জাতীয়

জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাবে ভারত

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর – আগামী ডিসেম্বরে বিশ্বের শিল্পোন্নত ২০ দেশের জোট ‘জি-২০’ এর সভাপতির দায়িত্ব পাচ্ছে ভারত। আর আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠেয় এই জোটের সম্মেলনে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

হাইকমিশনার বলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জি-২০ সম্মেলন হতে যাচ্ছে ভারতে। তার আগে জোটের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাচ্ছে ভারত। চেয়ারম্যান হিসেবে ভারত তার বন্ধু ও প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে অতিথি হিসেবে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের কিছু অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি। কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি, ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) করতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, বাণিজ্য ও যোগাযোগ সংক্রান্ত বেশকিছু সমঝোতা স্মারকের কথা তুলে ধরে হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেন।

দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সব বিষয় সমাধানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে।

দীর্ঘ ১২ বছর পর যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক হওয়ার কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক, সড়ক ও রেলের যোগাযোগের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের হাইকমিশনার জানান, রোহিঙ্গাদের দ্রুত তাদের স্বদেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে ঢাকার পাশাপাশি নেপিদো কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও ভারত কাজ করছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লোকদের স্বদেশে দ্রুত প্রত্যাবাসন করতে হবে, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থন আছে। তবে প্রত্যাবাসন হতে হবে স্থায়ী ও নিরাপদ পরিবেশে। আমরা এজন্য ওই পাশেও (মিয়ানমার) কাজ করছি, যেন এই লোকেরা (রোহিঙ্গা) সেখানে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ পান। আমরা মনে করি, যেকোনো সংকটে কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এজন্যই আমরা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এবং আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করছি, যেন কার্যকরভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিকালে সবকিছুই স্থবির ছিল। তারপরও মহামারি কাটিয়ে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যকরী ভূমিকা প্রশংসনীয়।

২০২০ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে ঢাকায় আসেন হাইকমিশনার দোরাইস্বামী। প্রায় দুই বছর ঢাকায় দায়িত্ব পালন শেষে নয়াদিল্লি ফিরে যাচ্ছেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, ঢাকায় দায়িত্ব পালন শেষে বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী যুক্তরাজ্যে ভারতের রাষ্ট্রদূত হতে যাচ্ছেন।

আর তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে আসছেন প্রণয় কুমার ভার্মা। তিনি এর আগে ভিয়েতনামে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button