জাতীয়

চবিতে পান থেকে চুন খসলেই ছাত্রলীগের অবরোধ

তৈয়ব সুমন ও বিজয়া ভট্টাচার্য্য,চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম, ২১ সেপ্টেম্বর – ছাত্রলীগের মূলনীতি হচ্ছে শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি। অথচ এর ব্যতিক্রম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি)। সবুজ ক্যাম্পাসে পান থেকে চুন খসলে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবরোধ করে। ফলস্বরূপ শিক্ষক বাস, শাটল ট্রেন, ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, ছাত্রলীগ যেখানে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে কাজ করবে তা না তারা অন্তর্দ্বন্দ্ব আর কমিটিতে তাদের স্থান পাওয়ার বিষয়ে বেশি মনোযোগী। এদিকে অবরোধ করে সেই অবরোধ আবার নিজ অনুসারী নেতার আশ্বাসে স্থগিতও করেন তারা। কিছুদিন পর আবার অবরোধ করে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের এমন কর্মকাণ্ডে প্রশাসন নীরব।

গত সোমবার ভোর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠনের ৬ উপপক্ষের নেতাকর্মীরা চবির মূল ফটকে তালা দিয়ে অবরোধ করে। ফলে ১৪টি বিভাগের ১৬টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দাবি, ছাত্রলীগের কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত, বহিষ্কৃত, বিভিন্ন মামলার আসামি ও জামায়াত-বিএনপি সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই স্থান পেয়েছে। তাদের বাদ দিয়ে নতুন করে কমিটি করতে হবে। না হলে অবরোধ চলমান থাকবে। কিন্তু তাদের এমন দৃঢ়প্রত্যয় মাত্র ৫ ঘণ্টা ব্যবধানে বদলে যায়। একই দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রলীগের নেতারা তাদের নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের আশ্বাসে চবিতে ডাকা অবরোধ স্থগিত করে।

এর আগে গত ২ আগস্ট একই দাবিতে চবির মূল ফটকে তালা দিয়ে ৩৩ ঘণ্টা অবরোধ করে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। তখন অবরোধ করে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী ছাত্রলীগ। কার্যত অচল হয়ে পড়ে চবি। বিষয়টি তখন উপমন্ত্রী নওফেল সামাল দেন। নওফেল চবির কমিটি নিয়ে ফেসবুকে লিখলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার আশ্বাসে অবরোধ সাময়িক স্থগিত করে।

চবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি রকিবুল হাসান দিনার বলেন, আমাদের নেতাদের (আ জ ম নাছির উদ্দীন) নির্দেশে চলমান অবরোধ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। বিজয় গ্রুপের নেতা ও চবি ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক নয়ন চন্দ্র মোদক বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ও প্রক্টরিয়াল বডির প্রতি সম্মান রেখে আন্দোলন থেকে সরে এসেছি।

ছাত্রলীগের নেতাদের এমন বক্তব্যকে হাস্যকর বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে অবরোধ করে আমাদের জীবন বিষিয়ে তুলছে। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো লাভ হচ্ছে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রলীগ কী করছে? উল্টো যৌক্তিক আন্দোলনকে তারা বিতর্কিত করেছে।

চবি শাখার সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক ঋজু লক্ষ্মী বলেন, দাবি আদায়ের জন্য প্রতিবাদ হতে পারে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কষ্টে রেখে প্রতিবাদ হতে পারে না। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এমন ঘটনা ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর হওয়া উচিত। কিন্তু তারা তা করে না। ফলে বার বার প্রধান ফটক তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন বিষিয়ে তুলছে ছাত্রলীগ।

চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, তুচ্ছ কারণেও দুই দিন পর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক তালা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগের রাজনীতি এমন ছিল না। তিনি বলেন, এসব ঘটনা থেকে উত্তোরণের জন্য প্রশাসনের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা বারবার সমঝোতার কথা শুনে থাকি। কিন্তু বন্ধ তো হচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া বলেন, চবির প্রধান ফটকে তালা লাগানোর ঘটনা ঘটলে কঠিন ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখতে যা প্রয়োজন তাই করা হবে। কিন্তু প্রশাসনের এমন বক্তব্য আগে এসেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

সূত্র: আমাদের সময়
আইএ/ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button