জাতীয়

মিশরীয় পাউন্ডের ফের দরপতন, বিপাকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

কায়রো, ০৫ নভেম্বর – ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে মিশরীয় পাউন্ড ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কয়েক মাস আগে পাউন্ডের দরপতন হলে ১ ডলারের বিপরীতে ১৮ পাউন্ড দেওয়া হতো। গত সপ্তাহে ফের ১৮ শতাংশ বাড়ার ফলে ১ ইউএস ডলারের বিনিময়ে এখন ২৫ পাউন্ড পাওয়া যাচ্ছে।

কয়েক বছর আগেও যেখানে ১ ডলারের বিপরীতে ৮ পাউন্ড পাওয়া যেতো। যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার শেষ হয়ে যায়। সে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মিশরীয় পাউন্ডের মান অবমূল্যায়ন করতে হয়। এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে পাউন্ড দুর্বল হচ্ছে।

মিশরে বিভিন্ন শহরে পোশাক শিল্প কারখানায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দরপতন হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পোশাক শিল্পে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকসহ স্থানীয় ছোট-খাট ব্যবসায় জড়িত প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।

আশরা রমদান শহরে পোশাক শিল্প কারখানায় কর্মরত জহিরুল ইসলাম বলেন, গত ১২ বছর ধরে মিশরে কাজ করছি। কিছুদিন আগেও মিশরের স্থানীয় শ্রমিক ও আমাদের বেতনের খুব একটা পার্থক্য ছিল না। ফলে কারখানার মালিকরা বিদেশি শ্রমিক দিয়েই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।

তিনি বলেন, ডলারের দাম আকাশ চুম্বি হারে বেড়ে যাওয়ার ফলে একজন বিদেশি শ্রমিকের বেতন দিয়ে তিনজন মিশরীয় শ্রমিক রাখতে পারে কারখানার মালিকরা। তাছাড়াও একজন বিদেশি শ্রমিকের ওয়ার্ক পারমিটের জন্য গুনতে হয় বছরে বাড়তি ১ থেকে দেড় হাজার ইউএস ডলার, সঙ্গে আবাসন ও দুপুরের খাবার। কিন্তু মিশরীয় শ্রমিকদের বেলায় তার প্রয়োজন হয় না।

মিশরীয় পাউন্ডের ফের দরপতন, বিপাকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা!

জানা গেছে, মিশরের বিভিন্ন শহরের পোশাক শিল্পে কর্মরত বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ হাজার শ্রমিক। কঠোর পরিশ্রম, সময়মত কাজে যোগদান ও বাড়তি সময় নিয়ে কাজ করার ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে দেশটিতে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অন্য জায়গায়। বিভিন্ন কারখানায় একজন বাংলাদেশি শ্রমিক কাজের প্রকারভেদে বেতন পায় মাসে ৩০০ থেকে ৩৫০ মার্কিন ডলার, যা মিশরীয় মুদ্রায় আট থেকে সাড়ে আট হাজার পাউন্ড।

অথচ এই বেতনে অনায়াসে দুই থেকে তিনজন মিশরীয় শ্রমিক রাখা যায় বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত বাংলাদেশিরা। তাই বিভিন্ন কারখানা থেকে ডলার সংকট দেখিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। ফলে বেকার হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ০৫ নভেম্বর ২০২২

Back to top button