ঢালিউড

এখন সুখের সংসার করতে চাই

ঢাকা, ৬ অক্টোবর – আমি তো কমপক্ষে এখন পর্যন্ত শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছি। তাই বলে আমি কি প্রত্যেক নায়িকার সঙ্গেই প্রেম-বিয়ের সম্পর্কে জড়িয়েছি। সবার সঙ্গে কি আমার স্ক্যান্ডাল আছে। আমি তো মাত্র দুজনকে বিয়ে করেছি। বাকি যেসব খবর রটেছে সবই তো গুঞ্জন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শীর্ষনায়ক শাকিব খান। সম্প্রতি তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন বুবলীর সঙ্গে বিয়ে ও শেহজাদ খান বীর তাঁরই পুত্র। এ ছাড়া এরই মধ্যে বেশ কটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। এসব বিষয়ে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন -আলাউদ্দীন মাজিদ

 

কেমন আছেন?
বেশ ভালো আছি সবার দোয়ায়। প্রচুর কাজ এখন হাতে। শিগগিরই কাজগুলো শুরু করতে যাচ্ছি। এ জন্যই দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। বলতে পারেন কাজ নিয়েই ভালো ও ব্যস্ত আছি।

 

আপনার ব্যক্তিগত জীবনে কিন্তু একটু ঝড়-ঝঞ্ঝা বইছে, এটিকে কীভাবে ট্যাকেল দিচ্ছেন?

দেখুন, চলচ্চিত্র নায়কের ঊর্ধ্বে আমি কিন্তু একজন মানুষ, আর মানুষ হিসেবে আমারও ব্যক্তিগত একটি জীবন আছে। সেই জীবনে নানা ঘটনা ঘটতেই পারে, তাই বলে তাতে ঝড়-ঝঞ্ঝার তো কিছু নেই। সব মানুষের জীবনেই প্রতিনিয়ত নানা ঘটনা ঘটে থাকে। শুধু চলচ্চিত্র নয়, দেশের যে কোনো সেক্টরের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা কি করছেন, কেমন আছেন, তাদের সুখ-দুঃখ নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকেই। সেই আগ্রহ থেকেই বড় মাপের মানুষের বিষয়গুলো বেশি হাইলাইট হয়। যা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে হয় না। আমাকে নায়ক হিসেবে দেশ-বিদেশের মানুষ সাদরে গ্রহণ করেছে বলে আমার সব ব্যাপারে তাদের জানার আগ্রহটা একটু বেশি। এটা দোষের কিছু নয়।

 

সবার মতে আপনার ক্ষেত্রে সমস্যাটা হলো আপনি বারবারই বিয়ে ও সন্তানের কথা গোপন করেন, কিন্তু কেন?

আবারও বলব, আমি তো নায়কের বাইরে সাধারণ একজন মানুষ। আমারও তো নিজস্ব কিছু চিন্তা ও পরিকল্পনা থাকতে পারে। সেই চিন্তা থেকে আমার মনে হয়েছে এ বিষয়ে এখনই কিছু বলব না। সময় হলে ঘটা করে সবাইকে জানাব। কিন্তু আমাকে ভুল বুঝে সময়ের আগে ওরা সেই পরিকল্পনা নষ্ট করে দেয়। সাধারণ মানুষের কাছে এ কারণেই আমাকে সমস্যায় পড়তে হয়। আরে প্রেম-বিয়ে তো মানুষের একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি আমার এই ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলো কখনই সাধারণ মানুষের সামনে আনতে চাই না। আমি মানুষকে উন্নত কাজ দিয়ে সুখী করতে চাই।

 

কথায় আছে সেলিব্রেটিদের ব্যক্তিগত বিষয় বলে কিছু নেই, সবই পাবলিক প্রপার্টি, এক্ষেত্রে কী বলবেন?

হ্যাঁ, আমিও স্বীকার করি সেলিব্রেটিদের সবকিছুই পাবলিক দেখতে চায়, তাই বলে কি একজন সেলিব্রেটির বেডরুমের দৃশ্য পাবলিককে দেখানো যায়, তার প্রাইভেসি বলে কী কিছু থাকতে নেই। দেখুন হলিউড-বলিউড এমনকি টলিউডের তারকাদের কথাই যদি বলি তাহলে বলতে হয় সেখানে তো এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে, কিন্তু সেগুলো নিয়ে কি সে দেশের মানুষের মধ্যে এমন উন্মাদনা কখনো দেখা যায়। টালিগঞ্জের জনপ্রিয় নায়ক প্রসেনজিৎ চারটি বিয়ে করেছেন, হলিউডের ইলেন মাস্কও চারটি বিয়ে করেছেন, কই তাঁদের নিয়ে তো সেসব দেশের মানুষের মধ্যে তেমন টুঁ শব্দ নেই। আসলে প্রতিষ্ঠিত মানুষের পেছনে সব সময় ঈর্ষাপরায়ণ কিছু শত্রু থাকে, তারাই তিলকে তাল করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায়।

এসব মানুষ কিন্তু বন্ধু রূপে কাছেই থাকে। যেমন নবাব সিরাজউদ্দৌলার অতি কাছের মানুষ ছিলেন মিরজাফর। এই মিরজাফরদের কাছ থেকে সব সময় দূরে থাকতে হয়। মিরজাফরদের পরিণতি শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হয়। তারা একসময় করুণভাবে নির্বংশ হয়। ইতিহাসই এর সাক্ষী। আমি আর কোনো খারাপ মানুষের সঙ্গে চলতে চাই না।

 

আপনার ক্ষেত্রে বারবার গোপন প্রেমের সম্পর্ক নিয়েই সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে মনে হয়-

মোটেও নয়, আমি তো কমপক্ষে এখন পর্যন্ত শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছি। তাই বলে আমি কি প্রত্যেক নায়িকার সঙ্গেই প্রেম-বিয়ের সম্পর্কে জড়িয়েছি। সবার সঙ্গে কি আমার স্ক্যান্ডাল আছে। আমি তো মাত্র দুজনকে বিয়ে করেছি। বাকি যেসব খবর রটেছে সবই তো গুঞ্জন। না হলে যাদের জড়িয়ে আমার সম্পর্কে বলা হচ্ছে তারা কি মুখ বন্ধ করে রাখত।

 

বুবলীর সঙ্গেই তো বাকিটা জীবন কাটিয়ে দেবেন, তাই না?

দেখুন, বিচ্ছেদের জন্য কেউ বিয়ে করে না, সুন্দর সংসার আর সুখের আশায় মানুষ বিয়ে করে। কোনো একজনের কারণে কেউ সুখী হয় কেউ বা হয় না। আমি এখন সুন্দর একটি সুখের সংসার চাই।

 

জয় আর বীর, আপনার দুই সন্তান, তাদের জীবন নিয়ে কী ভাবছেন?

দুজনই আমার আদরের সন্তান।

আমি আমার দুই পুত্রকেই প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত করে রেখে যেতে চাই। দ্ইু সন্তানকেই সমান টেক কেয়ার করে যাব। তাদের জীবনে অপূর্ণতা বলে যেন কিছু না থাকে সে চেষ্টা করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। ওরা শিক্ষিত ও বড় হয়ে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত তারা নিজেই নেবে। আমি তাদের প্রকৃত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে দেখতে চাই।

 

এবার চলচ্চিত্রের ব্যস্ততার কথা শুনতে চাই।

হ্যাঁ, অনেক ছবির কাজ একসঙ্গে শুরু করতে যাচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে রায়হান রাফির একটি, আশরাফ হিমেলের দুটি, আরিয়ানের একটি, সানি সানোয়ারের একটি, হাসিবুর রেজা কল্লোলের একটি, তপু খানের আরেকটিসহ বেশ কিছু ছবি রয়েছে।

এসব ছবির বেশির ভাগই আমার নিজের প্রযোজনা সংস্থা থেকে নির্মিত হবে। এখন চলচ্চিত্রের আবার সুসময় ফিরেছে, সব সময়ই আমার চেষ্টা ছিল নিজ দেশের চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ ও বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ছবিকে আবার প্রতিষ্ঠিত করা। এ কাজের পাশাপাশি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে বেশ কিছু কাজ করতে চাই। আমি মৃত্যুর পরও ভালো কাজের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই।

আইএ/ ৬ অক্টোবর ২০২২

Back to top button