ইউরোপ

নতুন নতুন এলাকা পুনরুদ্ধার করছে ইউক্রেন

কিয়েভ, ১৫ সেপ্টেম্বর – একের পর এক এলাকা হাতছাড়া হওয়ায় ইউক্রেনে হামলা নতুন করে জোরদার করেছে রাশিয়া। কিন্তু তাতেও থেমে নেই ইউক্রেনের জয়রথ। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা তারা পুনরুদ্ধার করছে। বুধবার পর্যন্ত আট হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা হাতছাড়া হয়েছে রাশিয়ার। পুনরুদ্ধার হওয়া পূর্বাঞ্চলীয় আইজিউম শহর পরিদর্শন করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ সময় তিনি শহরটিতে থাকা সেনাদের ‘নায়ক’ বলে অভিহিত করেন।

আইজিউম হাতছাড়া হওয়ার ঘটনাকে রাশিয়ার ওপর বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। খারকিভ থেকে আলজাজিরার এক সাংবাদিক বলেন, আইজিউম ইউক্রেনের যোগাযোগ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ শহরের মধ্য দিয়ে দোনবাসের দূরবর্তী পূর্বাঞ্চলে সেনা পাঠাত রাশিয়া। তিনি বলেন, শহরটি হাতছাড়া হওয়ায় রাশিয়ার বড় ক্ষতি হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওলেকসি রেজনিকোভ ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মন্ডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আসা অস্ত্রশস্ত্রের কারণে যুদ্ধ নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার ইউক্রেনে হামলা জোরদারের কথা জানিয়েছে রাশিয়া। তাদের দাবি, কিয়েভের সেনারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর বিমান, রকেট ও ভারী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে।

তবে এতে ইউক্রেনের জয়রথ থামছে না। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আইজিউম, কুপিয়ানস্ক ও বালাকলিয়া শহর পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনীয় বাহিনী ৩০০-এর বেশি বসতি পুনরুদ্ধার করেছে। এসব এলাকায় দেড় লাখের বেশি মানুষের বাস। মঙ্গলবার রাতের ভাষণে জেলেনস্কি জানান, চলতি মাসে এ পর্যন্ত আট হাজার বর্গকিলোমিটার পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার পর্যন্ত ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার পুনরুদ্ধার করা হয়।

অর্থাৎ এক দিনে আরও দুই হাজার বর্গকিলোমিটার উদ্ধার করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ ‘বিজয়’ লাভ করেছে। তবে লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথাও বলেন তিনি। কারণ, রাশিয়া এখনও ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা নিজেদের দখলে রেখেছে।

এরই মধ্যে কাজাখস্তানে রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে পোপ ফ্রান্সিস ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘বিবেচনাহীন’ ও ‘বিয়োগান্তক’ বলে বর্ণনা করেছেন। এ পরিস্থিতিতে উজবেকিস্তানের সমরখন্দে আজ থেকে শুরু হচ্ছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলন। ওই সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইউক্রেন ও তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বেইজিংকে পুতিনের বেশি প্রয়োজন। তিনি ইউক্রেন ইস্যুতে চীনের সহযোগিতা চাইতে পারেন।

এ প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের অবসানে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে ভারত ও ফ্রান্স। নয়াদিল্লিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথেরিন কলোনার সঙ্গে বৈঠক থেকে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরতে হবে। ইউক্রেনে আগ্রাসন নিয়ে এ পর্যন্ত রাশিয়ার সমালোচনা করেনি ভারত।

এরই মধ্যে ইরানে নির্মিত ড্রোন ভূপাতিত করার যে দাবি ইউক্রেন করেছে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। গতকাল যুক্তরাজ্যের সামরিক গোয়েন্দা আপডেটে বলা হয়, এটা ‘খুবই সম্ভব’ যে, রাশিয়া ইরানের ইউএভি ড্রোন দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।

এতে বলা হয়, রাশিয়া উত্তর কোরিয়া ও ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র সহযোগিতা নিচ্ছে। এদিকে ন্যাটোতে যোগ দিতে ইউক্রেনের ইচ্ছাকে এখনও হুমকি বলে মনে করে রাশিয়া। এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটে ইউক্রেনের যোগ দেওয়ার ইচ্ছাই রাশিয়ার জন্য ‘আসল হুমকি’।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button