অপরাধ

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের নাইটগার্ডের ইয়াবা সাম্রাজ্য

চট্টগ্রাম, ১৬ অক্টোবর – পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের নাইট গার্ড আব্দুল মালেক। পতেঙ্গা সৈকতে ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে নাইটগার্ডের কাজ করছেন। নাইটগার্ডের আড়ালে মালেক গড়ে তুলেছেন ইয়াবা সাম্রাজ্য। তার সংকেত পেলেই পতেঙ্গায় লোড-আনলোড হয় ইয়াবার চালান। তবে দীর্ঘদিন ধরা না পরলেও অবশেষে স্পিডবোটে ইয়াবার চালান আনার সময় ধরা পড়েছে ‘ইয়াবা সম্রাট’ খ্যাত মালেকসহ ৫ জন। এ সময় তাদের দু’টি ট্র্যাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকা।

রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নুরুল আবছার।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পতেঙ্গার মো. ছালেহ আহম্মদের ছেলে মো. নিজাম উদ্দিন (৩০), আনোয়ারা থানার গহিরার মৃত আবদুল মোতালেবের ছেলে মো. আব্দুল মালেক (৫২), একই এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে মো. হাসান মিয়া (২১), পতেঙ্গা থানার বিমানবন্দর এলাকার মৃত ওবায়দুল হকের ছেলে ওমা. ওমর ফারুক (৪০), আনোয়ারা গহিরার মো. নুর নবীর ছেলে মো. ইমরান হোসেন (২০)।

র‍্যাব জানায়, ইয়াবা ট্যাবলেটের একটি বড় চালান নিয়ে স্পিডবোটে করে সাগরপথে পতেঙ্গা সি-বিচের দিকে আসছিল মাদক ব্যবসায়ীরা। তারা ওই চালান থেকে কিছু অংশ চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানাধীন পতেঙ্গা সি-বিচ মেইন পয়েন্ট ঘাটের কিছুটা অদূরে সাগরে একটি লাইফ বোটের লোকজনদের কাছে এবং বাকিগুলো অন্য কোথাও দেয়ার কথা ছিল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে অভিযান চালায় র‍্যাব সদস্যরা।

র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে নোঙর করা অবস্থায় একটি লাইফ বোট ও স্পিডবোট করে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে র‍্যাবের সদস্যরা ওই স্পিডবোটে থাকা ২ জন ও লাইফ বোটে থাকা ৩ জনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের দু’টি ট্র্যাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকা।

র‍্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের নাইটগার্ড আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কাজের সঙ্গে জড়িত। তার ইশারায় স্পিডবোটে ইয়াবা নিয়ে সমুদ্র সৈকতে আসে কয়েকজন। পরে ইয়াবাগুলো তিনি বিক্রি করেন। আর গ্রেপ্তার নিজাম উদ্দিন মূলত স্পিডবোর্ডের চালক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্পিডবোটের চালক হিসেবে কাজ করছিলেন। ইদানিং তিনি গার্মেন্টসে চাকরি নেন এবং ছুটির দিনে অবৈধ মাদক আনার ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া হাসান মিয়া বেশিরভাগ সময় টেকনাফে থাকেন। ইয়াবার চালান আনার জন্য টেকনাফ থেকে তিনি সবকিছু গুছিয়ে দেন। তিনি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে কেউ সন্দেহ করে না। এভাবেই তারা পরস্পরের মিলে ইয়াবার বড় চালানগুলো টেকনাফ থেকে সাগরপথে মহেশখালী-কুতুবদিয়া হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে নিয়ে আসে। গ্রেপ্তারদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ১৬ অক্টোবর ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language