জাতীয়

নারী-শিশু ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূলে সরকার কঠোর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর- নারী ও শিশুর প্রতি যে কোন ধরণের সহিংসতা প্রতিরোধে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন সংসদ নেতা -। তিনি বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রচলিত সকল আইনের আওতায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধ প্রতিরোধ করে এ ধরণের অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ নভেম্বর) রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম মনিরা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

নারী ও শিশু নির্যাতনের শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০২০ সংশোধন করে ধর্ষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা হিসেবে জাতীয় জরুরি সেনা ৯৯৯-এ যে কোন অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায়।

সংসদ নেতা জানান, যে কোন ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমাজ থেকে নির্মূল করার লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গী ও সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধ ও জড়িতদের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে জনসাধারণ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, যাতে সহজে আইন সহায়তা পেতে পারে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে বন্ধপরিকর। দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানসহ জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্টভূক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং জনগণের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিবা ও রাত্রীকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে। কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল যাতে গুজব, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে না পারে সে লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সমূহ নিবিড়ভাবে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সব ধরণের নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ পারস্পরিক সমন্নয়নের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

সূত্রঃ বার্তা ২৪
আডি/ ১৯ নভেম্বর

Back to top button