শিক্ষা

স্কুলবাস কেমন হতে হবে?

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর – ‘হাতে গোনা দু-তিনটি এলাকা ছাড়া এমন কোনও আবাসিক এলাকা কি আমরা তৈরি করতে পেরেছি যেখানে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে স্কুলবাস ধরতে পারবে শিশুরা। সরু পথ দিয়ে মূল সড়কে উঠতে হয়, তাও বাসস্ট্যান্ডের কোনও ঠিক নেই। তারপরও আমি চাই আমার সন্তান একটি সুন্দর স্কুলবাসে তার সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে যাক। তবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এর চালক ও হেলপারকে সরকারি চাকরির মতো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়োগ দিতে হবে’—বলছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর মা। তিনি পেশায় ব্যাংকার। সন্তানকে স্কুলে নামিয়ে দিতে তাকে অফিসের উল্টো পথে একঘণ্টা যেতে হয়। এই হয়রানি দূর করতে পারলে তিনি খুশি।

রাজধানীতে যানজট নিরসন ও জ্বালানি সাশ্রয়ে স্কুলবাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। স্কুলবাস চালু করতে চারটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অভিভাবকদের সঙ্গে বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) গুলশান-২ নগর ভবনে বসেন তারা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সন্তানকে স্কুলবাসে দিতে একমত হন অভিভাবকরা। কিন্তু তাদের বেশকিছু শঙ্কাও আছে। এটা শুধু শঙ্কাই নয়, তাদের প্রতিটি কথা যৌক্তিকও। রাজধানীর অন্যান্য স্কুলের অভিভাবকরাও বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তারাও স্কুলগুলোকে বাসের ব্যবস্থা করতে বলবেন।

বুধবারের আলোচনায় স্কুলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের জন্য আরামদায়ক বাস, নির্দিষ্ট স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের বাসে তোলা ও স্কুলের ফটকে নামানো, প্রশিক্ষিত চালক ও সহকারী নিয়োগ, বাসে উঠানো থেকে ও শ্রেণীকক্ষে পৌঁছানো পর্যন্ত অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার কারণ ঢাকার রাস্তার পাবলিক বাসগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা, ফিটনেস, চালক ও সহকারীর বৈশিষ্ট্য। তারা বলছেন, যদি পৃথক লেনের সুযোগ না করা হয় তাহলে সঠিক সময়ে শিক্ষার্থীরা পৌঁছাতে পারবে না। সেটা আরেকটা হয়রানিমূলক পরিস্থিতির জন্ম দেবে।

রাজধানীর উত্তরের মেয়রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইংলিশ মিডিয়ামের এক শিক্ষার্থীর বাবা রায়হান হাসেম বলেন, এটা শুরু করা চ্যালেঞ্জ হবে। কিন্তু অসম্ভব না। আমরা যারা অভিভাবক তারা যদি মনে করি বাসে যাতায়াতের মধ্য দিয়ে সন্তানের সামাজিকীকরণ ঘটবে তাহলে নিরাপত্তার বিষয়গুলো সমাধান কঠিন হবে না। তবে কন্যাশিশুদের জন্য বাসের মধ্যে একজন দায়িত্বশীল নারী অ্যাটেনডেন্ট রাখলে আরেকটু নিশ্চিন্ত হওয়া যায়। এই কাজ কোনওভাবেই স্কুলগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

অভিভাবকদের ভয় দূর হবে কীভাবে প্রশ্নে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ভয় থাকবেই। আমার সন্তানকে আমি বাসে দিচ্ছি, ভয় থাকবে না? অভিভাবকরা নিরাপত্তার কথা বলছেন, আমি জানাতে চাই রাইড শেয়ারিংয়ের টেকনোলজিটা কাজে লাগানো হবে। আমি তাদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে যে পয়েন্টগুলো পেলাম সেগুলো সমস্যা না, এটা চ্যালেঞ্জ।

মেয়র আতিক আরও বলেন, আমি বিদেশে দেখেছি স্কুলের ১০০ গজের মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। কারণ স্কুলের সবাই যেন নিজেকে সমান স্তরের মনে করতে পারে। আমি এই চ্যালেঞ্জটা নিতে চাই। ভয় দূর করতে আমরা স্কুলে স্কুলে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলবো। ঢাকার রাস্তার যে পরিস্থিতি এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে অনেক উপকার হবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আইএ/ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

Back to top button