জাতীয়

আজ জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর – দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বুধবার এ রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। এ রোডম্যাপের আলোকেই আগামী জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজের ছক সাজিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থা (ইসি)। যেখানে সেপ্টেম্বর থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কোন্ মাসে কী কাজ করা হবে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ইসির যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান এ তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে সকাল ১১টায় রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। ইসি সূত্র জানায়, রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০২৩ সালের ডিসেম্বর কিংবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। গত সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। ইসির পরিকল্পনার মধ্যে যে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তা হলো ভোটার সংখ্যা, জনশুমারি ও ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে জিআইএস পদ্ধতিতে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত ডাটাবেজ ও অ্যাপ্লিকেশন প্রণয়ন।

ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী, এবার নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এজন্য আগের নীতিমালা পর্যালোচনা করে আগামী বছরের জানুয়ারিতে নতুন নীতিমালা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি আগামী বছরের মার্চে নীতিমালার আলোকে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ৩০০ আসনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে তার খসড়া প্রকাশ করবে ইসি। এ জন্য জনসংখ্যার প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। ঢাকার জনসংখ্যা বাড়লে জাতীয় সংসদে এ জেলার আসন সংখ্যা বাড়তে পারে, আবার জনসংখ্যা কমলে আসন সংখ্যাও কমতে পারে।

ইসির কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা, বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার, সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ, নির্বাচন প্রক্রিয়া সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ নেওয়া, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ।

এছাড়া বিধিবিধান অনুসরণ করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালু, অধিকতর প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ নির্বাচনী কর্মকর্তার প্যানেল তৈরি ও প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষণ সংস্থা নিবন্ধন ও নবায়ন কার্যক্রম, নির্বাচনী কার্যক্রমে গণমাধ্যমকে আইনি কাঠামোর আওতায় সম্পৃক্তকরণ ও ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম।

কর্মপরিকল্পনায় আরও রয়েছে আগামী মাসে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সংলাপ। একই মাসে নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপ, আগামী নভেম্বরে নারী নেত্রীদের সঙ্গে সংলাপ। একই মাসে সুপারিশমালার খসড়া চূড়ান্তকরণ ও ডিসেম্বরে সুপারিশমালা চূড়ান্ত করা।

নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা একক নয়। বলা হয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সমর্থক, ভোটার, মিডিয়া, নাগরিক সমাজ ও পর্যবেক্ষকদেরও ভূমিকা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে রোডম্যাপে।

এই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা সৃষ্টি, প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন, অর্থ ও পেশিশক্তির নিয়ন্ত্রণ, সব দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি অনুসরণ, নিয়মতান্ত্রিক প্রচারে প্রার্থীদের বাধার সম্মুখীন না হওয়া এবং ভোটকেন্দ্রে প্রার্থী, এজেন্ট ও ভোটারদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার দাবি করেন যে, ‘যেখানে রাজনীতির পরিবেশ নেই, বিরোধী দলের মতকে উপেক্ষা করে ইভিএম কেনা হচ্ছে। সেখানে নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ করা মানে হচ্ছে জনগণের সঙ্গে তামাশা করা। রাজনৈতিক দলগুলোর যে বেসিক দাবি-দাওয়া ছিল, ইসি সেসব বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। দলীয় সরকারের অধীনে গত দুটি ব্যর্থ নির্বাচন হয়েছে। এবারও নির্বাচন কমিশন একটি ব্যর্থ নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে।’

সূত্র: দেশ রূপান্তর
আইএ/ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button