পরিবেশ

বাংলাদেশসহ এশিয়ার নদীগুলোর পানি ক্রমাগত বর্ণ হারাচ্ছে

বাংলাদেশসহ এশিয়ার নদীগুলোর পানি ক্রমাগত বর্ণ হারাচ্ছে। দিন দিন নদীগুলোর পানি কালো হয়ে যাচ্ছে। বস্ত্রশিল্পের বর্জ্য মিশে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। সার্কভুক্ত দেশসহ এশিয়ার অনেক দেশ জনস্বাস্থ্যের জন্য প্রচণ্ড ঝুঁকিতে রয়েছে। অনলাইন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার কাছে সাভারে বাড়ি হাজী মুহাম্মদ আবদুস সালামের। এ সাভার এখন গার্মেন্ট শিল্পের যেন প্রাণকেন্দ্র। হাজী আবদুস সালাম তার বাড়ির কাছে আবর্জনায় ভরা নদীর দিকে তাকিয়ে স্মরণ করেন সেখানে কারখানা স্থাপনের আগের সময়। তিনি বলেছেন, যখন আমার বয়স অল্প দেখেছি কোনো গার্মেন্ট কারখানা ছিল না সাভারে। আমরা মাঠে ফসল ফলাতে পারতাম। পানিতে নানা রকম মাছ ধরতাম। আবহাওয়াও ছিল চমৎকার। কিন্তু এখন তার পাশ দিয়ে যে নদী বয়ে গেছে তার পানি কালো। আবদুস সালাম বলেন, পাশের গার্মেন্টগুলো থেকে ময়লা-আবর্জনা আর ডাই এসে পানি দূষিত করছে। এতে এখন আর কোনো মাছ নেই। পানি এতটাই দূষিত যে, আমাদের ছেলেমেয়ে ও নাতি-পুতিরা আমাদের আগেকার দিনের একই রকম অভিজ্ঞতা পাচ্ছে না।

চীনের পরেই তৈরি পোশাকের সর্বোচ্চ প্রস্তুতকারক এখন বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে এ খাত থেকে ৩৪০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এ তৈরি পোশাক কারখানার দূষিত বর্জ্য সরাসরি নদী বা খালে পড়ে। এ দূষিত পানিতে থাকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, ডাই, লবণ ও ভারি ধাতু। এটা শুধু পরিবেশের ক্ষতিই করছে না। একইসঙ্গে পানীয় জলের উৎসকেও দূষিত করছে। তৈরি পোশাক খাত এবং বস্ত্রশিল্পসহ সর্বোচ্চ রফতানি খাতগুলো থেকে পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী শাহাবউদ্দিন সিএনএনকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় বলেছেন, দূষণ রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংরক্ষণ ও পরিবেশবিষয়ক আইন আধুনিক করা। দূষণকারীদের জরিমানা ও পানির গুণমত মান পর্যবেক্ষণ করা। এছাড়া কেন্দ্রীয় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন ও বর্জ্য শোধন প্রক্রিয়া উন্নত করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকা ভিত্তিক এনজিও আগ্রহর প্রধান নির্বাহী রিদওয়ানুল হক বিষাক্ত রাসায়নিক দূষণকে বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জন্য বিরাট সমস্যা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকার ভেতর দিয়ে যেসব নদী বা খাল প্রবাহিত তা পিচকালো রঙ ধারণ করেছে। কারণ এতে মিশছে টেক্সটাইলের ডাই ও প্রসেসিং কারখানার বর্জ্য আর স্যুয়ারেজের ময়লা।

ইলেন ম্যাকআর্থুর ফাউন্ডেশনের হিসাব মতে, ফ্যাশন কারখানা প্রতি বছর প্রায় ৯৩০০ কোটি ঘনমিটার পানি ব্যবহার করে। এ পানি দিয়ে ৩ কোটি ৭০ লাখ অলিম্পিক সুইমিং পুল ভরে ফেলা যাবে। জাতিসংঘের হিসাবে, একজোড়া জিন্স তৈরিতে প্রয়োজন হয় প্রায় ৭ হাজার ৫০০ লিটার পানি। এতে নীল রঙ নিশ্চিত করতে কাপড়কে বারবার বিপুল পরিমাণ ডাইয়ে ভিজিয়ে রাখা হয়। এসব প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয় রাসায়নিক পদার্থ। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রকম এসিড, এনজাইম, ব্লিচিং পাউডার, ফরমালডিহাইড। এসব রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য পানি পার্শ্ববর্তী নদী বা খালে জমা হচ্ছে। এতে নদীর পানি কালো রং ধারণ করছে। প্রতিবেদনে ভারতের নদীগুলোর অবস্থাও একইরকম বলে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র : যুগান্তর
এন এইচ, ৩০ সেপ্টেম্বর

Back to top button