জাতীয়

৪ কঠিন শর্তে সিটিসহ ৬ ব্যাংককে রেহাই দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

গোলাম মওলা

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর – ডলার নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগে ছয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে শোকজ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরমধ্যে অন্যতম ছিল বেসরকারি সিটি ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই নির্দেশ শিথিল করে চারটি শর্ত পরিপালনের মধ্য দিয়ে ব্যাংকটির ওপর উত্থাপিত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সিটি ব্যাংককে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রথম শর্তে বলা হয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্য লেনদেনের (ট্রেজারি ফাংশন) মাধ্যমে গত মে ও জুন মাসে যে পরিমাণ মুনাফা অর্জিত হয়েছে তার অর্ধেক পরিমাণ সিএসআর ফান্ডে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। উক্ত অর্থ সংরক্ষণের পর অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকের আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে।

দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, সিএসআর ফান্ডের অর্থ (গত মে ও জুন মাসের মুনাফার অর্ধেক) ব্যবহারের বিষয় পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে।

তৃতীয় শর্তে বলা হয়, ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসহ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং সংক্রান্ত সব নিয়ম-নীতি অনুসরণসহ রাষ্ট্রের স্বার্থে নৈতিকতার বিষয়টি অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থ শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারসহ সার্বিক মুদ্রা বাজারকে অস্থিতিশীল করতে পারে, এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৩১ ধারার আওতায় স্থাপিত যেকোনও ব্যাংক কোম্পানির সংশ্লিষ্ট আইন ও বিদ্যমান ব্যাংকিং নীতিমালা, নৈতিকতা এবং সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রদত্ত নির্দেশনা পরিপালন করে ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করতে পারে। তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নেতিবাচক ব্যাংকিং কার্যকলাপের মাধ্যমে অনৈতিকভাবে অতি মুনাফা অর্জন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগের পরিদর্শনে যে অভিযোগ পরিলক্ষিত হয়েছে, ব্যাংকের পক্ষ থেকে পাঠানো জবাব বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, যেহেতু প্রথমবারের মতো এ জাতীয় অতি মুনাফা অর্জনের বিষয়টি সংঘটিত হয়েছে মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে, সেহেতু সার্বিক বিষয় বিবেচনায় ওপরে উল্লেখিত এই চারটি শর্ত দিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৪৬ ধারার আওতায় উত্থাপিত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। পাশাপাশি ব্যাংকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি নিষ্পত্তি বলে গণ্য করা হলো। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ সিটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেই নির্দেশনাও শিথিল করা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজ বিবেচনায় তাকে (ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে) আগের দায়িত্বে পুনর্বহাল করতে পারবে।

এর আগে গত আগস্ট মাসের শুরুর দিকে দেশের বাজারে ডলার সংকটকে পুঁজি করে কয়েকটি ব্যাংক বাড়তি মুনাফা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডলার ধরে রেখে দর বাড়ানোর প্রমাণ পাওয়ায় সিটি ব্যাংকসহ ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একই শর্ত দিয়ে বেসরকারি খাতের প্রাইম, ব্র্যাক, ডাচ–বাংলা, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে আলাদা চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ছয়টি ব্যাংককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সবগুলো ব্যাংকেই শর্ত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের মধ্যে যাদের সরানো হয়ছিল, ব্যাংক ইচ্ছা করলে তাদের সবাইকে পূর্বের দায়িত্বে পুনর্ববহাল করতে পারবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আইএ/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button