পশ্চিমবঙ্গ

বিজেপি ক্ষমতায় এলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশকর্মীদের ডিএ পাইয়ে দেব: শুভেন্দু

কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর – বিজেপি নেতা বলেন, ‘বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ২৪ ঘণ্টায় আরটিজিএস করে ডিএ দিয়ে দেবো।’
আবারও রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। একাধিক ইস্যুতে খোঁচা মারতে দেখা গেল তাঁকে। হুগলির পাণ্ডুয়ার একটি দলীয় সভা থেকে রাজ্য সরকারকে আক্রমণের পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দেন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে পুলিশ কর্মীদের ডিএ পাইয়ে দেওয়ার। রবিবার বিজেপি নেতা বলেন, ‘বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ২৪ ঘণ্টায় আরটিজিএস করে ডিএ দিয়ে দেবো।’

কী বললেন বিরোধী দলনেতা?

‘পুলিশ কর্মীদের বলব আপনারা ডিএ পাচ্ছেন না। একজন কনস্টেবল দশ হাজার টাকা কম পাচ্ছে। একজন এসআই কুড়ি হাজার। আমাদের সরকার এলে আরটিজিএস করে এনইএফটি করে ২৪ ঘণ্টায় ডিএ অ্যাকাউন্টে দিয়ে দেব। আর পুলিশকে বলব নবান্নে আমাদের আটকাবেন না। নবান্নের তিনটে দিক থেকে মিছিল যাবে। আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু থকবে সাঁতরাগাছিতে। দেখা হবে।’

প্রসঙ্গ কয়লা ও গরুপাচার

এরপর কয়লাপাচার প্রসঙ্গে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর শ্যালিকা মেনকা গম্ভীরের সিবিআই তলব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাইপো বলেছিলেন পাঁচ পয়সাও খান না। আসলে আপনার বৌ আর শ্যালিকা খায়।আপনি কয়লা, গরু পাচারের টাকা খান। সবেতো ভোর ছ’টা এখনও দুপুর হয়নি। আমরা সন্ধে হতে দেব না। দেখুন না ডিসেম্বরে কী হয়।’ আরও বলেন, ‘ তৃণমূলের যাঁদের কাছে টাকা আছে তাঁরা লুকিয়ে রাখুন। অবশ্য লুকিয়ে রেখেও লাভ হবে না। ইডি যা জিনিস আমরা সব খুঁজে বের করব। একমাত্র গঙ্গার জলে ফেলে দিলে আপনারা বাঁচতে পারেন।’

সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বার্তা

পরে দুয়ারে সরকারের প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘দুয়ারে সরকার এখন খাটের তলায়।’পরবর্তীতে আত্ম বিশ্বাসী কণ্ঠে তাঁর বক্তব্য, ‘আমি যদি নন্দীগ্রামে যেতে পারি আপনারা পারবেন তো পঞ্চায়েতে যেতে? আমি এসে বিডিও অফিসে নমিনেশান করাব।’ এরপর সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের বলব কি পেলেন? আনিস খান? বগটুই, ইসলামপু? আজকেও একজন বীরভূমে মারা গিয়েছেন। আর ভাইপো এদিকে উত্তরবঙ্গে গিয়ে লেকচার দিচ্ছেন।’ সঙ্গে এও বলেন, ‘পাণ্ডুয়ায় ২০১৩ পর থেকে পঞ্চায়েত টাকা খাওয়া শুরু করেছে। তার আগে আমজাদ ভাই ছিলেন। এখন এরা পঞ্চায়েত দখল করে খাওয়া শুরু করেছে।’ এর পাশাপাশি শুভেন্দুর অভিযোগ, পান্ডুয়ার তৃণমূল বিধায়ককে এলাকায় দেখাই যায় না।

যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। পান্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘রত্না দে নাগ মাসের পঁচিশ দিন পান্ডুয়াতে থাকেন। শনিবারও তাঁর পাঁচটা কর্মসূচি ছিল না। আজ শুভেন্দু অধিকারী যা বলেছেন তাতে স্পস্ট রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। তাই আজ শুভেন্দু মিছিল করতে পেরেছেন। নাহলে পারতেন না বিজেপিকে মিছিল করতে দিয়েছি কোনও গণ্ডগোল চাই না বলে। আমি যদি চাইতাম একশ শতাংশ নিশ্চিত শুভেন্দু অধিকারী মিছিল করতে পারতেন না।’

সূত্র: টিভি নাইন
আইএ/ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button