ব্যবসা

এক দশকে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে আদানি গ্রুপ

নয়াদিল্লী, ৩০ সেপ্টেম্বর – আগামী এক দশকে ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করবে আদানি গ্রুপ। এ বিনিয়োগের বেশির ভাগই হবে জ্বালানি স্থানান্তর ব্যবসায়। সম্প্রতি গ্রুপটির চেয়ারম্যান গৌতম আদানি বিপুল পরিমাণ এ বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। বন্দর থেকে জ্বালানি কনগ্লোমারেট এরই মধ্যে আগ্রাসী ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করেছে।

নিক্কেই এশিয়ার খবর অনুসারে, কয়েক বছর ধরে গৌতম আদানি কয়লা থেকে বন্দর, ডাটা সেন্টার থেকে সিমেন্ট, মিডিয়া ও অ্যালুমিনিয়াম পর্যন্ত সবকিছুতে ব্যবসা বিস্তৃত করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত গ্রুপটি এখন ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি খাতের বন্দর ও বিমানবন্দর পরিচালনাকারী, গ্যাস সরবরাহকারী এবং কয়লা খনির মালিক।

১৯৮৮ সালে পণ্য লেনদেন ব্যবসা হিসেবে গ্রুপটি প্রতিষ্ঠার পর ৬০ বছর বয়সী আদানি একাধিক খাতে ব্যবসা বিস্তৃত করেছেন। তার এ অবকাঠামো ও জ্বালানি ব্যবসা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। সিঙ্গাপুরে ফোর্বস গ্লোবাল সিইও কনফারেন্সে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী আদানি বলেন, একটি গ্রুপ হিসেবে আমরা আগামী এক দশকে ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মূলধন বিনিয়োগ করব। এ বিনিয়োগের ৭০ শতাংশ জ্বালানি স্থানান্তরের জন্য নির্ধারণ করেছি। আমরা এরই মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম সৌরশক্তি উৎপাদনকারী। আমরা আরো অনেক কিছু করতে চাই। যদিও তিনি এ বিনিয়োগ অর্থায়নের উৎস নিয়ে কোনো তথ্য জানাননি।

সম্পদে উল্লম্ফনের কারণে গ্রুপটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কনগ্লোমারেটে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগও বাড়িয়েছে। অতিরিক্ত ঋণনির্ভর হওয়ায় আদানির এ সাম্রাজ্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে ঋণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রেডিটসাইটস। যদিও আদানি গ্রুপ জানিয়েছে, ঋণের অনুপাত স্বাস্থ্যকর এবং শিল্পের বেঞ্চমার্কের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

ফোর্বস অনুসারে, গৌতম আদানির ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ১৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। সম্পদের দিক থেকে তিনি কেবল টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলোন মাস্কের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। গ্রুপটির তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বাজার মূলধন ২৬ হাজার কোটি ডলার। কয়েক বছর ধরে এ সম্পদের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

চলতি বছরেই আদানি গ্রুপ কয়েকশ কোটি ডলারের অধিগ্রহণ চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চুক্তি হলো ১ হাজার ৫০ কোটি ডলারে হোলসিম এজির ভারতীয় সিমেন্ট ব্যবসা অধিগ্রহণ।

এর আগে গৌতম আদানি জানিয়েছিলেন, গ্রুপটি সবুজ হাইড্রোজেনের সস্তা উৎপাদক হতে চায়। নবায়নযোগ্য জ্বালানিচালিত একটি প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রোলাইসিস ব্যবহার করে পানি থেকে এ জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। গ্রুপটি একটি ১০ গিগাওয়াট সিলিকনভিত্তিক ফটো-ভোল্টাইক চেইন, একটি ১০ গিগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং একটি ৫ গিগাওয়াট হাইড্রোজেন ইলেকট্রোলাইজার কারখানা নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন ছিল। তিনি বলেন, এ পদক্ষেপ ভারতের জন্য একটি নিখুঁত গেমচেঞ্জার এবং এটি অভূতপূর্ব সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে। এর মাধ্যমে ভারত একদিন জ্বালানি রফতানিকারক হতে পারে।

ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা। আদানির মতে, তার গ্রুপটি ভারতের বৃহত্তম বিমানবন্দর পরিচালনাকারী। দেশের মোট ২৫ শতাংশ যাত্রী ট্রাফিক এবং ৪০ শতাংশ এয়ার কার্গো পরিচালনা করে গ্রুপটি। পাশাপাশি ৩০ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব নিয়ে ভারতের বৃহত্তম বন্দর পরিচালনাকারী ও লজিস্টিকস কোম্পানিও আদানি গ্রুপ।

সূত্র: বণিক বার্তা
আইএ/ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button