কুড়িগ্রাম

বিয়ে না করেই সাড়ে ৫ বছর ধরে সন্তানের নামে ভাতা তুলছেন শিক্ষিকা

কুড়িগ্রাম, ১১ সেপ্টেম্বর – কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের আরাজী পিপুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কনা খাতুন নামে এক শিক্ষিকা ভুয়া বয়স দেখিয়ে চাকরিতে যোগদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও বিয়ে না করেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুয়া সন্তান দেখিয়ে তুলছেন শিক্ষা ভাতার টাকা। বিষয়টি ধরা পড়েছে সম্প্রতি শিক্ষকদের ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার (ইএফটি) তথ্য পূরণ করতে গিয়ে।

শিক্ষিক কনা খাতুন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চাকলি গ্রামের বখত জামান ও রেনু বেগম দম্পতির মেয়ে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কনা খাতুন ২০১০ সালে সিরাজগঞ্জের আরিয়া মহন স্কুল থেকে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৬৯ পয়েন্ট পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। এসএসসি সনদ অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ হলো ১৩ আগস্ট ১৯৯৫ সাল। কিন্তু চাকরিতে প্রবেশের সময় তিনি জন্ম সাল ব্যবহার করেছেন ১৩ আগস্ট ১৯৯০ সাল। তিনি অবিবাহিত হলেও নিজেকে বিবাহিত পরিচয় দিয়ে ২০১৭ সাল থেকে ভুয়া সন্তানের নাম দেখিয়ে ৫শ’ টাকা করে নিয়মিত শিক্ষা ভাতা উত্তোলন করছেন। চলতি বছর শিক্ষকদের ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার’র (ইএফটি) মাধ্যমে বেতন ভাতা প্রদান করার জন্য তথ্য আপলোড করতে গিয়ে প্রকাশ হয় এ ঘটনা। এনিয়ে ভুয়া জন্মসাল এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিক্ষা ভাতা গ্রহণের অভিযোগে কারণ দর্শানোর চিঠি প্রদান করেন সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার।
শিক্ষিকা কনা খাতুন ২০১০ সালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের আরাজী পিপুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তখন স্কুলটি বেসরকারি রেজিষ্টার্ডভুক্ত ছিল। তিনিসহ ৪ জন শিক্ষক ছিলেন স্কুলটিতে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সরকার সারাদেশে প্রায় ৩০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহকে জাতীয়করণ করেন। আর এই সুযোগে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকও সরকারিকরণ হন। ফলে কনা খাতুনেরও চাকুরি সরকারিকরণ হয়। জেলা শহর থেকে ব্রহ্মপূত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন আরাজী পিপুলবাড়ী চরে শ্যালো নৌকায় করে কনা খাতুন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন।

গত ৪ জুলাই সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভুয়া জন্মসাল এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিক্ষাভাতা গ্রহণের বিষয়ে কারণ দর্শানোর চিঠি প্রদান করেন তাকে। এই পত্রে পরিবারের প্ররোচনায় চাকুরিতে প্রবেশের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা “খ” ছকে লিপিবদ্ধ এবং অবিবাহিত হয়েও স্বামী-সন্তান না থেকেও ইএফটিতে সেই তথ্য গোপন করেছেন এবং শিক্ষা ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর জবাব প্রদান করতে বলা হয়।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বালা বেগম জানান, প্রায় এক যুগ ধরে এই চরের স্কুলে রুনা আপা চাকুরি করছেন। আমরা জানি তিনি বিয়ে করেননি এবং তার কোনো বাচ্চা নেই।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা রুনা খাতুন তার ভুয়া জন্মসাল এবং অবিবাহিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, বয়স সঠিক করে নিয়ে শোকজের জবাব দিয়েছি। তিনি সন্তানের নামে ৫শ টাকা হারে শিক্ষা ভাতা তুলছেন বলেও স্বীকার করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, স্কুলটি যখন বেসরকারি ছিল তখনই এক সাথে আমরা ৪ জন শিক্ষক ২০১ ০সালে ২৫ অক্টোবর এখানে নিয়োগপ্রাপ্ত হই। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে তার জন্মসাল ভুয়া ছিল তা আমরা কাগজপত্র দেখে টের পাইনি। ইএফটি পূরণ করার সময় বিষয়টি জানতে পারি।

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত শেষ হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন
আইএ/ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button