জাতীয়

কাজে কারও ছুটছে ঘাম, কারও আরাম

বাহরাম খান

ঢাকা, ০৪ অক্টোবর – বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য নতুন অফিসসূচি নির্ধারণের কথা বলা হলেও এর সুফল মিলছে না। যাঁরা পুরোনো অফিস সময়ে বেশি কাজ করতেন, তাঁদের চাপ আরও বেড়েছে। যাঁরা ঢিলেঢালাভাবে কাজ করেন, কর্মঘণ্টা কমায় তাঁদের আরাম বেড়েছে। প্রশাসনের কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত এমন চিত্র মিলেছে। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই বলছেন, ফাঁকিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যাস বদলায়নি। তাই অফিস সময় পরিবর্তনে সেবাগ্রহীতাদের কোনো লাভ হয়নি। এসব বিবেচনায় আগের সময়সূচিই ঠিক ছিল।

অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে গত ২৪ আগস্ট থেকে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়। এর আগে ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে সচিবালয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই সকাল ৮টার মধ্যে অফিসে ঢোকেন না। মাঠ প্রশাসনে জেলা-উপজেলায় ডিসি এবং ইউএনওদের অনেকে ঠিক সময়ে অফিস করলেও অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সকাল ৮টা থেকে পৌনে ৯টা পর্যন্ত ৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের ১৩ কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়ে মাত্র তিনজনকে উপস্থিত পাওয়া গেছে। এ পর্যায়ের কর্মকর্তার সবারই ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আছেন। ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই দপ্তরে ছিলেন না। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচিবালয়ের বাইরে কোনো মিটিং ছিল কিনা তাও জানার সুযোগ হয়নি।

এদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মোটরসাইকেলে রাজধানীর কাজীপাড়া থেকে রওনা হয়ে ২৫ মিনিটের মধ্যেই সচিবালয়ে পৌঁছানো গেছে। মাঝে কারওয়ান বাজারের সিগন্যাল ছাড়া কোথাও আটকাতে হয়নি। সকাল ৮টায় সরকারি অফিস শুরু হওয়ায় ৭টার পর রাস্তা খুবই ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু সে রকম পরিস্থিতি রাজধানীর রাস্তায় ছিল না। কারওয়ান বাজার সিগন্যালে থাকা এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালককে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘নতুন অফিস সময়ের প্রথম কয়েক দিন জ্যাম বেশি হইছে, এখন আগের মতোই। বড় স্যারেগর গাড়ি একটু দেরিতে নামে বোধ হয়।’ অটোরিকশা চালকের বক্তব্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেল সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতির হারে।

৮টা বেজে ৪০ মিনিট। বৃষ্টিময় সকাল। সচিবালয়ের ৪ নম্বর ভবনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খুরশিদ ইকবাল রেজভীর দপ্তরে ঢুকতে গিয়েই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের দাপট টের পাওয়া গেল, মনে হচ্ছিল তিনি আছেন। কিন্তু কক্ষ খালি দেখে দপ্তরের একজন কর্মচারীকে প্রশ্ন করলে বলেন, স্যার এখনও আসেননি, তবে আসবেন। একটু পরে মিটিং আছে।

সকাল ৮টা থেকে ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে ছিলেন এ প্রতিবেদক। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জিনাত আরা, যুগ্ম সচিব মুসলেহ উদ্দিন, খন্দকার আব্দুল হাইকে দপ্তরে পাওয়া যায়নি। একই বিভাগের যুগ্ম সচিব জহিরুল ইসলাম দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে আছেন বলে জানা গেছে; কিন্তু তাঁর কক্ষে বাতি ও এসি চলছিল পুরোদমে। এর পর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিনা আক্তার, মোল্লা জালাল উদ্দিন, জেবুন্নেসা করিমের দপ্তরে গিয়ে শুধু জালাল উদ্দিনকে পাওয়া গেছে। অন্য দুই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদেরও দপ্তরে পাওয়া যায়নি। কিন্তু তাঁদের কক্ষে এসি চলছিল।
সোমবার সাধারণত মন্ত্রিসভার বৈঠক থাকে। তাই এ দিন সচিবালয়ে দর্শনার্থী ঢোকা বন্ধ। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে বড় অয়োজনের বৈঠক রাখা হয় না। এ দিনটিতে কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে সারতে পারেন। একাধিক সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তাঁদের স্যাররা আগের মতোই অফিসে আসেন-যান। বিপদ হয়েছে পিওদের (ব্যক্তিগত কর্মকর্তা)। তাঁদের আসতে হয় ৮টার আগে, আর যেতে হয় ৫-৬টার সময়।

সকাল সোয়া ৮টার দিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এহছানে এলাহীর দপ্তরে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে এসি চলছিল। পাশের দপ্তরের একজন কর্মচারী জানালেন, স্যাররা কী এত সকালে আসেন নাকি। সচিব স্যার সাড়ে ৯টা-১০টার দিকে অফিসে আসেন। একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মহিদুর রহমানের দপ্তরেও এসি চলছিল; কিন্তু তিনি ছিলেন না, দেখা মেলেনি তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারও।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিনের দপ্তরে গিয়ে কর্মচারীদের দেখা পেলেও, সচিবকে পাওয়া যায়নি। তাঁর দৈনন্দিন কর্মসূচিতে ৩ অক্টোবর সকাল ৮টায় ‘দাপ্তরিক কার্যক্রম’ অর্থাৎ সচিবালয়ে উপস্থিত থাকার পরিকল্পনা উঠানো আছে। দপ্তরের একজন জানান, স্যার গণভবনে মিটিংয়ে গেছেন। এ ছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অন্তত চারজন অতিরিক্ত ও যুগ্ম সচিবের কক্ষে গিয়ে মাত্র একজনকে পাওয়া গেছে।

জেলা-উপজেলার চিত্র :জেলা-উপজেলাগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই ঠিক সময়ে অফিস শুরু করেন না। আবার অফিস সময় শেষ হওয়ার আগেই চলে যান। এমন অভিযোগ অনেক পুরোনো। নতুন অফিস নিয়মে কর্মঘণ্টা এক ঘণ্টা কমানোর পরও আগের অবস্থাই চলছে। দেশের চারটি জেলা ও চারটি উপজেলায় গত রোববার সরেজমিন গিয়ে এমন চিত্রই মিলেছে। দেরিতে আসার বিষয়ে বৃষ্টি, অসুস্থতা, ব্যক্তিগত কাজ, দাপ্তরিক কাজসহ নানা অজুহাতের কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে যেসব দপ্তরে ঠিক সময়ে কর্মকর্তারা অফিসে আসেন, তাঁদেরও সকাল কাটছে ব্যস্ততা ছাড়াই। কারণ সেবাপ্রার্থী এত সকালে সরকারি অফিসে আসছেন না।
বাউফল (পটুয়াখালী) :গত রোববার ঘড়ির কাঁটায় সকাল ৯টা বেজে ১০ মিনিটি। বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নের ছত্তার খান নামের এক কৃষক গভীর নলকূপ-সংক্রান্ত কাজে উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপপ্রকৌশলী মাকসুদুর রহমানের অফিসে গিয়ে তাঁকে পাননি। ছত্তার খান বলেন, ‘অফিস নাকি ৮টায়, এহন সাড়ে ৯টাতেও অফিসার দ্যাহি না।’ একই সময়ে অফিসে উপস্থিত ছিলেন না উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত হোসেন। শিক্ষা কর্মকর্তা পূজার ছুটিতে থাকলেও তিন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তখনও আসেননি। মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেছেন। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ফেরদৌস মো. হানিফ সকাল ১০টায়ও উপস্থিত ছিলেন না তাঁর কর্মস্থলে।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) :দৌলতপুরে সকাল সাড়ে ৯টায় অফিসে আসেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হোসেন আহমেদ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শহীদ আল মেহবুব সোয়া ১০টায়, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা সিদ্দিকাসহ তাঁর দপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী এসেছেন ৯টার পর। এ দিন অফিস করেননি সমাজসেবা কর্মকর্তা আতাউর রহমান।

দিনাজপুর :দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হারুন-অর-রশিদ মণ্ডল এবং উপসচিব লুৎফর রহমান সকাল ৮টায় অফিসে আসেননি। তোফাজ্জল হোসেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হারুন-অর-রশিদ মণ্ডল বলেন, আগের সময়ই ভালো ছিল। সবারই তো পরিবার-পরিজন আছে। সকাল ৮টায় নাস্তা করে রেডি হয়ে আসতে সমস্যা হয়ে যায়।

কুষ্টিয়া :ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৯টা। কুষ্টিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে অসুস্থ একটি বাছুর নিয়ে চিকিৎসকের অপেক্ষায় বজলুর রহমান। তিনি সদর উপজেলার আইলচারা গ্রাম থেকে এসেছেন। আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো পশু চিকিৎসকের দেখা পাননি। সাড়ে ৯টার পরে সেখানে আসেন উপসহকারী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, চিকিৎসক ছুটিতে, আরেকজন ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন। উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান আসেননি সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জহুরা খানমও আসেন দেরিতে। তবে সকাল ৮টার মধ্যে অফিসে আসেন উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকতা, মৎস্য কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা।

রাজবাড়ী :সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এলজিইডি অফিস কর্তাদের কারও দেখা মেলেনি। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে রাজবাড়ী সমাজসেবা অধিদপ্তর কার্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায়নি উপপরিচালক (ডিডি) রুবায়েত ফেরদৌসকে। জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, উপপরিচালক লাঞ্চের জন্য বাসায় গেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসার কথা। দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে জেলা শিক্ষা অফিসে হিসাবরক্ষক কাম ক্লার্ক নেকবার আলী ছাড়া কেউ ছিলেন না। তিনি জানান, সবাই চলে গেছেন। এভাবেই চলছে সেখানে।

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) :উপজেলার প্রাণিসম্পদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয়, তথ্য ও সেবা কেন্দ্র, পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয়, হিসাব সংরক্ষণ কার্যালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কার্যালয়, নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, সমাজসেবা কার্যালয়, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও সমবায় কার্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান ও নির্বাচন কর্মকর্তা ইউসুফ উর রহমান ছাড়া কেউ উপস্থিত ছিলেন না। পরে পর্যায়ক্রমে অন্য কর্মকর্তারা অফিসে আসেন।

‘কর্মকর্তারা ইচ্ছা অনুযায়ী অফিস করেন’ : বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চেয়াম্যান সাইফুল ইসলাম খান বীরু বলেন, নতুন অফিস সময় করে সাধারণ মানুষের কোনো লাভ হয়নি। লাভ হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের। তিনি বলেন, ইউএনও ও এসিল্যান্ডদের বাধ্যতামূলক স্টেশনে থাকতে হয়। এর বাইরে উপজেলা পর্যায়ে যত অফিসার আছেন, তাঁরা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী অফিস করেন। তাঁদের স্থানীয় পর্যায়ে কোনো জবাবদিহি নেই। উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের অফিসাররা চেয়ারম্যানদের অধীন নন, ইউএনওর অধীনেও নন। তাঁরা মাঝেমধ্যে নিজেদের মতো করে অফিসে আসেন-যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জের একজন ইউএনও বলেন, অফিস সময় কমালেও ফাঁকিবাজ কর্মকর্তাদের অভ্যাস বদলায়নি। আবার অনেকে নামাজ ও দুপুরের খাবারের কথা বলে দেড়টার দিকে বের হয়ে আর আসেন না। নতুন সময়ে কার্যত কষ্ট বেড়েছে ডিসি-ইউএনওদের। আমাদের সকালে ঠিক সময়ে অফিসে ঢুকতে হয়। কিন্তু রাতের আগে কাজ শেষ হয় না। অন্যদিকে আরাম হয়েছে ফাঁকিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

সিলেট বিভাগের একজন ডিসি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, এসিল্যান্ড ছাড়া অন্যান্য অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অফিসে হাজিরা নিয়ে যথেষ্ট আপত্তি আছে। এ বিষয়ে সংশ্নিষ্ট দপ্তর থেকে সঠিক নজরদারি না করলে সুফল পাওয়া কঠিন হবে। তিনি বলেন, ইউএনও ও এসিল্যান্ডদের এক দিনের জন্য স্টেশন ছাড়লেও অনুমতি নিতে হয়। অন্য কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই স্টেশনে থাকেন না।

সূত্র: সমকাল
আইএ/ ০৪ অক্টোবর ২০২২

Back to top button