টলিউড

ছয় দশক পেরিয়ে ফিরে দেখা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী

মৃত্যুঞ্জয় সরদার

ছয় দশক পেরিয়ে ফিরে দেখা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী

শত পুন্যের ফল মানব জনম, মনুষ্য বেদনার এক অন্যরকম চরিত্র জীবন কাহিনীর ইতিহাস বহন করে চলেছি আমরা। কেউবা হই আমরা রাজা ,কেউ হই ফকির, কেউ হই উচ্চপদস্থ আধিকারিক, কেউ বা ব্যারিস্টা,র আর কেউবা ফল বিক্রেতা ।আর কেউ গ্ল্যামার জগতের দুনিয়ার বিখ্যাত অভিনেতা। পৃথিবীতে যেন মানব জীবনের একটা ভাগ্যের পরিহাস।পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তা সবাইকে মানুষ হিসেবে পাঠিয়েছে ।আর এই মানুষ কেউ আমরা হয়েছি ভিআইপি কেউ বা ফুটপাতের পথের পথিক। কেউ দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন জোগাতে পারছে না।

আবার কেউ টাকার গদিতে শুয়ে আছে। সবী তার লীলাখেলা।পৃথিবীর এই মায়ার সংসারে লীলাখেলার ইতিহাসে আমরা সবাই জানি আমরা আজ আছি, কাল নেই। তবুও আমার আমার করে আত্মঅহংকার ফেটে পড়ি।তবে জ্ঞানীগুণীরা তাদের আত্মঅহংকার বলে কিছু থাকে না তেমনি এক উদাহরণ আমি দিতে চলেছি এই লেখার মধ্য দিয়ে।সারা বিশ্বে মহামারী থেকে অতি মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে তবুও উদাসীন আমরা সবাই।সঠিক পরিকল্পনার অভাবে জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে অনেকেই এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

তবে এক বৃদ্ধ গুণীজন সমাজের বিশিষ্ট খ্যাতি সম্পন্ন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত । জানা যাচ্ছে, সোমবার তাঁর নামে বেড বুক করা হয় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। মঙ্গলবার ১১টা নাগাদ হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী তাঁর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। হাসপাতালের তরফেও জানানো হয়েছে, তাঁর করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। কথা শোনার পরে ভারতবর্ষে তার ভক্তরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছে।

ছয় দশক পেরিয়ে ফিরে দেখা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সুস্থ হয়ে ওঠে ,এবং সুস্থ-সবল জীবন নিয়ে আরো কিছুদিন এই মানব সভ্যতার ইতিহাসে আরো নতুন কিছু সৃষ্টি করে যেতে পারে।তবে ছয় দশকের বেশি অভিনয়জীবন। তিন শতকের বেশি ছবিতে শর্মিলা ঠাকুর, সুচিত্রা সেন, অপর্ণা সেন, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত, মমতাশংকর থেকে গার্গী রায়চৌধুরির মতো প্রচুর নায়িকার নায়ক তিনি।

সেই পঞ্চাশের দশকে সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন কেড়েছিলেন যে অভিনেতা, সেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এতো বছর পরেও অভিনেতা হিসেবে এতোটুকু ম্লান হননি। বরং একের পর এক সফল ছবিতে অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখে চলেছেন। তবুও ৮৫ বছর বয়সেও মঞ্চ আর ছায়াছবি দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয়। নিজেকে এখনও বলেন থিয়েটারের মানুষ। তাঁর দরাজ কণ্ঠের আবৃত্তি শ্রোতাকে মুগ্ধ করে।

কবিতার বই লিখেছেন ১৪টি। শিল্পক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্যে ফ্রান্স সরকার তাঁকে দিয়েছে সে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কার। স্বদেশে তিনি আগে থেকেই সন্মানিত হয়েছেন পদ্মভূষণ, দাদা সাহেব ফালকে-সহ বহু পুরষ্কারে। দেশের মানুষের জন্য ভাল কিছু কাজ রেখে যেতে চান তিনি। তবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তার জন্ম বৃত্তান্ত তার ব্যক্তিগত জীবনের ইতিহাস অনেকের কাছে অজানা আজও।

সেই কথাগুলো আজ এই লেখার মধ্যে আমি তুলে ধরতে চাই।সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (জন্ম জানুয়ারি ১৯, ১৯৩৫) বিখ্যাত অভিনেতা, আবৃত্তিকার এবং কবি। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ৩৪টি সিনেমার ভিতর ১৪টিতে অভিনয় করেছেন ।সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিটি কলেজ, আমহার্স্ট স্ট্রিট, কলকাতা ) সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন ।

চট্টোপাধ্যায় পরিবারের আদি বাড়ি ছিল (অধুনা বাংলাদেশে) শিলাইদহের কাছে কয়া গ্রামে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পিতামহের আমল থেকে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে থাকতে শুরু করেন। সৌমিত্রর পিতৃদেব কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করতেন এবং প্রতি সপ্তাহান্তে বাড়ি আসতেন। সৌমিত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন কৃষ্ণনগরের সেন্ট জনস বিদ্যালয়ে। তার পর পিতৃদেবের চাকরি বদলের কারণে সৌমিত্রর বিদ্যালয়ও বদল হতে থাকে এবং উনি বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন হাওড়া জেলা স্কুল থেকে।

তার পর কলকাতার সিটি কলেজ থেকে প্রথমে আইএসসি ও পরে বিএ অনার্স (বাংলা) পাশ করার পর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ অফ আর্টস এ দু’বছর পড়াশোনা করেন। পড়াশোনা শেষ করার সাথে সাথে অভিনয় জগতের পথ চলা শুরু হয়ে যায়। তিনি শুধু অভিনেতা নয়, অল ইন্ডিয়া রেডিও-র ঘোষক হিসেবেই কিন্তু সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পেশাগত জীবন শুরু বলা যায়। তাঁর জলদগম্ভীর কণ্ঠস্বরের প্রশংসা পেতেন অল্প বয়স থেকেই। তার উপর কলেজ জীবন থেকেই মঞ্চাভিনয়ে হাতেখড়ি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের, যা তাঁর বাচিক দক্ষতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

অভিনয়ে তাঁর প্রথম গুরু ছিলেন অহীন্দ্র চৌধুরী। কিন্তু অভিনেতা হিসেবেই যে জীবনে তিনি এগোতে চান, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শিশির ভাদুড়ির একটি নাটক দেখার পরে। কিন্তু যদি তাঁর পেশাগত জীবন ধরা যায়, তবে মঞ্চ বা পর্দা কোনওটিই নয়, রেডিওই ছিল তাঁর প্রথম পেশাগত মাধ্যম।শুধু তিনি এখানে থেমে থাকেনি সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে সিনেমা জগতের উত্থান শুরু হয়েছিল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনয় আগে থেকে নিজেকে তৈরি করেছিলো, সে কথাগুলো তুলে না ধরলে এই লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

বিভিন্ন পত্রপত্রিকা থেকে সেসব তথ্য সংগ্রহ করে আজ আমি এই লেখার মধ্যে পরিবেশন করছি।অশনি সংকেত-এর শুটিংয়ের আগেই বীরভূমের গ্রামে হাজির হয়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে। সেখানকার মানুষজন আর তাদের জীবনযাপন দেখার ইচ্ছে নিয়ে। সত্যজিৎ গিয়েছিলেন নিজের অভ্যাসবশত লোকেশন খুঁটিয়ে দেখতে, আর সৌমিত্র নিজের নোটবুকে নানা ধরনের নোট্‌স্ নিচ্ছিলেন… গ্রামের লোকের কমন ম্যানারিজম, কী ভাবে গা চুলকোয়, হাঁটে, কাঁধে গামছা রাখে, উবু হয়ে বসে ইত্যাদি।

ছয় দশক পেরিয়ে ফিরে দেখা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী
‘ঝিন্দের বন্দী’ ছবিতে ময়ূরবাহনের চরিত্রে।

সঙ্গে নিজের কিছু চিন্তাভাবনাও লিখে রাখছিলেন। এ থেকে একজন অভিনেতার কর্মপদ্ধতি যেমন বেরিয়ে আসে, তেমন তাঁর মানসিকতাও।যেমন লোকেশন দেখার সময় লিখছেন ‘অদ্ভুত সব গ্রাম— সুন্দর…’, আবার পরে যখন শুটিং করতে যাচ্ছেন, লিখছেন ‘সামনে অনাহার। এই কোমল শ্যামল নিস্তরঙ্গতার মধ্যে মৃত্যুর পদসঞ্চার শোনা যায়। আমার চৈতন্য আমার মুখ চোখ সেকথা যেন ধরতে পারে।’ আরও আগের নোট্‌স্-এ লিখেছেন, গঙ্গাচরণ চরিত্রে ‘একটা অদ্ভুত সংমিশ্রণ করতে হবে অভিব্যক্তিতে সরলতার সঙ্গে একটু ধূর্তোমির।

যে ধূর্তোমিটা তার জীবনসংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে। তার পেশা যজমানি… এই পেশায় সে তার থেকেও সরল সংস্কারসম্পন্ন চাষাভূষোকে ঠকিয়ে খায়।’ এর পর গঙ্গাচরণ সম্পর্কে তাঁর ভয়ংকর উপলব্ধি ‘ইতিহাস এই নগণ্য পুরুতটিকে তার চারিপাশ-সমেত এমন একটা জায়গায় ক্রমে এনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে যেখানে তার ওইটুকু জারিজুরি আর খাটছে না। সে এঁটে উঠতে পারছে না জীবনসংগ্রামে তার থেকে কোটিগুণ শক্তিশালী শত্রুকে— দুর্ভিক্ষকে।’এখানে শেষ নয়। আর যাই হোক না কেন,সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বহু চরিত্রকে চিরস্মরণীয় করে গিয়েছেন পর্দায়।

তিনি মানেই ‘অপু’ আবার এখনও তিনি মানেই ‘ফেলুদা’ বাংলার দর্শকের কাছে। কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের ছবির বাইরে এমন দুএকটি ছবি এবং চরিত্র রয়েছে যার সংলাপ অথবা দৃশ্য, বাংলা চলচ্চিত্র জগতে কিংবদন্তি-স্বরূপ হয়ে রয়েছে। তার প্রথমটি অবশ্যই ‘কোনি’ ছবির সেই বিখ্যাত সংলাপ– ‘ফাইট কোনি ফাইট’। সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে যাওয়ার উদাহরণ দিতে বাংলার পপুলার কালচারে এখনও এই সংলাপটি ঘুরে ফিরে আসে।

আরও একটি সংলাপ দর্শকের মুখে মুখে ফেরে, যে সংলাপটি তাঁর নয়, কিন্তু ওই সংলাপটি বলা হয়েছিল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত চরিত্রের উদ্দেশে। ছবিতে সেই সংলাপটি যতবার এসেছে, ততবারই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নীরব থেকেছেন আর তাঁর সেই নীরবতা যে কতটা মর্মভেদী, ওই চরিত্রটি যে কতটা অসহায়, যাঁরা ছবিটি দেখেছেন, তাঁরা কোনওদিনই ভুলতে পারবেন না। ছবির নাম ‘আতঙ্ক’ এবং সংলাপ– ‘মাস্টারমশায়, আপনি কিন্তু কিছু দেখেননি।’

তিনিই বড় অভিনেতা যাঁর অভিনয়ের জন্য সংলাপের প্রয়োজন হয় না! ঘটনাচক্রে ওই দুটি ছবিই মুক্তি পায় ১৯৮৬ সালে।এই কথাগুলো লেখার মধ্যে স্মৃতিচারণ হচ্ছে ১৯৫৬ সালের কথা।১৯৫৬ সালে যখন সত্যজিৎ রায় ‘অপরাজিত’-র জন্য নতুন মুখের সন্ধান করছেন, তখনই প্রথম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ হয় এই বিশ্ববরেণ্য পরিচালকের। তখন বছর ২০ বয়স অভিনেতার, সদ্য কলেজ পাশ করেছেন। সৌমিত্রকে দেখে অপু হিসেবে পছন্দও হয়ে গিয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত সৌমিত্রর কাস্টিং নাকচ করেন তিনি।

ছয় দশক পেরিয়ে ফিরে দেখা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী
অপুর সংসার ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

‘অপরাজিত’-র অপু চরিত্রে তিনি আরও কম বয়সী কাউকে চেয়েছিলেন। তার ২ বছর পরে সত্যজিৎ রায় যখন ‘জলসাঘর’-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত, তখন ওই শুটিংয়ে একদিন পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে যান সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। শুটিংয়ের ব্রেকে সত্যজিৎ ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আলাপ করিয়ে দিয়ে বলেন– ”এ হল সৌমিত্র। আমার পরের ছবি অপুর সংসার-এ অপু চরিত্রে অভিনয় করছে।” বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেতা কারণ তিনি সেই প্রথম জানতে পারেন যে মনে মনে কাস্টিংটা ঠিক করে রেখেছিলেন সত্যজিৎ রায়।

সত্যজিৎ রায়ের ছবি থেকে সিনেমা চলচ্চিত্র জগতের পথ চলা শুরু হয়েছিল তারপরে তিনি বহু ছবি করেছেন তার কিছুটা উল্লেখযোগ্য নাম আমি এখানে উল্লেখ করছি।অপুর সংসার (১৯৫৯),এরপরে ক্ষুদিত পাষাণ (১৯৬০), দেবী (১৯৬০), তিন কন্যা (১৯৬১), ঝিন্দের বন্দী (১৯৬১), অতল জলের আহ্বান (১৯৬২), বেনারসী (১৯৬২), অভিজান (১৯৬২), সাত পাকে বাঁধা (১৯৬৩), চারুলতা (১৯৬৪), কিনু গোয়ালার গলি (১৯৬৪), বাক্স বদল (১৯৬৫), কাপুরুষ (১৯৬৫), একই অঙ্গে এত রূপ (১৯৬৫), আকাশ কুসুম (১৯৬৫), মণিহার (১৯৬৬), কাঁচ কাটা হীরে (১৯৬৬), হাটে বাজারে (১৯৬৭), অজানা শপথ (১৯৬৭), বাঘিনী (১৯৬৮), তিন ভুবনের পারে (১৯৬৯), পরিণীতা (১৯৬৯), অপরিচিত (১৯৬৯), অরণ্যের দিনরাত্রি (১৯৭০), প্রথম কদম ফুল (১৯৭০), মাল্যদান (১৯৭১), স্ত্রী (১৯৭২), বসন্ত বিলাপ (১৯৭৩), অশনি সংকেত (১৯৭৩), সোনার কেল্লা (১৯৭৪), সংসার সীমান্তে (১৯৭৪), দত্তা (১৯৭৬), জয় বাবা ফেলুনাথ (১৯৭৮), দেবদাস (১৯৭৯), গণদেবতা (১৯৭৯), হীরক রাজার দেশে (১৯৮০), কোণি (১৯৮৪), ঘরে বাইরে (১৯৮৪), আতঙ্ক (১৯৮৬), গণশত্রু (১৯৮৯), শাখা প্রশাখা (১৯৯০), তাহাদের কথা (১৯৯২), মহাপৃথিবী (১৯৯২), হুইল চেয়ার (১৯৯৪), পারমিতার একদিন (২০০০), দেখা (২০০১), আবার অরণ্যে (২০০২), পাতালঘর (২০০৩), পদক্ষেপ (২০০৬), দ্য বং কানেকশন

(২০০৬), চাঁদের বাড়ি (২০০৭), নোবেল চোর (২০১২), মাছ, মিষ্টি অ্যান্ড মোর (২০১২), অলীক সুখ (২০১৩), রূপকথা নয় (২০১৩), দূরবিন (২০১৪)। অন্যদিকে সৌমিত্র অভিনীত কিছু উল্লেখযোগ্য নাটক।তাপসী (১৯৬৩), নামজীবন (১৯৭৮), রাজকুমার (১৯৮৩), ফেরা (১৯৮৭), নীলকণ্ঠ (১৯৮৮), ঘটক বিদায় (১৯৯০), দর্পণে শরৎশশী (১৯৯২), চন্দনপুরের চোর (১৯৯৪), টিকটিকি (১৯৯৫),নাটক এর জন্য পা ১৯৯৮ সালে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার। দু’ বার চলচ্চিত্রে জাতীয় পুরস্কার পান, ২০০১ ও ২০০৮ সালে। এদিকে ২০১২ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার লাভ করেছেন।আজও কান পাতলে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বায়োপিকের কথা অবশ্য কানাঘুষো শোনা যায়। কিন্তু সেসময় সৌমিত্রর ভূমিকায় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ের কথা শোনা গিয়েছিল ছবিতে। তবে, অফিশিয়ালি বায়োপিকের ঘোষণা করেছিলেন পরমব্রত। এবং সেইসঙ্গে এও জানালেন যে, কমবয়সি সৌমিত্রর ভূমিকায় দেখা যাবে যিশুকে। আর প্রৌঢ় বয়সের অংশে অভিনয় করবেন স্বয়ং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সৌমিত্র এবং পরমব্রত অভিনীত ‘শ্রাবণের ধারা’র কাহিনিকার শুভেন্দু সেনের উদ্যোগেই বাঙালির চেনা ‘ফেলুদা’র বায়োপিকের ভাবনা আরও বেশি করে চাড়া দেয়।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, এরপর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনিও পরমব্রতর নাম শুনে অমত করেননি। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এর জীবন কাহিনী তুলে ধরেছে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত সিনেমাতে ।ছবির স্ক্রিন-প্লে’র দায়িত্বভার বর্তেছে চিত্রনাট্যকার পদ্মনাভ দাশগুপ্তের উপর। ছয় দশকেরও বেশি অভিনয়জীবন সৌমিত্র চট্টোপাধ‌য়ের। দীর্ঘ ষাট বছরের কেরিয়ারে তিনশোরও বেশি ছবি। বলা চলে, ম্যারাথন দৌড়ের এক অসামান‌্য সেলুলয়েড-দর্পণ তাঁর জীবন। ব্যক্তিগত জীবন থেকে সৌমিত্রর অভিনয়জীবন, যাবতীয় বিষয় ফুটে উঠবে পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ফ্রেমে।

ছয় দশক পেরিয়ে ফিরে দেখা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী

উপরিপাওনা, সেই সঙ্গে তৎকালীন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির বেশ কিছু অজানা তথ্যও উঠে আসতে পারে পরম পরিচালিত বায়োপিকের হাত ধরে। দু’জনের পদবীই চট্টোপাধ‌্যায়। দু’জনেরই বুদ্ধিজীবী হিসেবে বাঙালি সমাজে পৃথক অধিষ্ঠান। আবার দু’জনেই বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী। আবার দু’জনকেই বাঙালি সিনেদর্শক দেখেছে ‘অপু’ হিসেবে। সেই এক চট্টোপাধ্যায়ই এবার তৈরি করেছিলেন অন‌্য চট্টোপাধ‌্যায়ের বায়োপিক। আজ্ঞে! হ্যাঁ, সৌমিত্র চট্টোপাধ‌্যায়ের বায়োপিক পরিচালনা করেছেন পরমব্রত। আর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনেই সেই বায়োপিকের অফিশিয়াল ঘোষণা করে দিলেন পরম।

কীভাবে পরিচালক ন্যায়বিচার করবেন এমন ঘটনাবহুল জীবনের? জানার জন্য ধৈর্য তো একটু ধরতেই হবে। আজ আমরা সেই অপেক্ষায় বসে রয়েছি।আবার ফিরে দেখছি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মকাহিনীর দিকে, অতৃপ্তিই তাঁকে সত্যজিতের সারাজীবনের সঙ্গী করে তুলেছিল। ‘সৌমিত্র নিজের থেকেই বুঝতে পারত, আমি কী চাই।’ সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন সত্যজিৎ, আর লিখেছিলেন ‘তার প্রতি আমার নির্ভরশীলতা আমার শিল্পীজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বজায় থাকবে…।’

উল্টোদিকে সৌমিত্র লিখেছেন ‘সারাজীবনে মানিকদার ছবিতে আমি প্রাণ খুলে যথেষ্ট স্বাধীনতা নিয়ে অভিনয় করতে পেরেছি… স্বাধীনতা গ্রহণ করার যে আত্মবিশ্বাস তা ওঁর কাছেই পেয়েছি।’ অপু হয়ে-ওঠার জন্য সৌমিত্রকে ‘অপুর সংসার’-এর চিত্রনাট্য দিয়েছিলেন সত্যজিৎ, এর আগে তিনি কোনও অভিনেতাকে চিত্রনাট্য দিতেন না, সঙ্গে দু’টি ফুলস্ক্যাপ পাতায় লিখে দিয়েছিলেন অপু চরিত্রটিকে নিয়ে নানা দৃষ্টিকোণে দেখা নিজস্ব ভাবনা। পাশাপাশি সৌমিত্রও লিখেছিলেন ‘অপু-র ডায়েরি’, অপু সম্পর্কিত নিজের অভিজ্ঞতায় ভর-করা কল্পনা।

আজও যখন সে-ছবি তৈরির স্মৃতিতে ফেরেন সৌমিত্র, লেখেন ‘বাস্তবতাকে মাপকাঠি করে অভিনয়ের ওই যে চেষ্টা ওটাই অভিনয়ের আসল অভিপ্রায়।আজকের অভিনেতাদের সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শিক্ষাকে সামনে রেখে অনেক কিছু শিখতে হবে। অভিনয় নিজের জীবনের উপলব্ধি একটা পার্ট।সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনয়ের আগে নিজেকে প্রস্তুতি তৈরি করে নিতেন ।এবং সেরার সেরা টা তার চরিত্রের মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছিল। ছয় দশকেরও বেশি অভিনয়ের জীবনটাকে পুনরায় ফিরে দেখা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় জীবনী কে।

আমরা এই আছি, এই নেই, এই সত্যটাকে হয়তো অনেকে মানি না ।কিন্তু কখন যে কি ঘটে যাবে তবে কর্মজীবনের ইতিহাস আজ চিরন্তন সত্যের পথে প্রবাহিত হবে।বৃদ্ধ গুণীজন গুরুজন খ্যাতিসম্পন্ন করি অভিনেতা ও নাট্যকার ও রূপকার হিসেবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আমাদের জীবনের মধ্যে আবদ্ধ থাকবে, সকল ভারতবাসীর ভালোবাসা প্রার্থনাতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় করোনা থেকে মুক্তি পেয়ে ,আবার পুনরায় ফিরে আসবেন আমাদের মাঝে ভালোবাসার দ্বীপ জ্বালিয়ে।

ছয় দশক পেরিয়ে ফিরে দেখা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী

তাই আজ সকল ভারতবাসী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এর জন্য সুস্থ কামনা প্রার্থনা করছি ঈশ্বরের কাছে।তবে টলিউডে করােনার হানা এর আগেও ঘটেছে। এর আগে রঞ্জিত মল্লিকের পরিবারে তিনি নিজে , তার স্ত্রী দীপা মল্লিক , মেয়ে কোয়েল মল্লিক , জামাত নিসপাল রানে সবাই করােনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

পরিচালক রাজ চক্রবর্তীও করোনায় আক্রান্ত হন । এরা সকলেই করােনাকে জয় করেছেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও একইভাবে করােনাকে জয় করবেন, এটাই প্রার্থনা সকলের।জানা গিয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় করোনা পরিবেশের মধ্যেই কিছুদিন আগে ‘অভিযান’- এর শুটিং-এ যোগ দিয়েছিলেন।

সৌমিত্রবাবুর জীবনের ওপর ভিত্তি করে এই তথ্যচিত্র তৈরি করছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সেই শুটিং থেকে ও করােনায় সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে।তবে সকলের বিশ্বাস, আসা, ভগবানের কাছে কামনা ও প্রার্থনা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সুস্থ্য-সবল জীবন ফিরে আসবে পুনরায়। আবার শুরু হবে তার জীবনকাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্র তথ্যচিত্র ছবি। সেই কারণে বলতে চাই ছয় দশক পেরিয়ে ফিরে দেখা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী।

Comments

Back to top button