ব্রাহ্মণবাড়িয়া

রোগী নেয় না আধুনিক অ্যাম্বুল্যান্স

বিশ্বজিৎ পাল বাবু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১১ অক্টোবর – ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া অ্যাম্বুল্যান্সগুলো বেশির ভাগ সময় গ্যারেজেই পড়ে থাকছে। গঠনগত ব্যতিক্রমের কারণে আধুনিক অ্যাম্বুল্যান্সগুলো চালাতে অনীহা প্রকাশ করছেন চালকরা। ফলে এগুলো রোগী বহনের কোনো কাজে আসছে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাওয়া তিনটি অ্যাম্বুল্যান্সের মধ্যে দুটিকে মাঝেমধ্যে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরেকটি পুরোপুরি অচল। অথচ অ্যাম্বুল্যান্সগুলো লাইফ সাপোর্টসহ বেশ আধুনিক সুবিধা সংবলিত। এগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগতে পারলে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য খুবই উপকার হতো।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাতে লাইফ সাপোর্টের সুবিধা থাকা ১০৯টি অ্যাম্বুল্যান্সের চাবি তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স আসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনটি হাসপাতালে। গত বছরের ২৯ অক্টোবর এসব অ্যাম্বুল্যান্স বুঝিয়ে দেওয়া হলেও রোগী পরিবহনের কোনো কাজে লাগছে না।

সরেজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা উপহারের অ্যাম্বুল্যান্সটি পুরোপুরি গ্যারেজবন্দি। চালানো হয় না বলে এর ব্যাটারি অকেজো হয়ে আছে। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর ও কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুল্যান্স দুটি সচল থাকলেও শুধু করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে করোনার ভ্যাকসিন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে অ্যাম্বুল্যান্সগুলো আর কোনো কাজে লাগবে না। এ কারণে ওই দুটি অ্যাম্বুল্যান্সও অচল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হিমেল খান বলেন, ‘ভারতীয় অ্যাম্বুল্যান্সটিসহ আমার এখানে তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স আছে। এর মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে গেছে, আরেকটি এখনো সচল। আর ভারতীয় অ্যাম্বুল্যান্সটি গ্যারেজে রাখা আছে। অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য আমার এখানে কোনো চালক নেই। তবে আমার গাড়ির চালককে দিয়ে একটি অ্যাম্বুল্যান্স মাঝেমধ্যে চালানো হয়। সেটাও নিয়মের বাইরে। কারণ আমার গাড়ির চালক আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত। নিয়ম অনুসারে, এ ধরনের নিয়োগপ্রাপ্ত কেউ অ্যাম্বুল্যান্স চালাতে পারবে না। তবে মানবিক কারণে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত রোগী পৌঁছে দেওয়া হয়। ’

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরূপ পাল বলেন, ‘করোনা ভ্যাকসিনের কার্যক্রমে ভারতের উপহারের অ্যাম্বুল্যান্স কাজে লাগানো হয়েছে। তবে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি সেভাবে কাজে লাগছে না। এর কারণ এটি চালাতে গেলে বাড়তি খরচ গুনতে হয়। তা ছাড়া চালকরাও এটি চালাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। ’

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, ‘ভারতের দেওয়া উপহারের অ্যাম্বুল্যান্সটি চালাতে চালকের অনীহা রয়েছে। চালক বলছেন, গঠনগত ব্যতিক্রমের কারণে অ্যাম্বুল্যান্সটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এ কারণে তিনি ঝুঁকি নিতে চান না। এ অবস্থায় এখন করোনার ভ্যাকসিনের কার্যক্রমে অ্যাম্বুল্যান্সটিকে লাগানো হচ্ছে। তবে ভ্যাকসিনের কার্যক্রম শেষ হলে এটি আর কোনো কাজে আসবে না। সারা দেশেই উপহারের অ্যাম্বুল্যান্সগুলো রোগী বহনের কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে জানি। ’

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ১১ অক্টোবর ২০২২

Back to top button