ইসলাম

‘আমার এ বান্দাকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাবো’

নামাজ পড়ার একটি ফজিলত এটি। তবে শর্ত হলো একাকি কিংবা সফরে থাকা অবস্থায় নামাজ পড়ার আগে আজান দেওয়া। আজান দিয়ে নামাজ পড়া ব্যক্তি যে-ই হোক আল্লাহ তাআলা তাকে অনেক নেয়ামত ও পুরস্কারের পাশাপাশি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন মর্মে সুসংবাদ জানিয়েছেন নবিজি। এ সম্পর্কে হাদিসে কী এসেছে?

হজরত উক্ববাহ ইবনু আমের রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন কোনো বকরীর রাখাল পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থানকালে আজান দিয়ে নামাজ আদায় করে তখন মহান আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে বলেন, ‘(হে মালায়িকাহ)! তোমরা আমার বান্দার দিকে তাকিয়ে দেখো, সে আজান দিয়ে নামাজ আদায় করছে। সে তো আমাকে ভয় করার কারণেই এরূপ করছে। কাজেই আমি আমার এ বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো।’ (আবু দাউদ ১২০৩, নাসাঈ, মিশকাত)

নামাজের সময় হলে আজান দিয়ে নামাজ পড়ার অর্থ হলো, এ ব্যক্তি মহান আল্লাহকে ভয় করে। আর যে ব্যক্তি মাঠে-ঘাটে অবস্থান করা সত্তে¡ও মহান আল্লাহকে ভয় করে এবং তার বিধিবিধান মেনে চলে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। হাদিসে তা-ই বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মাঠে ময়দানে, পাহাড় চূড়ায় কিংবা কোনো উপত্যকায় রাখাল হিসেবে কাজ করে কিন্তু সময় হলে নামাজ আদায় করে আবার তা এমনভাবে আদায় করে যে, আজান দেয় এবং ইকামতও দেয়। আল্লাহ তাআলা এমন রাখালের বিষয়ে আশ্চার্যবোধ করেন।

একাকি থাকা অবস্থায় নামাজের সময় হলে আজান ও ইকামত দিয়ে নামাজ পড়ার বিষয়টি আল্লাহর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন বান্দাকে তিনি তার সন্তুষ্টির দ্বারা আবৃত করেন এবং তাকে তার এ আমলের জন্য যথেষ্ট পুরস্কার দান করেন।

কারণ এ বান্দা শুধু আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে ভয় করে না। সে নিয়মিত আজান ও ইকামত দিয়ে নামাজ আদায় করে। আর যা করে তা তার রবের সন্তুষ্টির জন্যই করে। নির্জন মাঠে-ঘাটে, পাহাড়ে-উপত্যকায় কাউকে দেখানোর উদ্দেশ্যে করে না কিংবা দুনিয়ার কোনো স্বার্থে এ আমল করে না। আল্লাহ তাআলার তার এ আমলের খবর মালায়িকা তথা ফেরেশতাদের জানিয়ে দেন এবং তিনি এ ঘোষণাও দেন যে-

‘আমি আমার এ বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো’।

আইএ

Back to top button