জাতীয়

‘ট্রাফিক পুলিশ অবিরাম কষ্ট করে, মানুষ তাদেরই সমালোচনা করে’

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর – পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, আমাদের দায়িত্বশীলতা দিয়ে থানাকে সবার আশ্রয়স্থল বানাতে হবে। সবাই ৯-৫টা কাজ করে, কিন্তু থানার দরজা কখনো বন্ধ হয় না।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রত্যাশা তৈরির পেছনে আপনারা যেভাবে অবদান রেখেছেন ভবিষ্যতেও মানুষের আস্থা, প্রত্যাশা আর ভালোবাসার জায়গা ধরে রাখতে হবে

রোববার (১৬ অক্টোবর) রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিএমপির পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত আইজিপিকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নবনিযুক্ত আইজিপি এত বড় দায়িত্ব, সম্মান আর মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের জন্য অনেক কাজ করেছেন, অনেক সমস্যার সমাধান করেছেন। একটা সমস্যা সমাধান হলে আরেকটা সমস্যা তৈরি হয়। সবাই মিলে চেষ্টা করলে সব সমস্যার সমাধান হবে।

আইজিপি বলেন, ট্রাফিক পুলিশ অবিরাম কষ্ট করে। মানুষ ট্রাফিক পুলিশের সমালোচনা করে, কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ রোদ, বৃষ্টি ঝড়ে একটানা কাজ করে। জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এর কারণে মানুষ এখন বিশ্বাস করে পুলিশের কাছে গেলেই তাদের সমস্যার সমাধান হবে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার কারণে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি প্রতিরোধসহ গার্মেন্টস সেক্টর তথা সারাদেশে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। দেশ ঈর্ষণীয় উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে সারাবিশ্ব যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ পুলিশ যথেষ্ট সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি বলেন, করোনাকালে চরম মানবিক সংকটে নিকটজন যখন মরদেহ ফেলে রেখে চলে গেছে বাংলাদেশ পুলিশ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই মরদেহ দাফনসহ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেবা দিয়ে গেছে। সেবা দিতে গিয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে।

চমৎকার এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ডিএমপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইজিপি বলেন, ডিএমপি বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে বড় ইউনিট। ডিএমপি অক্লান্তভাবে পরিশ্রম করে। ডিএমপি যেভাবে কাজ করে তা দেশি-বিদেশি সব মানুষের কাছে দৃশ্যমান থাকে। ডিএমপি যেভাবে তাদের কাজ করছে আমাদের পক্ষ থেকে তাদের সেই কাজে সহায়তা অতীতের ন্যায় অব্যাহত থাকবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতি ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ডিএমপি পরিবারের পক্ষ থেকে আইজিপিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে মহানমুক্তি যুদ্ধের প্রথম প্রহরে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ এই রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকেই করা হয়েছিল। তাদের আত্মত্যাগের কথা আমরা মনে রেখে কাজ করে থাকি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে যতটুকু অর্জন তার অবদান প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী এমন একজন মানুষকে বাছাই করে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব দিয়েছেন।

কমিশনার আরও বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ মানুষের জন্য কাজ করে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ববোধ ডিএমপির আছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ ভালো কাজ করলে সারাদেশ ভালো চলে। ডিএমপি এ গর্ব ও ভালোবাসা নিয়ে কাজ করে থাকে। ঢাকা মহানগরে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে ডিএমপির কর্মকর্তারা তা উদঘাটন না করা পর্যন্ত ক্ষান্ত হন না।

তিনি বলেন, আপনি যেমন সমগ্র চাকরি জীবনে একটিও নেগেটিভ প্রশ্নের সম্মুখীন হননি, তেমনি ডিএমপি বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ ইউনিট হওয়া সত্ত্বেও এমন কোনো কাজ করবে না যেন আপনার মর্যাদাহানিকর হয়। আপনার নেতৃত্বে যে কোনো পরিস্থিতিতে ইস্পাত কঠিন প্রত্যয় নিয়ে ডিএমপি কাজ করবে। ডিএমপি যে কোনো ভালো উদ্যোগে আইজিপি ডিএমপির পাশে থাকবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এ কে এম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ সব পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ১৬ অক্টোবর ২০২২

Back to top button