দক্ষিণ এশিয়া

পাকিস্তানে নিয়ন্ত্রণ হারাতে চলেছে পানিবাহিত রোগ

ইসলামাবাদ, ২১ সেপ্টেম্বর – পাকিস্তানের বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে দ্রুত ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ। মঙ্গলবার (২০ প্টেম্বর) এতে আরও আরও নয়জন মারা যাওয়ার খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পেলে এসব এলাকায় পানিবাহিত রোগের বিস্তার খুব শিগগির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। খবর রয়টার্সের।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অতীতের স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃষ্টিপাত হয়েছে পাকিস্তানে। এতে সৃষ্ট বন্যা ও বন্যা সম্পর্কিত অসুখ-বিসুখে দেশটিতে মারা গেছেন অন্তত ১ হাজার ৫৫৯ জন, যার মধ্যে ৫৫১টি শিশু এবং ৩১৮ জন নারীও রয়েছেন।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পানিবাহিত রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী ও জাতীয় বন্যা মোকাবিলা কেন্দ্রের প্রধান আহসান ইকবাল ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এরই মধ্যে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

পাকিস্তানে এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম সিন্ধ। সেখানকার প্রাদেশিক সরকার বলেছে, সোমবার গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, তীব্র ডায়রিয়া ও সন্দেহজনক ম্যালেরিয়ায় মারা গেছেন নয়জন। এ নিয়ে গত ১ জুলাই থেকে অসুখে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৮তে দাঁড়িয়েছে।

সিন্ধ সরকার জানিয়েছে, গত ১ জুলাই থেকে বন্যাকবলিত অঞ্চলে স্থাপিত অস্থায়ী হাসপাতালগুলোতে ২৭ লাখের বেশি মানুষকে পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শুধু সোমবারই এসব হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭২ হাজার জন।
পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশগুলো থেকেও হাজার হাজার মানুষ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা সেহওয়ান শহরের আবদুল্লাহ শাহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সের পরিচালক মঈনুদ্দিন সিদ্দিক বলেন, ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা হতভম্ব।

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানি পরিকল্পনা মন্ত্রী সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং সরকারের সঙ্গে মেডিক্যাল স্বেচ্ছাসেবকদেরও হাত মেলানোর অনুরোধ করেন।

টানা কয়েক সপ্তাহ পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ তলিয়ে থাকার পর কিছু কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি পুরোপুরি নেমে যেতে দুই থেকে ছয় মাস লেগে যেতে পারে। তবে প্রতিবেশী ভারতে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পাকিস্তানের নদীগুলো ফুলেফেঁপে উঠে আবারও বন্যা সৃষ্টি করতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে দীর্ঘদিন থেকেই অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। তার মধ্যে ভয়ংকর বন্যা আরও বড় বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। বন্যায় পাকিস্তানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ, যা গোটা অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

বন্যার কারণে এ বছর পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় অর্ধেক কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, এই সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের বিশাল অর্থনৈতিক সাহায্য দরকার।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button