিনোকাণ্ডে বন্ধ ক্লাবগুলোর অন্ধকার কাটছে না সহসাই

ঢাকা, ০৫ নভেম্বর – রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল, গুলিস্তান ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকার ক্লাব পাড়ার বিভিন্ন রঙের বাতির মিশ্রণে আলোর ঝলকানির রশ্মি নিভে যাওয়ার তিন বছর পূর্ণ হয়েছে গেল সেপ্টেম্বরে। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্লাবগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায়। ক্যাসিনোকাণ্ডে বন্ধ করে দেয়া হয় ছয়টি ক্লাব। এরপর থেকেই ক্লাবপাড়ায় ঘোর অন্ধকার। গত তিন বছরে আর আলোর ছটা পড়েনি।

সেইসঙ্গে ক্লাব ঘিরে যাদের জীবনচক্র ঘুরত তারাও আর খোঁজ রাখেন না। অনেকেই এলাকা থেকে চলে গেছেন বলেও জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার ফকিরাপুল ইয়ংমেনস, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোটিং ক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব ঘুরে ভূতুরে পরিবেশ দেখা গেছে। ক্লাবগুলোর বন্ধ দরজা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। জং ধরা লোহার দরজায় জং ধরা তালা ঝুলছে। ভেতরে জন্মেছে আগাছা। দুমুঠো খাবারের আশায় আগে যারা ক্লাবগুলোতে ঘুরতেন, এখন আর তারা উঁকিও মারেন না। সহসাই আবার ক্লাবগুলো খুলবে কিনা তাও বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

ক্লাবগুলোর বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য, ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা চলছে। মামলার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাবগুলো বন্ধই থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্লাবগুলো বন্ধ থাকায় ভেতরে ক্লাব সংশ্লিষ্ট কেউ প্রবেশ করতে পারেন না। সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। চুরি হয়েছে মালামালও। ফলে ক্লাবগুলোকে এখন সাহসাই খোলা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি হায়াতুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আদালতে। যেহেতু ক্লাবগুলোর নামে মামলা রয়েছে, তাই এখন সেগুলো খুলে দেয়ার মতো অবস্থা নেই।

সাবেক খেলোয়াড়রা মনে করেন, ক্লাবগুলোকে খুলে না দেয়া হলে রাজধানীর উঠতি যুবকদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। ভাটা পড়তেই থাকবে ক্লাবপাড়ায়। দেশের ক্রীড়াঙ্গণে এই ক্লাবপাড়া থেকে নেতৃত্ব দেয়া ও খেলার মতো খেলোয়াড়ও তৈরি হবে না। তাই তারা দ্রুত ক্লাবগুলো খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারকে।

ইয়ংম্যানস ক্লাবের সাবেক গভর্নিং বডির সদস্য সাব্বির আহমেদ বলেন, আমরাও চাই ক্লাবগুলো খুলে দেয়া হোক। এগুলো বন্ধ থাকার ফলে খেলোয়ারা ভালোভাবে প্র্যাকটিস করতে পারছে না। ক্লাবের ভেতরে কোনো কর্মকাণ্ড চালানো যাচ্ছে না।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের এডিসি এনামুল হক মিঠু বলেন, আরামবাগ ক্লাব থেকে যোগাযোগ করা হলে আমরা তাদের বলেছি, এটা তো আমাদের বিষয় নয়। আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এগুলো খোলার কোনো সুযোগ নাই।

অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে প্রথম অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে ২৫ লাখ টাকাসহ ১৪২ জনকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ মদের বোতল।

এরপর একে একে আরও কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। রাজধানীতে ক্লাবপাড়া বলে পরিচিত ফকিরাপুলের এক গলিতেই অবস্থান ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাব, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবসহ আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন। এই ক্লাবগুলো অধিকাংশ গড়ে উঠেছে গত শতকে। এর বাইরে গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবে চালানো হয় অভিযান। সিলগালা করা হয় সবগুলোই।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ০৫ নভেম্বর ২০২২

Back to top button